তার নামও জানা নেই কারও। জানার কথাও নয়। টিভিতে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তার পরিচয় দরকার ছিল না। গত শুক্রবার ভয়াবহ ভূমিকম্পে মরক্কোর প্রায় তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে সেদিন হারিয়েছে মরক্কোর এই কিশোর।
সব হারানো সে কিশোর টিভিতে কথা বলার সময় কাঁদছিল। ধংসস্তুপের সামনে দাঁড়ানো সে কিশোরের গায়ে একটি রেয়াল মাদ্রিদের জার্সি। এই মৌসুমের নয়, গত মৌসুমেরও নয়। এক সময়কার ধবধবে সে জার্সিতে ধুলো ময়লা লেগে রয়েছে। এই ময়লা জার্সিটাই ইউরোপের সবচেয়ে সফল দলটিকে আগ্রহী করে তুলেছে মরক্কোর এই কিশোরকে ঘিরে।
একটি টিভি চ্যানেলে কথা বলার সময় মরক্কোর কিশোর বলেছিল, ভূমিকম্পে তার পরিবারের বাকি পাঁচ সদস্যকেই হারিয়েছে সে। এখন আত্মীয়দের সঙ্গে থাকতে হবে তাকে। তার বাবা স্বপ্ন দেখতেন, বড় হলে একজন চিকিৎসক বা শিক্ষক হবে সে, তাই পড়াশোনাতেই মন দেবে।
এর মধ্যেই স্প্যানিশ টিভি চ্যানেল এল চিরিঙ্গিতো বলছে, টিভিতে এই কিশোরের গল্পটা শুনে তাকে সাহায্য করতে চাইছে মাদ্রিদ। তাকে স্পেনে নিয়ে নতুন এক জীবন দিতে চায় তারা। স্প্যানিশ ক্লাবের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে সম্পর্ক বেশ ভালো এল চিরিঙ্গিতোর কর্তাদের। ফলে এই তথ্য সত্য হতে পারে, আবার এ খবর দিতে ক্লাবের ভাবমূর্তি বাড়ানোর কাজ করছেন পেরেজ।
এর মধ্যেই খবর এসেছে, সামাজিক যোগাযোগ্মাধ্যমের সাহায্যে ওই কিশোরকে খুঁজে পেয়েছে মাদ্রিদ। এবং সরাসরি তাঁকে একাডেমির সদস্য বানানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। মাদ্রিদের একাডেমিতে সাধারণত প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলারদের ভর্তি করা হয়। সেখানে ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাহসি পড়াশোনাও চালিয়ে যায় শিশু ও কিশোর ফুটবলাররা। মরক্কোর এই কিশোরকে সে সুযোগটাই দেবে মাদ্রিদ।
সন্দেহ নেই, মন ভালো করে দেওয়া এক সংবাদ। কিন্তু এ ধরনের সংবাদ সবসময় সত্যি হয় না। এই তো কদিন আগেই ছড়ালো, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নিজের মালিকানাধীন হোটেল খুলে দিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু সে খবর ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে।