রাজশাহীর টিম বাসের ড্রাইভারকে টাকা না দেওয়ার খবর বিদেশি সংবাদমাধ্যমে

বিপিএলে হচ্ছেটা কী! প্রশ্ন ছাপিয়েও এ এখন এক বিস্ময় বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য। আগের বছরগুলোতেও ভালো মানের বিদেশি ক্রিকেটার নিয়মিত না আসা কিংবা উইকেট ও সম্প্রচারের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল, পাশাপাশি বেতনের ইস্যু একেবারে ছিল না এমন নয়। কিন্তু এবার বিপিএলে যেন ক্রিকেটারদের বেতন ইস্যুটি ভয়ংকর হয়ে দেখা দিয়েছে। দুর্বার রাজশাহীর ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের একের পর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবার বাংলাদেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও চলে গেছে।

গতকাল বিকেলে রাজশাহীর বিদেশি ক্রিকেটার আফতাব আলমের কিটব্যাগ আটকে রেখেছেন দলের বাস ড্রাইভার - এমন খবর চাউর হয়। পরবর্তীতে সেই বাস ড্রাইভার এক সাক্ষাৎকারে জানান, দুর্বার রাজশাহীর দলের মালিকের কাছে ৭ লাখ টাকা পাওনা তিনি।

ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই বাস ড্রাইভার আরও বলেন, ‘খুবই দুঃখের এবং লজ্জার ব্যাপার। ওরা যদি আমাদের পাওনা দিয়ে দিত, আমরাও খেলোয়াড়দের কিটব্যাগ দিয়ে দিতাম। এতদিন আমি মুখ খুলিনি, কিন্তু এখন আমি বলছি, আমাদের পাওনা মিটয়ে দিলেই আমরা চলে যাব।’

ব্রিটিশ গণমাধ্যম উইজডেন আজ বিপিএল নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘খেলোয়াড়ের কিটব্যাগ বাসে আটকানো, ফেসবুক পেজ গায়েব - বিপিএলে বিতর্ক যেন বেড়েই চলেছে’ শিরোনামে। ফিক্সিং ইস্যু, পারিশ্রমিক ও ক্রিকেটার বিমান টিকিট না দেওয়া… সব মিলিয়ে এতদিন বিপিএলে ঘটে যাওয়া বিতর্কের সর্বশেষ সংযোজন বাস ড্রাইভারের বকেয়া। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেই খবর চাউর হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য যেন কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো।  

এমনকি রাজশাহী দলের এসব বিতর্কের মাঝে তাদের ফেসবুক পেইজও গায়েব হয়ে গেছে। দুর্বার রাজশাহীর এমন সমালোচিত কাণ্ডে শেষ পর্যন্ত ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। আজ ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক শফিকুর রহমানকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। নিজের দোষ স্বীকার করে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিন ধাপে সব বকেয়া পরিশোধের অঙ্গীকার করেছেন তিনি, এমনটাও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

দুর্বার রাজশাহীর এই নাটকের সমাপ্তি আসলেই ১০ ফেব্রুয়ারি হয় কি না, তা-ই দেখার বিষয়। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, রাজশাহীর মালিক পারিশ্রমিক দিতে ব্যর্থ হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।