ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএলে) সাকিব আল হাসানের দুঃসময়ের পথটা ক্রমেই লম্বা হচ্ছে। নিজের সাবেক দল গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে আজও ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। প্রথমে বল হাতে দুই ওভারে ১৬ রান দিয়ে থেকেছেন উইকেটশূন্য। পরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ বলে ৮ রান করেই স্টাম্পিং হয়েছেন।
সাকিবের আরেকটা মলিন পারফরম্যান্সের দিনে ম্যাচটা হেরেছে তাঁর দল অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনস। আগে ব্যাটিং করে শাই হোপ, শিমরন হেটমায়ার ও রোমারিও শেফার্ডের ঝড়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১১ রান তোলে গায়ানা। জবাবে ইমরান তাহিরের বোলিং তোপে ১২৮ রান তুলতেই গুটিয়ে যায় অ্যান্টিগা। এতে ৮৩ রানের বড় জয় পেয়েছে গায়ানা।
এবারের সিপিএলে সাকিব শুরু থেকেই ছন্দহীন। এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৪ ম্যাচ। তাতে ব্যাট হাতে তাঁর নামের পাশে মোটে ৩৯ রান (১১, ১৩, ৭ ও ৮)। যেন ব্যাটিংটাই ভুলে গেছেন বাংলাদেশি তারকা। শুধু যে রান কম পাচ্ছেন, এমন নয়। আজকের আগে একবারও এক শ-র বেশি স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করতে পারেননি। বল হাতেও যে খুব ভালো করছেন, এমন নয়। চার ম্যাচ শেষে নামের পাশে মোটে এক উইকেট। সাকিবের দুঃসময় যেন কাটছেই না।
আজকের ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামা গায়ানার শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ওপেনার বেন ম্যাকডেরমট যখন বিদায় নিলেন, গায়ানার স্কোরবোর্ডে তখন ৯ রান। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে দলটির রান ছিল ৩৬। সেখান থেকে ১০ ওভার শেষেও দলটির রানরেট ছিল ৬ এর সামান্য ওপরে, ১ উইকেটে ৬৩!
এর মধ্যেই সাকিব অবশ্য দুই ওভার করে ফেলেছেন। ইনিংসের অষ্টম ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে এসে ৬ রান দেন সাকিব। ১০ম ওভারে দ্বিতীয়বার বোলিংয়ে গিয়ে এক ছক্কাসহ হজম করেন ১০ রান।
ওয়ানডে গতিতে খেলা গায়ানা খোলস ছেড়ে বের হয় ইনিংসের ১২তম ওভারে। উসামা মীরের করা ওই ওভার থেকে ২ ছক্কায় ১৬ রান তোলেন হোপ-হেটমায়ার। এরপর থেকেই তাণ্ডব চালাতে থাকেন দুজন। হোপ-হেটমায়ার তৃতীয় উইকেট জুটিতে মাত্র ৪৪ বলে ১০৬ রান পায় গায়ানা।
ইনিংসের ১৮তম ওভারের শেষ বলে হোপ যখন আউট হলেন, তখন তাঁর নামের পাশে ৫৪ বলে ৬ ছক্কা ও ৫ চারে ৮২ রান। শেষ দুই ওভারে ৪১ রান নিয়েছে গায়ানা। এর মধ্যে শামার স্প্রিংগারের শেষ ওভার থেকে ২ ছক্কা ও ২ চারে ২৫ রান নেন শেফার্ড। শেষ পর্যন্ত ৮ বলে ২৫ রানেই অপরাজিত ছিলেন তিনি। অন্য প্রান্তে হেটমায়ার ২৬ চরে ৫ চার ৫ ছক্কায় ৬৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। আর গায়ানা পেয়ে গেছে দুই শ পেরোনো স্কোর।
রান তাড়ায় শুরুতে উইকেট হারালেও চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রান তুলছিল অ্যান্টিগা। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে কারিমা গোরে যখন আউট হলেন, অ্যান্টিগার স্কোরবোর্ডে ৩ উইকেটে ৬৬ রান।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটিংয়ে নামেন সাকিব। কিন্তু রানের গতিটা ধরে রাখতে পারেননি বাংলাদেশি তারকা। অবশ্য মুখোমুখি চতুর্থ বলে দারুণ এক হুকে লাইন লেগ অঞ্চল দিয়ে একটা ছক্কা মেরেছিলেন সাকিব। কিন্তু তাঁর ইনিংসটা থেমে যায় ৭ বলেই। ইমরান তাহিরের অফস্টাম্পের বাইরে ফেলা গুগলি কিছুটা এগিয়ে গিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু ব্যাটে বলে করতে পারেননি। এই সুযোগে সাকিবকে স্টাম্পিং করে ড্রেসিংরুমের পথ ধরিয়েছেন হোপ।
শুধু সাকিবের উইকেটটাই নয়, দুর্দান্ত বোলিংয়ে এ ম্যাচে মাত্র ২১ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন ইমরান তাহির। তাতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে অ্যান্টিগার ব্যাটিং লাইনআপ। আর গায়ানা পেয়ে যায় বড় জয়।