প্রাক্তন কেন ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল, বর্তমানকে দেখাচ্ছেন তিনি

নটিংহাম ফরেস্টের গ্রিক মালিক বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে আঞ্জ পস্তেকগলুকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ান এই কোচ গ্রিক বংশোদ্ভূত বলেই হয়তো বাড়তি টান অনুভব করেছেন তিনি। গত মৌসুমে টটেনহামকে ইউরোপা লিগ জেতানোও বড় একটা কারণ।

কিন্তু ১৭ বছর পর ক্লাবকে কোনো শিরোপা জেতানোর পরও এই কোচকে কেন ছাঁটাই করেছে লন্ডনের ক্লাব, সেটা টের পেতে শুরু করেছে ফরেস্ট। দায়িত্ব পেয়েছেন গত সপ্তাহে। এর মধ্যে দুই ম্যাচে দলকে মাঠে নামিয়েছেন। দুই ম্যাচেই হেরেছে ফরেস্ট।

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচই ছিল আর্সেনালের বিপক্ষে। সেটাও আবার প্রতিপক্ষের মাঠে। ফলে সে ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানের হার হয়তো ভাবায়নি নটিংহাম ফরেস্টের সমর্থকদের। তবে গতকালের হার ভাবাতে বাধ্য। গতকাল লিগ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব সোয়ানসির কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে নটিংহাম।

গত মৌসুমে লিগে সপ্তম হয়েছিল, সে সুবাদে এ মৌসুমে ইউরোপা লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছে নটিংহ্যাম। প্রথম তিন ম্যাচে একটি জয় ও একটি ড্রতে শুরুটা মন্দ হয়নি কোচ নুনো এসপিরিতোর। কিন্তু ক্লাবের মালিকদের কিপটেমি নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করায় চাকরি হারান পর্তুগিজ কোচ। আর তাঁর জায়গায় নেওয়া হয়, গত মৌসুমে টটেনহামকে লিগের ১৭তে রাখা কোচ পস্তেকগলুর।

পরাশক্তি নয়, এমন ক্লাবে পস্তেকগলুর ফিলোসফি আসলেই কতটা কাজের, এ নিয়ে প্রশ্ন বরাবরই ছিল। গতকাল আবার তীব্র হয়েছে সে আলোচনা। সোয়ানসির বিপক্ষে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া নটিংহামই শেষ পর্যন্ত ৯৭ মিনিটের গোলে হেরে বসেছে। অথচ ম্যাচের ৯৩ মিনিট পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল দলটি।

ম্যাচের ১৫ ও ৪৫ মিনিটে দুই গোল করে দলকে বেশ ভালো অবস্থান এনে দেন ইগর জেসুস। কিন্তু ওয়েলসের ক্লাব হাল ছাড়েনি। ম্যাচের এক-চতুর্থাংশ বাকি, এমন সময় প্রথম ভাগ্যকে পক্ষ পায় ২০১৩ লিগ কাপ জয়ী দলটি।

ক্যামেরন বার্জেসের হেডে ব্যবধান কমায় সোয়ানসি। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ২০১৮ মৌসুমে অবনমিত দলটিকে স্বতি এনে দেন ইয়ান ভিপোতনিক। আর সপ্তম মিনিটে পস্তেকগলুর সর্বনাশ করেন বার্জেস।

ম্যাচ শেষে পস্তেকগলু এমন হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমার ধারণা, এটা এমন এক ম্যাচ ছিল যা ওই পর্যায়ে যাওয়ার আগেই শেষ করে দেওয়া উচিত ছিল। আমার মনে হচ্ছে আমরা একটু বেশি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছি এবং ভেবেছি খুব সহজে ম্যাচ শেষ হবে। কিন্তু এটা হয় না, বিশেষ করে কাপ ফুটবলে। আমি শুধু হতাশ এটা ভেবে যে আরও নিখুঁত না হলে কী বিপদ সেটাই বুঝতে পারিনি আমরা।’