অস্ট্রেলিয়ান বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু কুনেমানের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে এই বাঁহাতি স্পিনার দুই ম্যাচেই ১৭.১৮ গড়ে নিয়েছেন ১৬ উইকেট। তাতে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে লঙ্কানরা।
সিরিজের পরই বাঁহাতি স্পিনারের বোলিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওদিকে এই বোলারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকরা। ক্রিকেটে ভারতের অনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত করছেন কেউ, যে কারণে কুনেমানকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই সমস্যা যশপ্রীত বুমরারও আছে।
বোর্ডার-গাভাস্কার সিরিজ থেকেই ভারত-অস্ট্রেলিয়া দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে। সিরিজে সদ্য অভিষিক্ত স্যাম কন্সটাসের সঙ্গে ভারতের সিনিয়র ক্রিকেটারদের অতি আগ্রাসী আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। বিশেষ করে বিরাট কোহলির অযথা তাঁকে ধাক্কা দেওয়া এবং এর পর প্রায় অনুল্লেখ্য শাস্তি পাওয়া অস্ট্রেলিয়ানদের খেপিয়ে দিয়েছিল।
বোলিং ডেলেভারির সময় ১৫ ডিগ্রির বেশি বাঁকছে কুনেমানের, এ অভিযোগ ওঠায় এখন শুদ্ধি পরীক্ষা দিতে হবে বাঁহাতি স্পিনারকে। এদিকে ডেইলি টেলিগ্রাফে ক্রিকেট লেখক বেন হর্ন আইসিসিকে ‘ভণ্ড’ বলেছেন, ‘সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক ইচ্ছাকৃতভাবে কন্সটাসকে অভিষেকে ধাক্কা দিয়েছে, কিন্তু কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। সর্বকালের অন্যতম দুর্বল এক শাস্তি পেয়েছে বিরাট কোহলি। ওদিকে সামান্য বোলিং অ্যাকশনের জন্য পাঁচ টেস্ট খেলা এক্সপিনারকে শাস্তি দিয়ে ম্যাচ অফিশিয়ালরা উদাহরণ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’
সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি ব্যাপারের মধ্যে এভাবে কেন তুলনা টানছে সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন হর্ন। আর তা হলো ভারতের ব্যাপারে আইসিসির চোখ বন্ধ করে রাখা, ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি ব্যাপার, একই আলোচনায় তাদের কোনো স্থান থাকার কথা কিন্তু এতে বহুদিন ধরে চলা একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে, এই খেলার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সবচেয়ে বড় নখদন্তহীন বাঘ… যতক্ষণ না সহজ কোনো লক্ষ্য (কুনেমান) নিজ থেকে ধরা দেয়।’
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক টিম পেইন এসইএন রেডিওর সঙ্গে কথোপকথনে বলেছেন, কুনেমানের অ্যাকশনের সঙ্গে বুমরার অ্যাকশন মিলিয়েছেন, ‘আমার ধারণা, একটু নড়ে ওঠে, যশপ্রিত বুমরার সঙ্গে খুব একটা পার্থক্য নেই। আমার ধারণা ওর খুব খারাপ লাগছে, ক্রিকেটে হাত ভেঙে বল করার অভিযোগ একবার সেটে গেলে সেটা ভালো কিছু না। আপনাকে এক প্রকার ধোঁকাবাজ বলা হচ্ছে।’