অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে থেকেই আলোচনা চলছিল রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলির ভবিষ্যত নিয়ে। পার্থে প্রথম ওয়ানডেতে এ দুজনের ব্যর্থতার পর সমালোচনার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অ্যাডিলেডে রোহিত ফিফটির দেখা পেলেও কোহলি তাঁর ১৭ বছরের ক্যারিয়ারের এক অপ্রত্যাশিত রেকর্ডের নজির গড়েন- টানা দুইটি ডাকে (শূন্য রান) আউট হয়ে।
প্রথম দুই ম্যাচ হেরে ভারত সিরিজ হারলেও আজ মান বাঁচানোর ম্যাচে রোহিত-কোহলি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন ওস্তাদের মার শেষ রাতেই! সিডনিতে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে রোহিত শর্মার অপরাজিত সেঞ্চুরি(১২১) ও কোহলির অপরাজিত ৭৪ রানের ইনিংসে ২৩৭ রানের লক্ষ্য ৬৯ বল ও ৯ উইকেট হাতে রেখে জিতেছে ভারত।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শুরুর আগে থেকেই আলোচনা ছিল এটিই হবে দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের শেষ সিরিজ। এমনকি নির্বাচক অজিত আগারকারও কোহলি-রোহিতের ২০২৭ বিশ্বকাপের খেলার সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে ভারতীয় দলের এই নির্বাচক স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপ অনেক দূরে, এখন এই দুজনের ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু বলতে পারবেন না। যা এক ধরনের ইঙ্গিত হিসেবেই অনেকে নিয়েছিলেন। এমনকি গুঞ্জন ছিল, অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ব্যর্থ হতেই ভারতীয় দল থেকে জায়গা হারাতে পারেন রোহিত-কোহলি।
তবে শেষ ম্যাচে এসে রোহিতের ১২৫ বলে ১২১* রান ও কোহলির ৮১ বলে ৭৪* রানের ইনিংস সব ধরনের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে।
সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২৩৮ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতে অধিনায়ক গুবমান গিল ২৪ রান করে বিদায় নিলেও পথ হারায়নি ভারত। হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে রোহিত-কোহলি রীতিমত মিচেল স্টার্ক-জস হ্যাজেলউডদের পরীক্ষা নিয়েছেন।
সিডনির উইকেটে রোহিত-কোহলিদের চাপে ফেলার চেষ্টা করেও পুরো ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা। ২১তম ওভারে সিরিজের টানা দ্বিতীয় ফিফটির(৬৩ বল) দেখা পেয়ে যান রোহিত। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৬০তম ফিফটির দেখা পেয়ে আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকেন এই ওপেনার। তাঁর সঙ্গী কোহলিও ছিলেন সেরা ছন্দে, ইনিংসের ২৮তম ওভারে ৫৬ বলে ক্যারিয়ারের ৭৫তম ফিফটির দেখা পেয়ে যান।
আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকা রোহিত ৩৩তম ওভারে ১০৫ বলে সেঞ্চুরির দেখাও পেয়ে যান। ক্যারিয়ারের ৩৩তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পাওয়া রোহিত শেষ পর্যন্ত ১৩ চার ও ৩ ছক্কায় ১২১ রানে অপরাজিত থাকেন। ৩৯তম ওভারে ৯ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। কোহলির ব্যাটে ৭ চারে ৮১ বলে ৭৪ রান।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে হার্শিত রানার ৪ উইকেট নেওয়ার দিনে ২০ বল আগেই মাত্র ২৩৬ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ জিতলেও ম্যাচ সেরা ও সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেছেন রোহিত শর্মা। ৩ ম্যাচে ১০১ গড়ে ২০২ রান করেছেন ভারতের এই ওপেনার।