ভারত সকাল থেকে খাটিয়ে মেরেছে, বিকেলে যা দম ফেলতে পেরেছে ইংল্যান্ড

শেষ সেশনে পাঁচটা উইকেট এসেছে। এর মধ্যে তিনটি এসেছে ৮ বল আর ১ রানের ব্যবধানে। ধর্মশালায় সিরিজের পঞ্চম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ইংল্যান্ডের যা ‘দাপট’ অতটুকুই। দাপট হয়তো আরেকটু বাড়ত, যদি না দিনে তিনটি ক্যাচ হাতছাড়া না হতো।

এমনিতেই প্রথম দিন থেকে ভারত ছড়ি ঘুরিয়ে যাচ্ছে, আজ দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে তো রোহিত-গিলের পর সরফরাজ-পাড়িক্কালরা ব্যাটিং করলেন আর ইংল্যান্ডের ফিল্ডাররা চেয়ে চেয়ে দেখলেন। শেষ বিকেলের ওই পাঁচ উইকেট নিয়েও তাই স্বস্তি ফিরছে না ইংল্যান্ড ড্রেসিংরুমে। আজ পুরো দিন ব্যাটিং করা ভারতের সব উইকেট যে এখনো পড়েনি। হাতে এখনো ২ উইকেট, এ নিয়েই ভারতের রান হয়ে গেছে ৪৭৩। এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ২৫৫ রান বেশি করে ফেলেছে ভারত!  

গতকাল প্রথম দিনেই ইংল্যান্ডকে ২১৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ভারত জয়সোয়ালের (৫৭) উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করেছিল ১৩৫ রান নিয়ে। রোহিত শর্মা আর শুবমান গিল গতকালই ক্রিজে শেকড় গেঁড়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। আজ সকাল থেকে ইংল্যান্ডকে খাটিয়ে মেরেছেন রোহিত আর গিল।

লাঞ্চের আগে তো যেন যা ইচ্ছা তা-ই করেছেন রোহিত-গিল। এর মধ্যে শোয়েব বশিরের বলে স্লিপে রোহিতের ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ জ্যাক ক্রলি ভারতের কাজ আরেকটু এগিয়ে দিয়েছেন। রোহিতের রান তখন ছিল ৬৮। জীবন পেয়ে যা হলো, লাঞ্চের আগের ৩০ ওভারেই রোহিত-গিল ভারতের আগের দিনের রানের সঙ্গে যোগ করলেন আরও ১২৯ রান।

তার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, লাঞ্চের কিছুক্ষণ আগে একে একে দুজনের সেঞ্চুরিও হয়ে গেল। গতকালই ফিফটি পেয়ে যাওয়া রোহিত সেঞ্চুরিতে পৌঁছালেন ১৫৪ বলে, তার কিছুক্ষণ পর গিলের সেঞ্চুরি – ১৩৭ বলে। ইংল্যান্ড প্রমাদ গুনতে গুনতে লাঞ্চ সারল।

লাঞ্চের পর প্রথম উদ্‌যাপনের উপলক্ষ এল ইংল্যান্ডের, বিশেষ এক উপলক্ষই বটে। রোহিত শর্মা আউট হলেন, তার চেয়েও বেশি শিরোনামে জায়গা করে নেওয়ার মতো ব্যাপার হলো রোহিতকে আউট করা বোলারের নাম – বেন স্টোকস! সেই যে অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টে বল হাতে নিয়েছিলেন, তার ২৫১ দিন পর আজ আবার ক্রিকেট দেখল ‘অলরাউন্ডার’ স্টোকসকে। এতদিন যে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক!

