মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান। তাতেই দুই মেরুর ভিন্ন দুই অভিজ্ঞতার স্বাদ পেলেন ক্যামেরন গ্রিন। গতকাল মঙ্গলবার আবুধাবিতে হওয়া আইপিএলের মিনি নিলামে রেকর্ড ২৫ কোটি ২০ লাখ দামে অস্ট্রেলিয়ান এ তারকাকে কিনেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। আইপিএল ইতিহাসে এর আগে কোনো বিদেশি-ই এত দাম পাননি।
রেকর্ড দামে দল পাওয়ার কয়েকঘণ্টা ব্যবধানে অ্যাডিলেড ওভালে অ্যাশেজ সিরিজের তৃতীয় টেস্টে খেলতে নামেন গ্রিন। কিন্তু দিনটা তিক্ততায় শুরু হয়েছে গ্রিনের। ডানহাতি এ ব্যাটিং অলরাউন্ডার উইকেটে টিকতে পেরেছেন মোটে ২ বল। তাতে রানের খাতা খোলার আগেই জফরা আর্চারের বলে মিডউইকেটে ব্রেডন কার্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছেন।
গ্রিনের ব্যর্থতার দিনে অস্ট্রেলিয়ার ত্রাতা হয়ে হাজির হয়েছেন উসমান খাজা ও অ্যালেক্স কেয়ারি। এর মধ্যে কেয়ারি টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি (১০৬) তুলে নিয়েছেন। স্টিভেন স্মিথের হঠাৎ অসুস্থতায় একাদশে সুযোগ পাওয়া খাজা করেছেন ৮২ রান। কেয়ারি-খাজার ব্যাটে ভর করে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষ করেছে ৮ উইকেটে ৩২৬ রান তুলে।
তা দিন শেষে কে এগিয়ে? আগের দুই টেস্টেই জেতা অস্ট্রেলিয়া, নাকি ইংল্যান্ড- তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারেই। তবে ‘ভাগ্যগুণে’ পাওয়া সুযোগ কীভাবে কাজে লাগাতে হয়, সেটাই যেন দারুণভাবে দেখিয়েছেন খাজা।
টসের মাত্র ৪৫ মিনিট আগে নিশ্চিত হয়, বমি বমি ভাব ও মাথা ঘোরানোর জন্য এ টেস্টের একাদশে থাকছেন না স্মিথ। তাতে একাদশে সুযোগ মেলে খাজার। আর খাজা যখন উইকেটে যান, তখন কিছুটা ব্যাকফুটেই ছিল অস্ট্রেলিয়া।
দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও জেইক ওয়েদারল্ডের উদ্বোধনী জুটিতে মোটে ৩৩ রান পায় অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে ওয়দারল্ডকে (১৮) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন আর্চার। পাঁচ বলের মধ্যে আবারও উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। স্কোরবোর্ডে রান একই থাকতে এবার ব্রেডন কার্সের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরত যান হেড (১০)।
পরপর দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে পড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপদে হাল ধরেন খাজা। মারনাশ লাবুশেনকে নিয়ে জুটি গড়ে প্রথম সেশনের বাকিটা নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দেন। মধ্যাহ্নভোজে যাওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ৯৪ রান।
বিরতির পর শুরুতেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। সেশনের প্রথম বলেই লাবুশেনকে (১৯) বিদায়ের পর আর্চার তৃতীয় বলে ফেরান গ্রিনকে (০)। মুহূর্তেই অস্ট্রেলিয়ার স্কোরবোর্ড রূপ নেয় ৪ উইকেটে ৯৪ রান।
সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়ার রানের চাকা টেনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান খাজা। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেন গ্রিন। সেশনের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে ১০০ রানের দেখা পায় অস্ট্রেলিয়া। একটু পরে ফিফটি পেরিয়ে যান খাজা।
দুজনের সাবলীল ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়াও দেড় শ পেরিয়ে যায়। তবে চা বিরতির তিন ওভারের কম বাকি থাকতে বিদায় নেন সেঞ্চুরির পথে থাকা খাজা। উইল জ্যাকসের বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ ধরা পড়েন জশ টাংয়ের হাতে। তাতে ভেঙে যায় দুজনের ৯১ রানের জুটি।
জুটির সেঞ্চুরি কিংবা খাজা তিন অঙ্ক ছুঁতে না পারলেও ঠিকই সেঞ্চুরি আদায় করেছেন কেয়ারি। ১৩৫ বলে সেঞ্চুরি করা কেয়ারি শেষ পর্যন্ত বিদায় নিয়েছেন ১০৬ রান করে। ১৪৩ বলের ইনিংসে ৮টি চার ও ১টি ছক্কা মেরেছেন কেয়ারি।
দিনের শেষ সেশনে জশ ইংলিশ ওয়ানডে সুলভ ব্যাটিংয়ে ৩৯ বলে ৩২ রান করে আউট হন। আগের দুই টেস্টে না থাকা কামিন্স তৃতীয় টেস্টে ফিরে প্রথম ইনিংসে ১৩ রানের বেশি করতে পারেননি। আরেক পেসার মিচেল স্টার্ক ৩৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। তাতে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহও তিন শ পেরিয়েছে।
ইংলিশদের হয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন জফরা আর্চার এছাড়া কার্স ও জ্যাকস দুটি করে এবং অন্য উইকেটটি নিয়েছেন টাং।