এবার আইপিএলে ১৩ বছর বৈভব সূর্যবংশীকেও ১ কোটি ১০ লাখ রুপি দিয়ে কিনেছে এক ফ্র্যাঞ্চাইজি। অথচ জাতীয় দলে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করা পৃথ্বী শকে তাঁর ভিত্তিমূল্য ৭৫ লাখ রুপিতেও কিনতে রাজি হয়নি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি।
এরপর থেকেই সংবাদ শিরোনাম হচ্ছেন পৃথ্বী। তাঁর সাবেক কোচরাও নানা পরামর্শ দিচ্ছেন ফিরে আসার জন্য। একজন সরাসরি তাঁকে ১০ কেজি ওজন কমাতে বলেছেন!
২০১৮ সালে টেস্ট অভিষেক সেঞ্চুরি। সে বছরই কোটি রুপিতে আইপিএল ডাক পেয়েছেন। ২০২২ আইপিএলে তো পৃথ্বী শর দাম ৮ কোটি রুপিও ছুঁয়েছিল। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে ততই পিছিয়ে পড়ছেন ২৫ বছর বয়সী। আইপিএলের কোনো দল তাঁকে নেয়নি। এমনকি ঘরোয়া অন্য টুর্নামেন্টগুলোতেও স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ছেন তিনি।
মাঠের বাইরের আচরণ দিয়েও সমালোচিত হচ্ছেন পৃথ্বী। সবাই তাঁকে বিনোদ কাম্বলির উদাহরণ টেনে সাবধান হতে বলছেন, কিন্তু বারবার ভুল কারণে খবর হচ্ছেন তিনি।
তবে তাঁর শৈশবের কোচ রাজু পাঠক বলেছেন, সবাই পৃথ্বীর দিকটা বুঝতে পারছে না, ‘ওদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। ওর বাবা কিছু ব্যবসা করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কোনোটাই কাজে আসেনি। ওদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বড় হওয়ার সময় অন্যের সাহায্যে টিকে থাকতে হয়েছে শ-কে। এটা সহজ না। আর ওর তো মা-ও ছিল না (অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন) যে ওকে সঠিক পথ দেখাবে, এই কাজটা শুধু মায়েদের পক্ষেই সম্ভব।’
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে কথোপকথনে পাঠক বলেছেন, পৃথ্বী হঠাৎ পাওয়া খ্যাতি সামলাতে পারেননি, ‘এত তাড়াতাড়ি সাফল্য পেয়েছে! যে ছেলে একসময় ঘরের অর্থের অভাব দেখেছে, প্রতিদিন কষ্ট করেছে, সে হঠাৎ বেশ ভালো অঙ্কের ব্যাংক ব্যাল্যান্স পেয়েছে। আর টাকা আসা শুরু করতেই সেও সেটা উপভোগ করা শুরু করেছে। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা সব ক্রিকেটারের সঙ্গেই এমন হয়। এমন এক জীবন কাটানোর পর নিজের ইচ্ছামতো জীবন কাটাতে চায় তারা। নাম, টাকা। অতীতেও এমন পথে হেঁটেছে অনেক ক্রিকেটার। সমস্যা হলো, আমরা সবাই ২৫ বছর বয়সী শ-র কাছ থেকে ৪০ বছরের পরিপক্ব পুরুষের আচরণ আশা করছি।’
এদিকে দিল্লি ক্যাপিটালস ও মুম্বাইয়ে পৃথ্বীর কোচের ভূমিকায় থাকা প্রবীণ আমরে সাবেক শিষ্যকে সহজ পথ বাতলে দিয়েছেন, ‘সত্যি বলতে আমরা চাই, সে ১০ কেজি ওজন কমাক এবং ম্যাচ ফিট হোক। ওকে ওর ফিটনেসই আটকে দিচ্ছে। ওর ক্রিকেটীয় দক্ষতা নিয়ে কারও মনে সন্দেহ নেই। ও খোদা প্রদত্ত। কিন্তু ও নিজেই নিজের শত্রু। আমার মনে হয় না কারও পক্ষে ওকে অনুপ্রাণিত করা সম্ভব। সবাই চেষ্টা করেছে। ওর নিজেকেই নিজে অনুপ্রাণিত করতে হবে। অন্য কেউ সাহায্য করতে পারবে না। কঠিন সময়ে নেটে যাও, অনুশীলন কর। ওকে জিমে এবং নেটে- দুই জায়গাতেই যেতে হবে।’