সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে জয় পেলেই নিশ্চিত হবে প্লে অফ- এমন সমীকরণ নিয়ে আজ মাঠে নেমেছিল চিটাগং কিংস। টুর্নামেন্ট থেকে ইতিমধ্যে বিদায় নেয়া সিলেট তাদের নিয়ম রক্ষার শেষ ম্যাচে নূন্যতম লড়াইটাও করতে পারেনি। ১৯৭ রানের লক্ষ্যে নেমে মাত্র এক শ রানেই গুটিয়ে গেছে আরিফুল হকের দল। ৯৬ রানের বড় জয়ে তৃতীয় দল হিসেবে প্লে অফ নিশ্চিত করেছে চিটাগং কিংস।
আজ চিটাগংয়ের ম্যাচের আগ পর্যন্তও প্লে-অফের দুটি জায়গার জন্য লড়াইয়ে ছিল তিন দল – দুর্বার রাজশাহী (১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট) ও খুলনা টাইগার্সের (১১ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট) কার্যত ছিল চিটাগংয়ের হারের প্রার্থনায়। কিন্তু চিটাগং জিতে এখন প্লে-অফে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল, বাকি একটি জায়গার জন্য লড়াইটা থাকল রাজশাহী আর খুলনার মধ্যে। রানরেটে এগিয়ে থাকা খুলনা গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জিতলে তারাই যাবে প্লে-অফে।
বিপিএলের প্লে অফের দৌড় থেকে বিদায় নেয়া সিলেট ১৯৭ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই ছিল ছন্দহীন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বিপিএলে অভিষিক্ত জাওয়াদ আবরার মাত্র ২ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন শরীফুল ইসলামের বলে।
এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে জাকির হাসান ও রনি তালুকদার দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু পাওয়ার প্লে-র শেষদিকে শরীফুল ও খালেদ আহমেদের গতির কাছে পরাস্ত হন জাকির-রনি দুজনই। পঞ্চম ওভারের শেষ বলের পর ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বল – ভিন্ন দুই ওভার মিলিয়ে টানা দুই বলে দুই উইকেট। চোখের পলকে ৩৮ রানে ১ উইকেট থেকে ৩৮/৩ হয়ে যায় সিলেট।
পাওয়ার প্লে-তে ৩ উইকেটে ৩৯ রান তোলা সিলেট সেখানেই ম্যাচ থেকে এক প্রকার ছিটকেই যায়। মাঝ ওভারে চিটাগং কিংসের বোলারদের সামলাতে ব্যর্থ হয় পয়েন্ট তালিকার তলানির দলটি।
দলীয় পঞ্চাশ রান পার করার আগেই আরও এক উইকেট হারায় সিলেট। ৭ বলে ৩ রান করে স্পিনার রাহাতুল ফেরদৌসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অ্যারন জোন্স।
এরপর পঞ্চম উইকেট জুটিতে নাহিদুল ইসলাম (১৪ রান) ও জাকের আলী অনিক (১৭ রান) কিছুটা লড়াই করলেও সেটা বেশিক্ষণ টেনে নিতে পারেননি। আসা-যাওয়ার মিছিলে ৭৫ রানে ৪ উইকেট থেকে মাত্র ৯ রান যোগ করতেই আরও ৩ উইকেট হারিয়ে সিলেটের স্কোরবোর্ড ১৩তম ওভারে দাঁড়ায় ৮৪/৭।
এক পর্যায়ে সিলেট ১০০ রানও করতে পারবে কি না, এ নিয়ে সংশয় ছিল। অধিনায়ক আরিফুলের ১১ রানের ইনিংসে সে সংশয় অন্তত দূর হয়েছে। ২৮ বল বাকি থাকতে ঠিক ১০০ রানে গুটিয়ে যায় সিলেট স্ট্রাইকার্স। চিটাগং কিংসের হয়ে ৪টি করে উইকেট নেন শরীফুল ইসলাম ও খালেদ আহমেদ।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার খাজা নাফির ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় চিটাগং কিংস। তিন ওভারে ১৭ রানে দুই উইকেট হারালেও এই পাকিস্তানি ওপেনারের ব্যাটে পাওয়ার প্লে-তেই ৫৬ রান তোলে চিটাগং।
তৃতীয় উইকেটে নাফি অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে ৪৯ বলে ৯৬ রানের জুটি গড়ে চিটাগংকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। ১১তম ওভারে ৩০ বলে ৫২ রান করে নাফি ফিরে গেলেও শেষ দিকে মিঠুনের ৩৮ বলে ৫২ রান ও শামিম পাটোয়ারীর ২৩ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও ইনিংসে দুই শ-র কাছাকাছি যায় চিটাগং।