বিতর্ক যেন এবারের বিপিএলের পিছু ছাড়ছে না। পারিশ্রমিক ইস্যু গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনায় রেখেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি এ টুর্নামেন্টকে। এর মধ্যেই নতুন করে অভিযোগ উঠছে ফিক্সিং নিয়ে। সন্দেহজনক পারফরম্যান্সের অভিযোগ উঠছে একাধিক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে। কয়েকটি ম্যাচ নিয়ে রয়েছে বিস্তর সমালোচনা। অভিযোগ ওঠার পর নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগ এরই মধ্যে সম্ভাব্য ফিক্সিং নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। সন্দেহজনক তালিকায় নাম থাকায় এনামুল হক বিজয় দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন।
এ তদন্ত চলমান অবস্থাতেই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের শেষ দিনের খেলায় আজ প্রশ্নবিদ্ধ ম্যাচ দেখা গেছে! ঢাকা ক্যাপিটালস ও খুলনা টাইগার্সের মধ্যকার এ ম্যাচে ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে খুলনা টাইগার্স। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের ৩৭ বলে ১ চার ও ৭ ছক্কায় ৫৭ রানের ঝড়ের পরও নির্ধারিত ২০ ওভারে ১২৩ রানের সংগ্রহ পায় ঢাকা। রান তাড়ায় নেমে অধিনায়ক মিরাজের ৫৫ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৭৪ রানে ভর কররে ইনিংসের ১৯ বল হাতে রেখে জয়ের দেখা পায় খুলনা টাইগার্স।
আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া ঢাকা ক্যাপিটালসের এ ম্যাচটি শুধু নিয়ম রক্ষার হলেও খুলনা টাইগার্সের জন্য ছিল বাঁচা-মরার। এ ম্যাচে হারলেই বাদ পড়ত খুলনা। তবে একপেশে ম্যাচে ঢাকাকে হারিয়ে খুলনাকে প্লে-অফের টিকিট এনে দিয়েছেন মিরাজ-হাসান মাহমুদরা। আজকের জয়ে ১২ ম্যাচে ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থান নিশ্চিত করেছে খুলনা। সমান ম্যাচে রাজশাহীর পয়েন্ট সমান ১২ হলেও রানরেটে পিছিয়ে থেকে বাদ পড়েছেন তাসকিন-এনামুল হক বিজয়রা।
তা সমীকরণ মিলিয়ে খুলনা যেখানে প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করল, সেখানে ‘প্রশ্নবিদ্ধ ম্যাচের’ প্রসঙ্গটা আসছে কেন? সেটা আসছে মূলত ঢাকার ‘সন্দেহজনক’ আচরণে!
আগে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারে নাসুম আহমেদকে ৩ ছক্কা মেরে ঢাকাকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন দলটির ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। হাসান মাহমুদ পরের ওভারে এসে মেডেন নেন। তৃতীয় ওভারে মিরাজকে একটি চার ও ছক্কা মারার পর ওভারের চতুর্থ বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন লিটন দাস (১০ বলে ১০ রান)।
সঙ্গী হারালেও অপরপ্রান্তে তামিম ঝড় চলতেই থাকে। তাতে ৫ ওভার শেষে ঢাকার স্কোরবোর্ডে ১ উইকেটে ৫৩ রান। এর মধ্যে তামিমের একারই ৩৮ (১৪ বলে ৬ ছক্কায়)। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আউট হন হাবিবুর রহমান সোহান। ঢাকার চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে আসেন ফারমানউল্লাহ। আফগান এ অলরাউন্ডার উইকেটে এসে যেভাবে ব্যাটিং করেছেন, সেটাই মূলত সন্দেহের উগ্রেক করে। ২৩ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ‘টেস্টসুলভ ব্যাটিং’ করে আউট হয়েছেন ২০ বলে ৭ রান করে।
ভাগ্যিস তামিম ৫৮ রানের ইনিংস খেলেছেন। সেটার সঙ্গে শেষ দিকে সাব্বির রহমানের ২০ ও মেহেদী হাসান রানার ১৩ রানে ভর করে ঢাকা ১২০ পেরিয়ে গেছে।
ফারমানউল্লাহ ব্যাটিংয়ে পর বল হাতেও সন্দেহের উগ্রেক করেছেন। স্বল্প রানের লক্ষ্য পেয়েও ১৪ রানের মধ্যেই মোস্তাফিজের জোড়া আঘাতে নাইম শেখ ও আফিফ হোসেনকে হারিয়েছিল খুলনা। ৫ ওভার শেষেও দলটির স্কোরবোর্ডে ছিল ২ উইকেটে ৩৪ রান। খুলনা ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে এসেই বিশাল উচ্চতার এক নো বল করেন ফারমানউল্লাহ। ফ্রি-হিটে এই আফগান পেসারকে ছক্কা মারেন মিরাজ। ওই ওভারে ফারমানউল্লাহ দেন ১৯ রান।
খুলনা সেই যে গতি পেল, এরপর আর একটা বোরের জন্যও মনে হয়নি দলটি হারতে পারে। মাঝে অ্যালেক্স রস (২২) ও উইলিয়াম বোসিস্ট (১৮) উইকেট হারালেও পথ হারায়নি খুলনা। ছয়ে নেমে বিশাল এক ছক্কা মেরে খুলনার জয় নিশ্চিত করেন মোহাম্মদ নেওয়াজ। অন্য প্রান্তে অনবদ্য ব্যাটিং করা মিরাজ শেষ পর্যন্ত ৫৫ বলে ৭৪ রানের অপরাজিত ছিলেন।
ঢাকার হয়ে মাত্র ১৬ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। অন্য উইকেটটি নিয়েছেন ৪ ওভারে ২৪ রান দেওয়া রহমত আলী। আর ম্যাচে ‘সন্দেহের’ উদ্রেক করা ফারমান উল্লাহ ৪ ওভারে ৪৭ রান দিয়েও ছিলেন উইকেটশূন্য।