প্রথম কোয়ালিফায়ারে ফরচুন বরিশালের বোলারদের কাছে পাত্তা না পেলেও আজ ফাইনালে চিটাগং কিংসের টপ অর্ডার সবাইকে চমকে দিয়েছে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে মাত্র ৪ রান করা চিটাগং কিংসের ওপেনিং জুটি আজ সঠিক সময়ে এসে জ্বলে উঠেছে। পারভেজ হোসেন ইমন ও খাজা নাফির ১২১ রানের জুটিতে চিটাগং কিংস ফরচুন বরিশালের সামনে রান পাহাড় গড়েছে।
যে ইমনের বেতন আটকে রাখার পেছনে চিটাগং মালিক সামির কাদির চৌধুরী তাঁকে সন্তুষ্ট করার মতো বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, সেই ইমনের ৭৮ রান ও পাকিস্তানি নাফির ৬৬ রানের ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রানের সংগ্রহ পেয়েছে চিটাগং কিংস।
আগে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই কাইল মায়ার্সকে দেখেশুনে খেলেছেন ওপেনার খাজা নাফি। দেখেশুনে না খেলে যাবেন-ই বা কোথায়! প্রথম কোয়ালিফায়ারে কাইল মায়ার্সের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই যে বোল্ড হয়ে গিয়েছিলেন এই পাকিস্তানি। আজ অবশ্য সেই ভুল করেননি।
প্রথম দুই ওভারে পারভেজ হোসেন ইমনকে সঙ্গে নিয়ে স্কোরবোর্ডে ১২ রান তুলে খাজা নাফে সাবধানে শুরুর বার্তা দেন। তবে তৃতীয় ওভার থেকেই আরেক ওপেনার ইমন ধীরগতির ব্যাটিং থেকে বেরিয়ে আসেন। কাইল মায়ার্সের দ্বিতীয় ওভারে দুটি বাউন্ডারি মেরে ছন্দে ফেরার আভাস দেন ইমন।
পাওয়ার প্লে-র বাকি তিন ওভারে ইমন আগ্রাসী মেজাজে রানও তুলেছেন। তানভীর ইসলামের করা চতুর্থ ওভারে ১ চার ও ২ ছক্কায় ১৮ রান তুলে চিটাগং কিংসের ঝোড়ো ইনিংসের সূচনা করেন ইমন।
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে চিটাগং তোলে ৫৭ রান। মাঝ ওভারে একের পর এক বোলিং পরিবর্তন করেও উইকেটের দেখা পাচ্ছিলেন না বরিশাল অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
মোহাম্মদ নবী-রিশাদ হোসেনদের সামলে ঝোড়ো গতির ব্যাটিংয়ে ৩০ বলেই নিজের ফিফটির দেখা পেয়ে যান ইমন। ইনিংসের ১১তম ওভারে দলীয় এক শ রানও পার করে যায় চিটাগং।
ইমনের ফিফটির পর আরেক ওপেনার খাজা নাফিও ফিফটির দেখা পান। ১২তম ওভারের প্রথম বলে রিশাদ হোসেনকে ডিপ এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ৩৭ বলে নিজের ফিফটি পূরণ করেন নাফে।
১২ ওভার শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে চিটাগং ১১৫ রান স্কোরবোর্ডে তুলে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায়। উইকেট পেতে মরিয়া বরিশালকে ইনিংসের ১৩তম ওভারে এসে খানিকটা স্বস্তি দেন পেসার এবাদত হোসেন।
ফিফটি পাওয়ার পর রানের গতি বাড়াতে থাকা খাজা নাফি এবাদতের বলে মুশফিকের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ৪৪ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন নাফি, যেখানে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছয়ের মার। ওপেনিং জুটিতে ১২১ রান তুলে চিটাগং কিংসের হয়ে প্রথম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন নাফি-ইমন। এর আগে সর্বোচ্চ ১১৮ রানের রেকর্ড ছিল নাঈম ইসলাম ও ব্রেন্ডন টেইলরের।
দলীয় ১২১ রানে নাফি ফিরে গেলেও এরপর চিটাগংয়ের রানের গতি কমতে দেননি পারভেজ ইমন ও গ্রাহাম ক্লার্ক। এই দুই ব্যাটসম্যান মিলে বরিশালের বোলারদের ওপর চড়াও হন। ইনিংসের ১৬তম ওভারে দলীয় দেড় শ রান পার করে চিটাগং। তানভীর ইসলামের করা সেই ওভারে ক্লার্কের ১ ছয় ও ইমনের ২টি ছয়ের মারে আসে ২২ রান। ১৬ ওভার শেষে ১৬৩ রান করা চিটাগং দুই শ রানের বেশি করার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু শেষদিকে মোহাম্মদ আলী ও ইবাদতদের দায়িত্বশীল বোলিংয়ে ১৯৪ রানে থেমেছে চিটাগং। বরিশালের ৪ ওভারে ২১ রানে ১ উইকেট নেন মোহাম্মদ আলী। কিংসের হয়ে ৪৮ বলে সর্বোচ্চ ৭৯ রান ( ৬ চার, ৪ ছয়) করেন ইমন।