গত শনিবারের আগেও নেপালের ক্রিকেট ইতিহাসে বড় একটা অপূর্ণতা ছিল। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা দলটি সে সময় পর্যন্ত ১৮০ ম্যাচ খেলে ৯৫টিতে জিতলেও এর একটি জয়ও টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে ছিল না। নেপালের ১১ বছরের আক্ষেপ পূরণ হয় গত শনিবার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে ১৯ রানে জিতে ইতিহাস লেখে নেপাল। আইসিসির পূর্ণ সদস্য কোনো দলের বিপক্ষে এটি ছিল তাদের প্রথম জয়। সেটির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রীতিমতো মহাকাব্য লিখে ফেলেছে আইসিসির সহযোগী সদস্য দলটি!
ইতিহাস গড়া জয়ের দুদিন পর গতকাল সোমবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও জয়ী দলটির নাম নেপাল। এবারের জয়টি আরও বড়। রীতিমতো উইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়েছে নেপাল। আগে ব্যাটিং করে আসিফ শেখ (৪৭ বলে ৬৮*) ও সন্দ্বীপ জোরার (৩৯ বলে ৬৩) ফিফটিতে ভর করে ৬ উইকেটে ১৭৩ রান তোলে নেপাল। জবাবে ইনিংসের ১৭ বল বাকি থাকতে ৮৩ রানেই গুটিয়ে যায় উইন্ডিজ। ৯০ রানের বিশাল জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজও নিজেদের করে নেয় দলটি।
চলতি সপ্তাহের আগে যেখানে টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে কোনো জয়-ই ছিল না নেপালের, সেখানে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জয়, এটাকে মহাকাব্য না বলে উপায় কী! আজ সে মহাকাব্যে বাড়তি রঙ যোগ করার সুযোগ পাচ্ছে নেপাল। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আজ মুখোমুখি হবে দুদল।
গতকালের ম্যাচে ফেরা যাক। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় দলটি। স্কোরবোর্ডে ১৪ রান যোগ হতে হতেই ফিরে যান ওপেনার কুশল ভুর্তেল (২) ও তিনে নামা রোহিত পৌডেল। এক প্রান্তে আসিফ শেখ হাল ধরলেও অন্য প্রান্তে যোগ্য সঙ্গী পাচ্ছিলেন না তিনি। চারে নামা কুশল মাল্লা ৯ বলে ৭ রান করে যখন আউট হলেন, তখন নেপালের স্কোরবোর্ডে ৩ উইকেটে ৪৩ রান।
সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু দলটির। আসিফ-সন্দ্বীপের চতুর্থ উইকেট জুটিতে বড় সংগ্রহের পথে এগোতে থাকে নেপাল। দুজনে মিলে ৬৬ বলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ঠিক ১০০ রান। সে পথে দুজনেই ফিফটি তুলে নিয়েছেন সমান ৩৪ বলে।
ইনিংসের ১৮তম ওভারে সন্দ্বীপ ঝা ৩৯ বলে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৩ রান করে আউট হলেও শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৬৮ রানে অপরাজিত থাকেন আসিফ। আর শেষ দিকে গুলশান জায়ের ৬ ও মোহাম্মদ আদিল আলমের ৫ বলে ১১ রানের ক্যামিওতে ১৭০ ছাড়ানো সংগ্রহ পায় দলটি।
প্রথম ১০ ওভার শেষে ৭৪ রান তোলা নেপাল সে পর্যন্ত একটি ছক্কাও মারতে পারেনি। শেষ ১০ ওভারে ৯৯ রান তোলার পথে দলটি ছক্কা মারে ৯টি!
অন্যদিকে রান তাড়ায় শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে উইন্ডিজ। নেপালের স্লোয়ার আর ইয়র্কারে দিশেহারা হয়ে ঠিকঠাক ব্যাটে বলেই করতে পারছিলেন না জুয়েল অ্যান্ড্রিউ-কাইল মেয়ার্সরা। পাওয়ার প্লে-তে দলটির রান দুই অঙ্কে যাবে কিনা, সেটা নিয়েও শঙ্কা জেগেছিল। তবে পাওয়ার প্লে-র শেষ ওভারে সম্পাল কামি এক ছক্কায় ৯ রান দিলে উইন্ডিজের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১৬ রান।
সেখান থেকে ধুঁকে ধুঁকে শেষ পর্যন্ত ৮৩ রান পর্যন্ত যেতে পারে দলটি। তাতে দেশটির আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে চতুর্থ বৃহত্তম (রান বিবেচনায়) পরাজয়ের লজ্জা পায় উইন্ডিজ। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ২১ রান করেছেন জেসন হোল্ডার। অন্যদিকে উইন্ডিজকে আটকে দেওয়ার পথে ২৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন আদিল আলম। এছাড়া কুশল ভুর্তেল ৩টি এবং ললিত রাজবানশি, কারান কেসি ও দিপেন্দ্র সিং আইরে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।