একতরফাভাবে ম্যাচ জেতার অবস্থায় থাকা বরিশাল ম্যাচের ১৮তম ওভারে খাদের কিনারায় পড়ে যায়। তবে রিশাদ হোসেনের ৬ বলে ১৮ রানের ক্যামিও ইনিংসে তামিম-মায়ার্সের ঝোড়ো ইনিংস বৃথা যায়নি। বিপিএলের ইতিহাসে ফাইনালে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করার রেকর্ড গড়েই বিপিএল শিরোপা জিতেছে বরিশাল।
এবারের বিপিএলের থিম সং 'আবার এল বিপিএল' গানটা আক্ষরিক অর্থে তামিম আর বরিশালের জন্যই সত্যি হয়ে থাকল। তামিমের হাত ধরে বরিশালেই যে আবার - টানা দ্বিতীয়বার - গেল বিপিএলের ট্রফি।
এর আগে বিপিএলে কখনো ১৭৫ রানের বেশি তাড়া করে কেউ কখনো শিরোপা জিততে পারেনি। অসাধ্য সেই কাজ সামনে থেকে নিশ্চিত করেছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এই ওপেনারের ২৯ বলে ৫৪ রান ও কাইল মায়ার্সের ২৮ বলে ৪৬ রানে জয়ের ভিত পেয়ে গিয়েছিল বরিশাল, এরপর হঠাৎ পথ হারালেও শেষদিকে রিশাদের ক্যামিওতে ৩ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেটে ১৯৫ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতেছে ফরচুন বরিশাল।
দুই শ ছোঁয়া লক্ষ্যে নেমে প্রথম ওভারেই চিটাগং কিংসের বোলারদের ওপর চড়াও হন তামিম ইকবাল। বিনুরা ফার্নান্দোর প্রথম ওভারে তিন চারে তোলেন ১৪ রান। অপর প্রান্তে থাকা আরেক ওপেনার তাওহীদ হৃদয় অধিনায়ক তামিমকে পাওয়ার প্লেতে কেবল সঙ্গ দিয়েছেন। খালেদ-শরীফুলদের একের এক বাউন্ডারি ছাড়া করে পাওয়ার প্লেতে বরিশাল দলীয় পঞ্চাশ রান পার করে। ৬ ওভার শেষে ফরচুন বরিশালের স্কোরবোর্ডে ৫৭ রান।
যার পুরো অবদানই অধিনায়ক তামিম ইকবালের বললে ভুল হবে না। ২১ বলে পাওয়ার প্লে শেষেই যে তামিমের ব্যাটে ৩৯ রান। অপর প্রান্তে থাকা হৃদয় ওয়ানডে স্টাইলে ১৫ বলে ১৪ রান করেছেন তখন পর্যন্ত।
ইনিংসের সপ্তম ওভারেই তিন বল খেলে ফিফটির দেখা পেয়ে যান। ২৪ বলে চলতি বিপিএলে নিজের দ্রুততম ফিফটির দেখাও পান তামিম।
ফিফটির দেখা পেলেও ইনিংস বেশি বড় করতে পারেননি তামিম। ইনিংসের নবম ওভারে শরীফুল ইসলামের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে ছয় মারতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দিয়ে বসেন তামিম। ফেরার আগে ৯ চার ও ১টি ছয়ে ২৯ বলে ৫৪ রান করেন বরিশালের অধিনায়ক।
দলীয় ৭৮ রানে তামিমের ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে নেমে ২ বল টিকেছেন ইংলিশ ব্যাটম্যান ডাভিড ম্যালান।
শরীফুলের গতির কাছে মাত্র ২ বলে ১ রান করে এলবিডব্লিউ হন ম্যালান। যদিও শুরুতে আম্পায়ার ম্যালানকে আউট দেননি, কিন্তু মোহাম্মদ মিঠুনের দল রিভিউ নিয়ে উইকেটের দেখা পেয়ে যায়।
একই ওভারে তামিম-ম্যালানের বিদায়ের পর ক্রিজে শুরু থেকে ধুঁকতে থাকা হৃদয়ের ওপর দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। দশম ওভারে হোসেন তালাতের ওপর চড়াও হয়ে ১৫ রান এনে হৃদয় বরিশাল ডাগআউটকে খানিক স্বস্তি দিয়েছিলেন। ততক্ষণে ১০ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৯৫ রান।
তবে ইনিংসের শুরু থেকে ওয়ানডে স্টাইলে রান করা হৃদয় ১১তম ওভারে নাঈম ইসলামের বলে সুইপ খেলতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে বসেন। ২৮ বলে ৩২ রান করা হৃদয় যাওয়ার আগে বরিশালের চিন্তাই বাড়িয়েছেন শুধু।
তবে চতুর্থ উইকেটে কাইল মায়ার্স দলের হাল ধরেন। ৫৪ বলে বরিশালের জয়ের জন্য ৯২ রানের প্রয়োজন ছিল। এমন সমীকরণে ম্যাচ যেকোনো দিকে যেতে পারত। ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার কাইল মায়ার্স এমন পরিস্থিতিতে কী করতে পারেন তা ২০২৪ বিপিএল ফাইনালেই দেখিয়েছিলেন। সেবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৩০ বলে ৪৬ রান করে বরিশালকে প্রথম শিরোপার আনন্দে ভাসিয়েছিলেন মায়ার্স।
এক বছর পর ফের মায়ার্সের ওপরই ভরসা খুঁজে নেয় বরিশাল। হোসেন তালাতের করা ১২তম ওভারে দুই ছয়ে ১৫ রান নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মায়ার্স। এরপর মুশফিকুর রহিমও ১৩তম ওভারে নাঈম ইসলামকে টানা ৩ চার মেরে ম্যাচ বরিশালকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন।
তবে টানা চতুর্থ চার মারতে গিয়ে নাঈমের স্পিনে ১৩তম ওভারেই ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মুশফিক। ৯ বলে ১৬ রান করে মুশফিক যখন ফিরে যাচ্ছিলেন তখন বরিশালের প্রয়োজন ৪৪ বলে ৬৫ রান। ক্রিজে মায়ার্সের সঙ্গে তখন জুটি বাঁধেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে চিটাগংয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হন মায়ার্স। একের পর এক বাউন্ডারিতে চিটাগংয়ের বোলারদের হতাশা বাড়িয়েছেন মায়ার্স।
১৬ ওভার শেষে বরিশালের স্কোরবোর্ডে ১৬৩ রান। ২৪ বলে তখন জয়ের জন্য ৩২ রানের প্রয়োজন ছিল।
নিশ্চিত জয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়া বরিশালে ১৮তম ওভারে শরীফুলের জোড়া আঘাতে ধাক্কা খায়। মায়ার্স (৪৬ রান) ও রিয়াদকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে শরীফুল ম্যাচের সমীকরণ নিয়ে যান ১২ বলে ২০ রানে নিয়ে।
কিন্তু শেষ দিকে বরিশালের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান রিশাদ হোসেন ৬ বলে ১৮ রানের ক্যামিও ইনিংসে ৩ বল আগে ৩ উইকেট হাতে রেখে শিরোপা নিশ্চিত করে বরিশাল।
এর আগে ইমনের ৭৮ ও নাফির ৬৬ রানের ইনিংসে ১৯৩ রানের সংগ্রহ পায় চিটাগং।