ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ (২-১) জিতলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। এ সিরিজে জাতীয় দলের ব্যাটিং-বোলিংয়ে মুদ্রার দুই পিঠ গেছে। বোলিং ইউনিট নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করলেও ব্যাটিং ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিকে দুই ম্যাচের টেস্ট ও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে কয়েকদিন পর দেশে আসবে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দল। এ সিরিজের জন্য জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল। এ সিরিজে টিম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় দলের সাবেক আরেক ক্রিকেটার ও বিসিবি পরিচালক আবদুর রাজ্জাক।
গতকাল সোমবার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের পদটা এতদিন ফাঁকাই ছিল। ডেভিড হেম্পের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর থেকে ব্যাটিং ইউনিটের দেখভাল করছিলেন সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দীন।
তাঁর অধীনে ব্যাটসম্যানদের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার কারণেই কি আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচ করা হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবি পরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘এখানে কারও ব্যর্থতা বা কারও দায়িত্বে অন্য কাউকে আনা হয়নি। এমনকি কাউকে তার জায়গা থেকে সরিয়েও দেওয়া হয়নি।’
বিসিবি এ পরিচালক জানিয়েছেন, অভিজ্ঞতার কারণেই আশরাফুলের শরণাপন্ন হয়েছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আশরাফুলের অবশ্য বেশ কয়েকটি দলকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা আছে। গ্লোবাল সুপার লিগে দুই দফায় রংপুর রাইডার্সের ব্যাটিং ইউনিটের দায়িত্ব সামলেছেন। চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগে বরিশাল বিভাগের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া প্রিমিয়ার লিগে ধানমন্ডি ক্লাবকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা আছে তাঁর।
আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব দেওয়া প্রসঙ্গে আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘আশরাফুলের অনেক অভিজ্ঞতা আছে। সে এরই মধ্যে কোচিং কোর্সও সম্পন্ন করেছে। মূলত তার অভিজ্ঞতাই আমাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে।’
এর মাধ্যমে ২০১৪ সালে বিপিএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে নিষিদ্ধ হওয়ার ১১ বছর পর প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে ফিরছেন আশরাফুল।
নিজের টিম ডিরেক্টরের ভূমিকা নিয়ে আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘অন্যান্য যে কোনো টিম ডিরেক্টরের মতোই হবে আমার কাজ। আমি সবকিছু পর্যবেক্ষণ করব, সবকিছুতে নজর রাখব। আর কখনও যদি টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করে আমার কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন, তাহলে সেটিও করার চেষ্টা করব। তাদের সাহায্য প্রয়োজন হলে আমি করব।’
উল্লেখ্য, আগামী ১১ নভেম্বর সিলেটে শুরু হবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট। একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ১৯ নভেম্বর। এরপর ২৭ ও ২৯ নভেম্বর সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি হবে চট্টগ্রামে, আর ২ ডিসেম্বর সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টির ভেন্যু মিরপুর।