বেতন দিতে গড়িমসিতে বিতর্কে জড়ানো রাজশাহীই এগিয়ে থাকল দৌড়ে

শেষ ভালো যার সব ভালো তার- এই প্রবাদটিকেই যেন সত্যি করার চেষ্টা করে চলেছেন দুর্বার রাজশাহীর ক্রিকেটাররা। প্লে অফের দৌড়ে এগিয়ে থাকতে হলে আজকের ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না রাজশাহীর। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না দেওয়ার কারণে বিতর্কে থাকা দলটি সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে নিজেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। 


আগের ম্যাচে বিদেশি ক্রিকেটার ছাড়া খেলতে নামা রাজশাহী আজ দুজন বিদেশি নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিল। প্রথম ইনিংসে বোলাররা রাজশাহীর ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা সহজ করে দিয়েছিল সিলেটকে ১১৭ রানে আটকে। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অনায়েসেই ১৯ বল হাতে রেখে জিতেছে দুর্বার রাজশাহী। 


এই জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করলেন তাসকিন আহমেদরা। চারে থাকা চিটাগং কিংসের পয়েন্ট ৯ ম্যাচে ১০, আর পাঁচে থাকা খুলনা টাইগার্সের ১০ ম্যাচে ৮। দুটি দলই অবশ্য রানরেটে রাজশাহীর চেয়ে এগিয়ে। ছয় নম্বরে থাকা ঢাকা ক্যাপিটালের (১০ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট) পক্ষে রাজশাহীকে পেরোনো সম্ভব নয়, তাই আপাতত খুলনা আর চিটাগংকে নিয়েই যা দুশ্চিন্তা থাকবে রাজশাহীর। 


তার আগে আজ নিজেদের কাজটা করে রাখার দৌড়ে রাজশাহী লক্ষ্যটাকেই ছোট রাখতে পেরেছে বোলারদের সৌজন্যে। তবে ১১৮ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই ইনিংস বিপর্যয়ে পড়েছিল দুর্বার রাজশাহী। মাত্র ২২ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে। ফর্মে থাকা এনামুল বিজয়-ইয়াসির রাব্বিদের প্যাভিলিয়নে ফিরে যাওয়ায় হারের শঙ্কা জেগেছিল রাজশাহীর। 


তবে পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন জিম্বাবুইয়ান অলরাউন্ডার রায়ান বার্ল ও উইকেটকিপার আকবর আলী। এই দুই ব্যাটসম্যানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সিলেটের বোলাররা আর সুবিধা করতে পারেনি। 


১৫তম ওভারে ব্যক্তিগত ৪৩ রান করে আকবর ফিরে গেলেও রাজশাহীর জয় ততক্ষণে নিশ্চিত হয়ে যায়। বার্ল-আকবরের ৬২ বলে ৭৫ রানের জুটি ভাঙার সময়ই যে রাজশাহী আর জয় থেকে মাত্র ২১ রান দূরে ছিল। আকবরের বিদায়ের পর এসএম মেহরবকে সঙ্গে নিয়ে শেষদিকে জয়ের বাকি কাজটা সারেন রায়ান বার্ল। ৩৪ বলে ৪৮ রান করে বার্ল শেষ পর্যন্ত রাজশাহীর জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন। 


এর আগে ব্যাট করতে নেমে মৃত্যুঞ্জয়-মেহরবদের বোলিং তোপে দাঁড়াতেই পারেনি সিলেট স্টাইকার্স। পয়েন্ট তালিকায় সবার তলানিতে থাকা দলটি মাত্র ১৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যায়। মাঝ ওভারে মেহরবের স্পিনে আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সিলেটের ব্যাটসম্যানরা। 


৭২ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর এক শ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে সিলেট। কিন্তু শেষ দিকে পাকিস্তানি আহসান ভাট্টির ২৫ ও সুমন খানের ২০ রানের ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১৭ রানের সংগ্রহ পায় সিলেট। রাজশাহীর হয়ে ৪টি উইকেট নেন মেহরব।