গত আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিসিবি সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফারুক আহমেদ। এরপর থেকে গত মাস ছয়েকে তাঁর অধীন বিসিবিকে সবচেয়ে বেশি মাথা ঘামাতে হয়েছে সম্ভবত সর্বশেষ বিপিএল নিয়েই। টিকিট বিক্রির পদ্ধতিতে পরিবর্তন, বিদেশি ক্রিকেটারের মান, ফিক্সিংয়ের সন্দেহ তো ছিলই, তার চেয়ে বেশি করে বিপিএল নেতিবাচক শিরোনামে এসেছে দুয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির খেলোয়াড়দের বেতনের টাকা পরিশোধে নানা টালবাহানা ও একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকের কুরূচিপূর্ণ মন্তব্যের কারণে।
বিপিএল শেষে আজ বিসিবি থেকে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় এসব নিয়ে কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। খেলার মান, ক্রিকেটারের মান, ফ্র্যাঞ্চাইজির অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তার দিকটি আগামীতে সমাধানের চেষ্টার আশার কথা জানানোর পাশাপাশি ভিডিওবার্তায় বিসিবি সভাপতি বেশ হৃষ্টচিত্তে জানিয়েছেন এবারের টিকিট বিক্রিতে সাফল্যের গল্প।
ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, এবার বিপিএলে ১২ কোটি টাকারও বেশি অঙ্কের টিকিট বিক্রি করেছে বিসিবি। অঙ্কটা এর আগের দশ আসরে বিপিএলে টিকিট বিক্রির সম্মিলিত অর্থের প্রায় কাছাকাছি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
‘পুরো বিপিএলে আমরা প্রায় ১২ কোটি ২৫ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি করেছি। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড গত ১০ আসরে যে টিকিট বিক্রি করেছে, ১৫ কোটি টাকার মতো… সেটা বিবেচনা করলে আমরা এক বছরেই সেটার কাছাকাছি চলে গিয়েছি। আমরা টিকিট স্বত্ব বিক্রি বাবদও তিন বছরের চুক্তি করেছি এক কোটি টাকা করে’ – ভিডিওবার্তায় জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।
আগস্টে ফারুক আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পর বিপিএল প্রশ্নে তাঁর কাছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর একটা বড় দাবি ছিল, বিপিএলের লভ্যাংশের ভাগ দিতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকেও। তখন ‘লাভের কথা না জানায়’ সেটার প্রতিশ্রুতি দিতে পারেননি জানিয়ে আজ ভিডিওবার্তায় বিসিবি সভাপতি বলেছেন, টিকিট বিক্রির টাকার ভাগ পাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।
টিকিট বিক্রির সাফল্যের বাইরে বিপিএলে বিতর্কের বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলেছেন ফারুক আহমেদ। বিপিএলের কাছাকাছি সময়ে বিশ্বজুড়ে আরও দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চলে – দুবাইয়ে আইএল টি-টোয়েন্টি, আর সাউথ আফ্রিকায় এসএ টি-টোয়েন্টি। এই দুই টুর্নামেন্টে অর্থের অঙ্কটা বেশি, তাই ভালো মানের বিদেশি ক্রিকেটার আর পাওয়া হয় না বিপিএলের। এবারের বিপিএলে তাই একেবারে গড়পড়তারও নিচের মানের অনেক বিদেশি ক্রিকেটার দেখা গেছে। নিজ দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও গত দু-তিন বছরে ডাক না পাওয়া ক্রিকেটারও খেলেছেন!
এ সমস্যার সমাধানের একটাই পথ – বিপিএলের সময় বদলে ফেলা। সেদিকেই হাঁটছেন বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি, ‘আগামীর বিপিএল নিয়ে এখনই কাজ শুরু করে দিয়েছি। একটা সময় বের করেছি আমরা। এখন তো সব দেশে অনেকগুলো টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হয়, ওগুলোর সঙ্গে সময়টা সাংঘর্ষিক হয়ে যায়। আমরা একটু অন্যরকম করে করতে পারি সময়, যেন একটু মানসম্পন্ন বিদেশি পাই।’
এর বাইরে বিপিএলের শুরুতে পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক টিকিট বিক্রির পদ্ধতি নিয়ে দর্শকের বিপত্তি, এরপর রাজশাহীর ফ্র্যাঞ্চাইজির দিক থেকে খেলোয়াড়দের টাকা-পয়সা নিয়ে নানা অজুহাতে দেরি করা, জাতীয় দলের খেলোয়াড় ইমনকে টাকা দিতে দেরি করার ব্যাখ্যায় চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক সামির কাদের চৌধুরীর কুরূচিপূর্ণ মন্তব্য, স্পট ফিক্সিংয়ের ঘোর সন্দেহ...এসব বিপিএলকে কলঙ্কিত করেছে। এ নিয়ে ফারুক আহমেদ বলেছেন, ‘বিপিএলে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। টিকিট যেহেতু নতুন একটা সিস্টেমে, প্রথম দিকে ঝামেলা ছিল। দুয়েকটা ফ্র্যাঞ্চাইজি টাকা দেওয়ার ব্যাপারেও একটু অসুবিধার সৃষ্টি করেছে।’
এরপর অবশ্য এবারের বিপিএলে তাঁর চোখে উন্নতির কথাগুলোই বলেছেন বিসিবি সভাপতি, ‘…তবে যদি সব মিলিয়ে দর্শক, উইকেট, টিকিট বিক্রি, দর্শকদের অংশগ্রহণ এবং আমাদের টিভি প্রোডাকশন ভালো হয়েছে।’