এবারের বিশ্বকাপটা একেবারেই ভালো যায়নি কানাডার। গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ খেলে চারটিতেই হেরেছে আইসিসির সহযোগী দেশটি। তবে এবার একটা আক্ষেপ পূরণ হয়েছে কানাডার। এর আগে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেললেও আইসিসির পূর্ণ সদস্য কোনো দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি কানাডার।
এবার সেই আক্ষেপ ঘুচেছে কানাডার। ‘ডি’ গ্রুপে দলটি সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিল সাউথ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তানের মতো পূর্ণ সদস্য দেশকে। আর ছিল সহযোগী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত।
গতকাল বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলতি টুর্নামেন্টে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলেছে কানাডা। ম্যাচের পর দলটির অলরাউন্ডার সাদ বিন জাফর জানিয়েছেন, বড় দলগুলোর বিপক্ষে আরও বেশি লড়াইয়ের সুযোগ চান তারা। এজন্য আইসিসির প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন কানাডার সাবেক এই অধিনায়ক।
সাদ বলেছেন, ‘আমি যদি একটা বিষয় পরিবর্তনের সুযোগ পেতাম, তবে আমি সহযোগী দেশগুলোকে বড় দলগুলোর বিপক্ষে আরও বেশি খেলার সুযোগ দিতাম। কারণ শেখার জায়গা আসলে এটাই, আর এখান থেকেই আমরা শিখি।’
ভৌগোলিক দিক থেকেও কানাডা কিছুটা পিছিয়ে আছে বলে মনে করেন সাদ, ‘আমাদের জন্য ব্যাপারটা কঠিন, কারণ আমরা এশিয়া বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নই। এশিয়ার দলগুলো এশিয়া কাপসহ আরও কিছু টুর্নামেন্ট খেলতে পারে। আমাদের তেমন কিছু নেই।’
আর সে কারণেই বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেতে আইসিসির দিকে তাকিয়ে সাদ, ‘যদি আইসিসি এমন কোনো উদ্যোগ নেয়, যাতে আমরা নিয়মিত বড় দলগুলোর বিপক্ষে বছরে কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারি, তাহলে আমাদের অভিজ্ঞতা আরও বাড়বে। আমরা তাদের থেকে শিখে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারব।’
বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা নেই বলে অনেকটা ভুগতে হয়, এমনটাই জানিয়েছেন সাদ, ‘বিশ্বকাপে সরাসরি বড় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয়। তার আগে আমাদের কোনো অভিজ্ঞতা থাকে না। আশা করি, সহযোগী দেশগুলোর জন্য আইসিসি এমন কিছু করবে।’
কানাডার এই অলরাউন্ডার আরও জানিয়েছেন, বেশি দর্শকের সামনে খেলাটাও তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। সাদের ভাষায়, ‘দর্শকদের সামনে খেললে মানসিক চাপ অনেক বেশি থাকে। শুধু মাঠের দর্শক নয়, পুরো বিশ্বই আপনাকে দেখছে— এই অনুভূতিটাও বড় চাপ তৈরি করে। তবে ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ করে নিজের কাজের ওপর মনোযোগ দিতে শিখতে হয়।’
সাদ যোগ করেন, ‘সহযোগী ক্রিকেটে আমরা অনেক সময় দর্শক ছাড়াই খেলি, কিন্তু তখনও অন্য ধরনের চাপ থাকে। অনেক টুর্নামেন্টে আমাদের ওয়ানডে স্ট্যাটাস ধরে রাখা বা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার প্রশ্ন থাকে। সেটাও এক ধরনের চাপ। তাই ক্রিকেটার হিসেবে আমরা চাপ সামলে বর্তমান মুহূর্তে থাকার অভ্যাস গড়ে তুলেছি।’