আজ বল হাতে নিলেন, এবং বল হাতে নিয়েই এমন গল্প লিখলেন যে, আরেকবার মনে হলো, এমন গল্প স্টোকসের সঙ্গেই যায়! ২৫১ দিন পর প্রথম বল, সিমটা পড়ল গালি অঞ্চলের ফিল্ডারের দিকে মুখ রেখে, অফ স্টাম্প লাইনে পড়ে বলটা অল্প একটু সুইং করল, রোহিত ভেবেছিলেন স্টাম্পের দিকে আসবে, কিন্তু বল পিচে পড়ে সোজা চলে গেল। রোহিতের অফ স্টাম্পে ধাক্কা! ড্রিম ডেলিভারি যাকে বলে!  

১৬২ বলে ১০৩ রানে বিদায় রোহিতের। ভাঙল ভারতের ১৭১ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি। কিছুক্ষণ পর আবার উচ্ছ্বাস ইংল্যান্ডের। এবার গিলের বিদায়ের পালা! আবারও অফ স্টাম্প নড়ে গেল, তবে এবার জেমস অ্যান্ডারসনের বলটা পিচে পড়ল ঢুকল স্টাম্পের দিকে। অ্যান্ডারসনের ৬৯৯তম টেস্ট উইকেট হয়ে গিলের বিদায় ১১০ রানে। ৪ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ড তখন আবার ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখছে। তখনো যে ভারতের লিড মাত্র ৬১ রানের।

কিন্তু ইংল্যান্ডের ফিল্ডিং আর চতুর্থ উইকেটে ভারতের ভবিষ্যতের আশা দুই ব্যাটসম্যান সরফরাজ ও পাড়িক্কাল ইংল্যান্ডের সে আশার বেলুন চুপসে দিল। সরফরাজের রান যখন ২, নিজের বলে ফিরতি ক্যাচ হাত ফসকে যায় স্টোকসের – যদিও পরে দেখা গেল, বলটা ‘নো বল’ ছিল। সেই সরফরাজ শুরুতে দেখেশুনে খেললেও – ৩০ বলে তাঁর রান ছিল ৯ - পরে চার-ছক্কায় আগ্রাসী ইনিংসে ফিফটি করে ফেললেল ৫৫ বলে।

চতুর্থ উইকেটে অভিষিক্ত দেবদূত পাড়িক্কালের সঙ্গে সরফরাজের জুটি হলো ৯৭ রানের। পাড়িক্কাল একেবারে আগ্রাসী না থাকলেও রান যা করেছেন মূলত বাউন্ডারিতেই। ৮৩তম বলে অভিষেকে ফিফটি তুলে নিলেন বশিরকে ছক্কা মেরে।  

চা বিরতির পর সরফরাজকে বোল্ড করে সেই বশিরই দিনে তাঁর প্রথম আর ইনিংসে দ্বিতীয় উইকেট পেলেন। এরপরই যা ইংল্যান্ড কিছুটা সুখের সময় পেল এই দিনে, এই টেস্টেও। সরফরাজ আউট হওয়ার সময় ভারতের রান ছিল ৩৭৬, দলকে ৪০০ পার করিয়ে দিয়েই বশিরের বলেই আউট পাড়িক্কালও (৬৫)। এরপর ধ্রুব জুরেল, রবীন্দ্র জাদেজা আর রবিচন্দ্রন অশ্বিন যখন ফিরলেন, ভারতের রান এর মধ্যে ৪২৭ থেকে ৪২৮-এই যেতে পারল। ইংল্যান্ড তখন আজকের দিনের মধ্যেই ভারতকে অলআউট করে দেওয়ার জন্য ঝাঁপাচ্ছে।

কিন্তু কূলদীপ যাদব (২৭*) আর যশপ্রীত বুমরা (১৯*) যে এভাবে ব্যাটসম্যান হয়ে উঠবেন, তা কে জানত! নবম উইকেটে ৪৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ইংল্যান্ডকে হতাশ করেই দিন শেষ করলেন দুজন। এর মধ্যে স্টোকস স্লিপে কূলদীপের ক্যাচ ছেড়ে হতাশা আরও বাড়ালেন আর কী!