বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল) ঘিরে দুর্নীতি, জুয়া ও তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে ক্রিকেটার অমিত মজুমদার, দলীয় ব্যবস্থাপক মো. লাবলুর রহমান ও রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী, ফ্র্যাঞ্চাইজির সহমালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একই সঙ্গে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, বোর্ডের দুর্নীতি দমন ইউনিটের তদন্তে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসরকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। তদন্তে জুয়াসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, দুর্নীতির প্রস্তাব, তদন্তে সহযোগিতা না করা, তথ্য গোপন এবং যোগাযোগের তথ্য মুছে ফেলার মতো বিষয় পাওয়া গেছে।
দলীয় ব্যবস্থাপক মো. লাবলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দুর্নীতিসংশ্লিষ্ট তদন্তে সহযোগিতা করেননি। তদন্ত কর্মকর্তার পাঠানো নোটিশেরও জবাব দেননি তিনি। এ ছাড়া তদন্তে বাধা দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও যোগাযোগ গোপন বা মুছে ফেলার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজির সহমালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদের বিরুদ্ধেও। বিসিবির ভাষ্য, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
দেশীয় ক্রিকেটার অমিত মজুমদারের বিরুদ্ধে সরাসরি জুয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, তিনি ক্রিকেট ম্যাচের ফল, অগ্রগতি বা ম্যাচের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাজিতে অংশ নিয়েছেন।
একই অভিযোগ আনা হয়েছে দলীয় ব্যবস্থাপক রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীর বিরুদ্ধেও। তাঁর বিরুদ্ধেও ক্রিকেট ম্যাচ ঘিরে বাজির কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত সবাইকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিযোগপত্র পাওয়ার পর নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে তাঁদের ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে এখনই আর কোনো মন্তব্য করা হবে না।
এদিকে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে বহিষ্কারাদেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের নবম, দশম ও একাদশ আসর ঘিরে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করা হয়।
তদন্তে অভিযোগ ওঠে, তিনি জুয়াসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি ক্রিকেটার ও এজেন্টদের কাছে দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, দেশি-বিদেশি জুয়া ও দুর্নীতিচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং ম্যাচে দুর্নীতি সংঘটনে ভূমিকা রাখার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিসিবি জানায়, বহিষ্কারের নোটিশ পাওয়ার পর সামিনুর রহমান আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছেড়ে দেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ মেনে নেন।