আশউইন হলে স্টোকসদের বেকার খাটনিটা আরও বেশি করাতেন

গতকাল রোববার ম্যনচেস্টারে দুর্দান্ত এক নাটক দেখল ভারত-ইংল্যান্ডের মধ্যকার চতুর্থ টেস্ট। টেস্টের শেষ দিনে রাভিন্দ্র জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দারের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যাটিং ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য জয়কে ড্রয়ের হতাশা বানিয়ে দিয়েছিল। 

ম্যাচের আর এক ঘণ্টা বাকি এমন অবস্থায় ইংলিশ অধিনায়ক বেন স্টোকস তাই ড্র মেনে নিয়ে ম্যাচের সমাপ্তি টানতে হাত মেলানোর প্রস্তাব দেন। ক্রিকেটের অতি আদি নিয়মে এই ভঙ্গি মানে, খেলায় আর ফল হচ্ছে না যখন, তখন চল আগে খেলা শেষ করি। এবং এসব ক্ষেত্রে হাত মিলিয়ে দুই দলের উঠে যাওয়ার দৃশ্য দেখেই অভ্যস্ত সবাই। কাল অন্য কিছু দেখা গেল। 

গতকাল ভারত অধিনায়ক শুবমান গিল যখন আউট হলেন, ২২২ রানে চতুর্থ উইকেট হারাল ভারত। সফরকারীরা তখনো ৮৩ রানে পিছিয়ে, দিনের মাত্র ২৫তম ওভারের খেলা চলছে। তাই ভারতের ইনিংস পরাজয় বা সেটা এড়ানো গেলেও অল্প লিডে অলআউট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা ভালোভাবেই ছিল।

এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে গেল দুই স্পিনিং অলরাউন্ডারের জুটি। এবং এমনই সে জুটির দাপট যে বেন স্টোকসও হাল ছেড়ে দিলেন। কিন্তু স্টোকস হাল ছেড়ে হাত বাড়ালেও সে হাত মেলাতে আগ্রহ দেখাননি দুই ভারতীয় বাঁহাতি। কারণ, দলের জন্য খেটেখুটে দুজনই তখনই এক শর কাছাকাছি। এমন সময়ই তো ব্যক্তিগত অর্জন আর স্বার্থপর চিন্তা থাকে না।        

কিন্তু স্টোকস এ সময় রীতিমতো ছেলেমানুষি করেছেন। এমনকি আম্পায়ারদের কাছে বিচার দিয়েছেন, ঝগড়া করেছেন জাদেজাদের সাথে। তারপর হ্যারি ব্রুককে দিয়ে বল করিয়েছেন যেন জাদেজারা দ্রুত সেঞ্চুরি করে উঠে যান। সেটাই হয়েছে, জাদেজা ও সুন্দার সেঞ্চুরির পর ড্রয়ের প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। তখনো দিনের আরও ১০ ওভার বাকি ছিল।

রাভিচন্দ্রন আশউইন বলছেন, তিনি ভারত অধিনায়ক হলে ভারতীয় দুই ব্যাটসম্যানকে দিনের বাকি সময়টাও ব্যাট করে আসতে বলতেন, ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ব্যাপারটা কখনো শুনেছেন? ডাবল স্ট্যান্ডার্ড কী? প্রথমে হাত মেলালে, এরপর বললে আমি হতাশ। তুমি সেঞ্চুরি পেলে না, আবার কান্নাকাটি করে পালিয়ে গেলে। আর তুমি কী বুঝাতে চাচ্ছ? হ্যারি ব্রুকের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করছে কি না? না ভাই, ও সেঞ্চুরি করতে চাচ্ছে। পারলে স্টিভ হার্মিসনকে নিয়ে আস। ফ্লিনটফকে নিয়ে আস। ও (জাদেজারা) মানা করবে না। হ্যারি ব্রুককে বল দিচ্ছ-সেটা তোমার ভুল, আমাদের না।’

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আশউইন আরও বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, আমি ভারত দলে থাকলে আমি পুরো এক ঘণ্টা খেলতাম। অধিনায়ক হিসেবে আমি বলতাম, পুরো ১৫ ওভার খেলে আস। ও কী বলেছে- হ্যারি ব্রুকের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করতে চাও? অবশ্যই চায়। এগুলো টেস্ট রান। সে রান চায় এবং এই রান ওর প্রাপ্য।’