পাকিস্তান নাকি বয়কট করবে? বিশ্বকাপে যেতে সোমবারের টিকিটও কেটে ফেলেছে

নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলতে চাওয়ার অনড় অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান, এমন খবর শোনা যাচ্ছে অনেক দিন থেকেই। এমনকি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসীন নাকভিও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর নাকভি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ খেলবে, নাকি বর্জন করবে, আগামী শুক্র থেকে সোমবারের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পিসিবি। পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বয়কট ধোঁয়াশার মধ্যেই দেশটির সংবাদমাধ্যম টেলিকম এশিয়া স্পোর্টস জানিয়েছে, এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কা যাওয়ার জন্য ফ্লাইটের টিকিট বুকিং করেছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপে অংশ নিতে আগামী সোমবার কলম্বোর উদ্দেশ্যে উড়াল দেবেন সালমান আলী আঘারা।

এবারের বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপে থাকা পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায়। এমনকি পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে একই গ্রুপে থাকা আরেক আয়োজক দেশ ভারতকেও শ্রীলঙ্কায় যেতে হবে। পাকিস্তান যদি ফাইনালে ওঠে, শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটাও হবে লঙ্কাতে।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে পাকিস্তান। এই সিরিজ শেষে আগামী সোমবার অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে লাহোর থেকে কলম্বোর উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে এশিয়া স্পোর্টস।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র এশিয়া স্পোর্টসকে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও, পাকিস্তান দল অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে লাহোর থেকে এয়ার লঙ্কার একটি ফ্লাইটে কলম্বো যাওয়ার টিকিট বুক করেছে। আশা করছি, শুক্রবারের মধ্যেই পিসিবি প্রধান মহসীন নাকভি মেগা ইভেন্টে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের বিষয়টি স্পষ্ট করবেন।’

সূত্রের বরাতে এশিয়া স্পোর্টস আরও জানিয়েছে, গত সোমবার পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভির সঙ্গে বৈঠকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও বিশ্বকাপ বয়কট না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন করলেও আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় এমন পরামর্শ দিয়েছেন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, দেশটির ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপে খেলতে প্রস্তুত থাকার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বলেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক আরেক সূত্র এশিয়া স্পোর্টকে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে খেলার ব্যাপারে সব খেলোয়াড়কে ইতিবাচক মানসিকতায় থাকতে বলা হয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় দেশের বাইরে থাকতে হতে পারে— এ কথা মাথায় রেখে খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে আসা কয়েকজন ক্রিকেটার সেভাবে লাগেজ সঙ্গে এনেছেন।’