সাকিবকে চেনা গেল না, বাবরের জাত চেনানো সেঞ্চুরি

আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে কিছু করতে পারেননি, লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) আজ ব্যাটিংয়ের সুযোগই পাননি সাকিব আল হাসান। সে অবশ্য তার দোষে নয়, তার দল গল টাইটানসের প্রথম চার ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলায় সাকিবের নামার আর সময় ছিল না।

তবে কলম্বো স্ট্রাইকার্সের হয়ে আজ বল হাতেও তেমন আলো ছড়াতে পারেননি সাকিব। ৪ ওভার বোলিং করে ৩০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য বাংলাদেশের বাঁহাতি অলরাউন্ডার। বলতে গেলে এ পর্যন্ত সাকিবের চার ম্যাচের এলপিএল অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে ম্রিয়মাণ দিনই ছিল আজকের দিনটি।

পাল্লেকেল্লেতে সাকিবের এমন দিনে আলো ছড়িয়েছেন বাবর আজম। পাকিস্তান অধিনায়ক টি-টোয়েন্টিতে নিজের দশম সেঞ্চুরিটি তুলে নিয়েছেন। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই সংস্করণে সেঞ্চুরি সংখ্যায় ডাবল ডিজিটে যাওয়ার কৃতিত্ব আছে আর শুধু একজনের – ক্রিস গেইল (২২টি)। বাবরের ৫৯ বলে ১০৪ রানের দারুণ ইনিংসের সৌজন্যে আজ গলের ১৮৮ রান ৭ উইকেট হাতে রেখে পেরিয়ে গেছে কলম্বো।

টস হেরে ব্যাটিং পাওয়া গলকে ঝোড়ো শুরু এনে দেন লাসিথ ক্রুসপুল্লে (১৯ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় ৩৬) ও শেভন ড্যানিয়েল (৩১ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় ৪৯)। পাওয়ার প্লে-তে এসেছে ৬৭ রান, প্রথম সাত ওভারের কোনোটিতেই দুই অঙ্কের নিচে রান হয়নি! অষ্টম ওভারের পঞ্চম বলে ক্রুসপুল্লে আউট হলে ভাঙে ৮৭ রানের দারুণ জুটি। এর পরের ওভারের শেষ বলে দলকে ৯১ রানে রেখে ফেরেন ড্যানিয়েলও।   

সেখান থেকে আবার জুটি গড়ে গলের ছুটে চলা। তৃতীয় উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়েন ভানুকা রাজাপক্ষে ও টুর্নামেন্টে গলের হয়ে ঝড় তুলে চলা টিম সেইফার্ট। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানকে ঝড় তুলতে দিয়ে রাজাপক্ষে নিয়েছেন অ্যাঙ্কর ভূমিকা। শেষ পর্যন্ত ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে রাজাপক্ষে আউট হন ৩১ বলে ৩০ রান করে। সেইফার্ট শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৩৫ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৪ রান করে।

এলপিএলে গলের আগের তিন ম্যাচে তৃতীয় উইকেট পতনের পরই ব্যাটিংয়ে নেমেছেন সাকিব। তবে আগের তিন ম্যাচে গল তৃতীয় উইকেট হারিয়েছে ইনিংসের মাঝামাঝিতে যাওয়ার আগে। আজ ১৯তম ওভারে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর নেমেই ঝড় তোলার পরিকল্পনায়ই হয়তো, সাকিবকে না নামিয়ে অধিনায়ক দাসুন শানাকাকে নামায় গল। শানাকা শেষ পর্যন্ত ৪ বলে ১ চারে ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।

নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে ১৮০ রান করে জিতে যাওয়া গল তৃতীয় ম্যাচে ১১৭ রান পর্যন্ত যেতে পেরেছিল। সে হিসেবে আজ ১৮৮ রান বেশ ভালো স্কোর – টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত গলের সর্বোচ্চ স্কোরও। কিন্তু এ স্কোরও ফ্যাকাশে দেখাল বাবরের ব্যাটের সামনে। পাল্লেকেল্লের দর্শককে অসাধারণ এক ইনিংসের স্বাদ দিয়েছেন বাবর - তার জাত চেনানো রাজসিক ব্যাটিংয়ে।

ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ না পাওয়া সাকিব আজ বল হাতেও উইকেট পাননি। ফাইল ছবি

ইনিংসের তৃতীয় বলে দারুণ টাইমিংয়ে মিডউইকেটে চার, পরের বলে চোখধাঁধানো কাভার ড্রাইভ, এর পরের বলে গ্লান্স করে লেগে চার – মুখোমুখি প্রথম তিন বলে রাজিথাকে টানা তিন ক্লাসিক শটে চার মেরে ইনিংস শুরু করা বাবর শুরু থেকেই বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, আজ দিনটা তার। সাকিবের বলে দুই রান নিয়ে ৩৪ বলে ফিফটিতে পৌঁছেছেন (৫ চার, ১ ছক্কা)। এরপর আরও ভয়ংকর হলেন!

ধনাঞ্জয়াকে টানা দুই ছক্কার পর ক্লাসিক কাটে চার মারলেন, কিছুক্ষণ পর রাজিথাকে ছক্কা, তার কিছুক্ষণ পর – ১৬তম ওভারের শেষ বলে, সাকিবকেও ছক্কা মেরেছেন বাবর। এনগারাভাকে চার মেরে সেঞ্চুরি হলো ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে, তার মধ্যে বাবর খেলেছেন মাত্র ৫৭ বল।

তবে ২০তম ওভারের প্রথম বলে রাজিথার বলে সাকিবের ক্যাচ হয়ে ফিরতে হলো বাবরকে। তখন আবার কলম্বো স্ট্রাইকার্স পড়ে গেছে সংশয়ে। তখনো যে জয় থেকে ১৪ রান দূরে কলম্বো, বল বাকি আর পাঁচটি! বাবরের সেঞ্চুরি বুঝি বৃথা গেল!

কিন্তু বাবরেরই জাতীয় দল সতীর্থ মোহাম্মদ নাওয়াজ নিশ্চিত করলেন, জাতীয় দলে তার অধিনায়কের সেঞ্চুরি জয়েই রঙিন হচ্ছে। ৪ বলে ১ চার ১ ছক্কায় ১৪ রান নিয়ে এক বল বাকি থাকতেই কলম্বোকে জিতিয়ে দিলেন নাওয়াজ।

এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান তাওহীদ হৃদয়ের দল জাফনা কিংস নেমেছে ডাম্বুলা অওরার বিপক্ষে। আগে ব্যাট করছে ডাম্বুলা।