জাতীয় দলের জন্য আইপিএলকে দূরে রেখেছিলেন, সেই আইপিএলের মজাই পেয়েছে স্টার্ককে  

ক্যারিয়ারের চূড়ায় থাকার সময়টাতে আইপিএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগগুলোকে বারেবারে ফিরিয়ে দিয়েছেন। কারণ? অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের জন্য ফিট থাকতে চেয়েছেন মিচেল স্টার্ক! অস্ট্রেলিয়া এর সুফলও পেয়েছে পুরোপুরি।

তবে ৩৪ বছরে এসে স্টার্কের ভাবনার জগতে একটা বদল ঘটছে। ক্যারিয়ারের শেষবেলায় এসে এবার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের স্বাদ নিতে চান অস্ট্রেলিয়ান বাঁহাতি পেসার। গতকাল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে আইপিএল শিরোপা জেতানোর পথে ফাইনালে অসাধারণ বোলিং করেছেন স্টার্ক, ম্যাচসেরাও হয়েছেন। এরপর জানালেন, হয়তো অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটটাকে বিদায় বলে দিয়ে সামনে আরও বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটই খেলবেন!

এবার ২৫ কোটি রূপিতে কলকাতা কিনে নিয়েছিল স্টার্ককে। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে অভিষিক্ত স্টার্ক এত বছরে এ নিয়ে আইপিএল খেলেছেনই মাত্র দুবার, এর আগে খেলেছেন ২০১৪ সালে – রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে।

মাঝে ৯ বছর বিরতির পর এবার আইপিএলে যাওয়া স্টার্ককে আইপিএলের মজাই পেয়ে বসেছে যেন। গতকাল ম্যাচের পর বলেছেন, ‘গত নয় বছরে আমি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছি। চেষ্টা করেছি (জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত থাকার লক্ষ্যে) শরীরটাকে বিশ্রাম দিতে, ক্রিকেট থেকে দূরে থেকে আমার স্ত্রীর সঙ্গেও সময় কাটাতে চেয়েছি।’

তবে সামনের দিনগুলোর জন্য তাঁর পরিকল্পনা ভিন্ন বলেই এরপর জানিয়েছেন স্টার্ক, ‘সামনে তাকালে…দেখুন, এখন তো আমি নিশ্চিতভাবেই আমার ক্যারিয়ারের শেষের দিকে চলে এসেছি। (অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে) একটা ফরম্যাট হয়তো বাদ পড়বে।’

কোন ফরম্যাট? সে ইঙ্গিতও মিলল স্টার্কের কথার পরের অংশে, ‘পরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ আসতে এখনো অনেক লম্বা সময় বাকি। সেই ফরম্যাটটা আমি চালিয়ে যাব কি না…সেটা হয়তো আরও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জন্য দরজা খুলে দেবে।’

সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বলেই এবার আইপিএল নিয়ে স্টার্ক বেশি আগ্রহী ছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। কালও সেটা বলেছেন স্টার্ক। তবে এবারের আইপিএলে বেশ মজে যাওয়া স্টার্ক আগামী বছর আবার আইপিএলে ফিরতে চান, সুযোগ পেলে কলকাতার হয়েই খেলতে চান বলে জানিয়েছেন।

আইপিএলের পাশাপাশি অন্য কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টেও সামনের দিনে স্টার্ককে দেখার প্রস্তুতি নিতে পারেন। মাস দেড়-দুয়েকের খেলা, ম্যাচে চার ওভার বোলিং, এসবের বিপরীতে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা, মাঝের সময়টাতে পরিবার আর ঘোরাঘুরি… ক্যারিয়ার সায়াহ্নে এসে জাতীয় দলকে একটু একপাশে রেখে নিজের জন্য এতটুকু চাওয়াতে হয়তো স্টার্ককে কেউ দোষও দেবেন না!

তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২৯০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৬৬৮ উইকেট, দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ, একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, একবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ… অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে যে কিছু জেতার আর বাকি নেই তাঁর!