কেইন উইলিয়ামসনকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শেষবার দেখা গেছে গত বছরের জুনে। এরপর দেশের জার্সিতে ওয়ানডে ও টেস্টে দেখা গেলেও সংক্ষিপ্ত সংস্করণ থেকে দূরে ছিলেন ৩৫ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান। এতে গুঞ্জন ছড়ায়, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আর দেখা নাও যেতে পারে উইলিয়ামসনকে।
এবার গুঞ্জনটাই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের তারকা ব্যাটসম্যান। অবসরের ঘোষণায় উইলিয়ামসন এটাও জানিয়েছেন, তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উইলিয়ামসনের পথচলা শুরু হয় ২০১০ সালের নভেম্বরে। তবে দেশের জার্সিতে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি খেলেন পরের বছরের অক্টোবরে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত ৯৩ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন উইলিয়ামসন। তাতে ৩৩.৪৪ গড় ও ১২৩ স্ট্রাইকরেটে ২৫৭৫ রান করেছেন। ১২ ইনিংসে ১১৮ বলে করে নিয়েছেন ৬ উইকেট।
গত মাসের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে নিউজিল্যান্ড। ওই সিরিজের দলে ছিলেন না উইলিয়ামসন। এরপর কুঁচকির চোটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেও খেলতে পারেননি। তবে চোট কাটিয়ে ইংলিশদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে ফেরেন তিনি।
কিন্তু গত মার্চের পর ওয়ানডেতে প্রত্যাবর্তনটা সুখকর হয়নি উইলিয়ামসনের। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ডাক মারার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ২১ রান করেন। পারফরম্যান্সের গ্রাফ আশানুরূপ না হওয়ায় জায়গা হারান তৃতীয় ম্যাচের একাদশ থেকে। গতকাল রাতে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ২ উইকেটের জয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটাও ৩-০ ব্যবধানে জেতে কিউইরা।
তবে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মোটে ৪ মাস আগে এ সংস্করণ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন তিনি। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে দেখা যাবে না নিউজিল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক উইলিয়ামসনকে।
অবসরের ঘোষণায় উইলিয়ামসন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই সংস্করণের অংশ হতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ। এই সংস্করণের অসংখ্য স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। আমার নিজের ও দলের জন্য (অবসর নেওয়ার) এখনই সঠিক সময়। এতে সামনের সিরিজ ও বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিতে দলকে পরিষ্কার বার্তা দেবে।’
তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দিতেই যে উইলিয়ামসনের এ অবসর, সেটাও স্পষ্ট করেছেন তিনি, ‘দলে প্রচুর টি-টোয়েন্টি প্রতিভা আছে। সামনের সময়টা ওদের প্রস্তুত করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে বিশ্বকাপের জন্য।’