সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট থেকেই বিদায় নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজে তর্কসাপেক্ষে দেশটির ইতিহাসে অন্যতম সেরা ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের। চলতি বছরের জানুয়ারিতে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন বাঁহাতি এ ওপেনার। সে সময়ই তিনি জানান, গত বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালটাই অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে ছিল তাঁর শেষ ওয়ানডে। বাকি ছিল কেবল টি-টোয়েন্টি। সে যাত্রাও থামিয়ে দেন সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।
কিন্তু আসলেই কি ওয়ার্নারের শেষ দেখে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া? তাঁর সর্বশেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে যে ওয়ার্নার জানিয়ে দিয়েছেন, দল চাইলে আগামী বছরের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে চান তিনি।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে যে খেলতে চান, সেটা অবশ্য গত জানুয়ারিতেও বলেছিলেন ওয়ার্নার। তখনো বলেছিলেন, ওয়ানডে-টেস্টে শেষ টানলেও দল চাইলে তিনি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে প্রস্তুত। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে আবার একই কথাই বললেন আর কী! আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে পাকিস্তানে বসবে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি।
ইনস্টাগ্রামে ওয়ার্নারের পোস্টটাকে বিদায়ী বার্তাই মনে হবে, ‘অধ্যায়ের সমাপ্তি! এত দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলা অবিশ্বাস্য একটা অভিজ্ঞতা। অস্ট্রেলিয়া ছিল ‘আমার’ দল! ক্যারিয়ারের বেশিরভাগটা কেটেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলেই।’
দীর্ঘ ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অর্জনের আনন্দের কথা জানিয়ে পথচলায় সঙ্গীদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন ওয়ার্নার। পরিবারের কথা বললেন আলাদা করে। শেষে সমর্থকদের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘..আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, আমি আপনাদের বিনোদন দিতে পেরেছি। এবং ক্রিকেটকে বদলে দিয়েছি। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটকে। এ সংস্করণে বোধহয় আমরা অন্যদের চেয়ে একটু দ্রুতই রান তুলেছি। (হাসির ইমোজি)।’
এরপরই দলের প্রয়োজনে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেন ওয়ার্নার, ‘আমি আরও কিছুদিন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট চালিয়ে যাব। আমি অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য দরজা খোলা রাখছি। যদি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দলে ডাক পাই, আমি খেলব।’
পোস্টের শেষ অংশে সতীর্থ ও কোচিং স্টাফের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাঁহাতি এ ওপেনার, ‘আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য খেলোয়াড় ও স্টাফদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। হোয়াটসঅ্যাপে আর অযথা কথাবার্তা কেউ বলবে না। তোমাদের কান আমার আওয়াজ থেকে মুক্তি পাচ্ছে। গত কয়েক বছরে এই দলটা অবিশ্বাস্য সব অর্জন করেছে। এটা যেন অব্যাহত থাকে।’