আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেপালের যাত্রা শুরু ২০১৪ সালে। সেই থেকে গতকাল শনিবারের আগ পর্যন্ত ১৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে নেপালের নামের পাশে জয় ছিল ৯৫টি। তবে এর কোনোটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে ছিল না।
গতকাল সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে নেপালের। শারজাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে ১৯ রানের জয় পেয়েছে নেপাল। এতেই দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ হয়। এই প্রথম আইসিসির পূর্ণ সদস্য কোনো দলের বিপক্ষে জিতল দলটি।
এর আগে অবশ্য ২০১৪ সালে আফগানিস্তানকে হারিয়েছিল নেপাল। কিন্তু সেসময় আফগানরা আইসিসির সহযোগী সদস্য ছিল।
ইতিহাস গড়া ম্যাচে গতকাল আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৮ রান তুলেছিল নেপাল। রান তাড়ায় উইন্ডিজ ৯ উইকেটে ১২৯ রানে আটকে গেলে ১৯ রানের জয় পায় নেপাল।
গতকাল নেপালের জয় এসেছে দলগত প্রচেষ্টায়। দলটির ছয়জন ব্যাটসম্যান কমপক্ষে একটি করে ছক্কা মেরেছেন। বল হাতে নেওয়া ছয় বোলার অন্তত একটি করে উইকেট পেয়েছেন। এছাড়া ফিল্ডিংয়েও দুর্দান্ত ছিলেন নেপালিরা।
অথচ টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নেপালির শুরুটা হয়েছিল ভয়ংকর। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ওপেনার কুশাল ভুর্তেল (৬) যখন আউট হলেন, তখন নেপালের স্কোরবোর্ডে ৮রান। সেখান থেকে আর ৪ রান যোগ হতেই বিদায় নেন আরেক ওপেনার আসিফ শেখ (৩)।
অধিনায়ক রোহিত পৌডেল ও কুশল মোল্লার দ্বিতীয় উইকেট জুটির ৫৮ রানে ঘুরে দাঁড়ায় নেপাল। কুশল মল্লা ২১ বলে ৩০ রান করেছেন। আর অধিনায়ক রোহিতের ব্যাট থেকে ৩৮ রান পেয়েছে নেপাল। এর বাইরে গুলশান ঝা ২২ ও দীপেন্দ্র সিং ১৭ রানের ইনিংস খেলেছেন।
রান তাড়ায় ২ উইকেটে ৪০ রান তোলে উইন্ডিজ। দলটির ৬ ব্যাটসম্যান দুই অঙ্ক ছুঁলেও কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। উইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ২২ রান করেছেন নাভিন। সেটাতেও ২৫ বল খেলেছেন তিনি!
ব্যাটসম্যানদের ওয়ানডে সুলভ ব্যাটিংয়ে শেষ ২ ওভারে ৩০ রান দরকার ছিল উইন্ডিজের। ১৯তম ওভারে ২ রান নেওয়ার পর ইনিংসের শেষ ওভারে উইন্ডিজ নিতে পেরেছে মোটে ৮ রান। তাতে ইতিহাসগড়া জয়ের দেখা পায় নেপাল।