একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিয়ে রসিকতা করাটাই যেন ছিল ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম স্টার স্পোর্টসের রেওয়াজ। ২০১৫ সালের সেই বিজ্ঞাপন মনে আছে? ছোট্ট এক শিশুর চরিত্রে বাংলাদেশকে তুলে ধরে বলা হয়েছিল— এই দল ক্রিকেটে এখনো বাচ্চা। ব্যাট হাতে নামলেই আউট, ফিল্ডিংয়ে গেলেই বল কুড়িয়ে আনা— ১১ বছর আগের সেই বিজ্ঞাপন এখনো অনেকের মনে আছে।
অথচ সেই সিরিজেই ভারতকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। বিদ্রুপের জবাবটা বাংলাদেশ দিয়েছিল মাঠেই। কিন্তু স্টার স্পোর্টসের প্রচারণা থামেনি। বীরেন্দর শেবাগসহ আরও অনেককে দিয়ে বছরের পর বছর তৈরি হয়েছে একের পর এক কনটেন্ট, যার মূল সুরটা প্রায় একই থেকেছে— বাংলাদেশকে ছোট করে দেখানো।
কিন্তু সময় বদলায়। বদলায় ক্রিকেটের বাস্তবতাও। যে স্টার স্পোর্টস একসময় বাংলাদেশকে নিয়ে ঠাট্টা করেছিল, সেই স্টার স্পোর্টসই এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে তৈরি করছে প্রশংসার গল্প। আর সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু এবার হাসান মাহমুদ।
সম্প্রতি বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদকে নিয়ে দীর্ঘ ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের একটি কনটেন্ট প্রকাশ করেছে স্টার স্পোটর্সস। সেখানে কোনো কটাক্ষ নেই, নেই কোনো ছোট করার চক্রান্ত। আছে কেবল হাসান মাহমুদের নিজের অভিজ্ঞতা, দলের প্রস্তুতি আর সাফল্যের গল্প। যে চ্যানেল একসময় বাংলাদেশকে নিয়ে হাসিঠাট্টার বিজ্ঞাপন বানাতো, তারাই আজ বাংলাদেশের এক ক্রিকেটারের গল্প নিয়ে আগ্রহী। এই বদলের পেছনে কারণটা মাঠের— সেটা অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই।
কারণ ডারউইনে যা করেছে বাংলাদেশ, সেটি কোনো অঘটন নয়। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গিয়ে বাংলাদেশ দেখিয়েছে নিজেদের সামর্থ্য। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে লিখেছে নতুন ইতিহাস।
আর সেই ইতিহাসের অন্যতম নায়ক হাসান মাহমুদ। সবুজ উইকেট, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ, আর সামনে ছিলেন ট্রাভিস হেড, স্টিভ স্মিথদের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। কিন্তু হাসানের বোলিংয়ে ছিল গতি, সুইং আর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ। দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে তিনি শুধু ম্যাচের নায়কই হননি, বিশ্ব ক্রিকেটকে দিয়েছেন নতুন এক বার্তা। বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন আর শুধু সম্ভাবনার গল্প নয়, এটি এখন সাফল্যের গল্প।
স্টার স্পোর্টসের ক্যামেরা যখন আজ হাসান মাহমুদের দিকে ফিরে তাকায়, তখন সেটা নিছক একটা কনটেন্টের প্রয়োজনে