সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) কাল রাত থেকেই অনেকে মজা করে লিখেছেন, একই মৌসুমে দিয়েগো সিমেওনে এবং জোসে মরিনিওর দল ম্যাচে ৭টি করে গোল করেছে...দুনিয়ায় হচ্ছেটা কী!
অতিরক্ষণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত সিমেওনে গত মৌসুমের শেষদিক থেকে আতলেতিকো মাদ্রিদকে খেলাচ্ছেন একেবারে ক্লাবটাতে তাঁর প্রথম এক-দুই মৌসুমের মতো করে – অতিরক্ষণাত্মক কৌশল ছেড়ে পাসিং ফুটবলে। গত ২৯ আগস্ট লিগে রায়ে ভায়েকানোকে তাদেরই মাঠে ৭-০ গোলে হারিয়ে এসেছে আতলেতিকো।
সিমেওনের গায়ে মাঝে কয়েক বছরে অতি-রক্ষণাত্মক কোচের ‘লেবেল’ লেগে গিয়েছিল, আর সিমেওনে সে পথের পথিক হলে জোসে মরিনিও তো পথ-প্রদর্শক! সেই মরিনিও-ও কাল তাঁর দলকে ম্যাচে ৭ গোল দিতে দেখলেন! ইতালিয়ান লিগে কাল নিজেদের মাঠে এম্পোলিকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে মরিনিওর রোমা। পাওলো দিবালা করেছেন জোড় গোল, প্রথমবারের মতো প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে গোল করেছেন রোমেলু লুকাকু।
এই সাত গোলে পুরোনো একটা কীর্তিও ছোঁয়া হলো মরিনিওর। রেয়াল মাদ্রিদের কোচ থাকার সময়ে ২০১১ সালের মার্চ থেকে মে – দুই মাসের মধ্যে দুই ভিন্ন ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৭ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন মরিনিও। মার্চ মাসে লিগে মাদ্রিদ ৭-০ গোলে হারিয়েছিল সে সময়ে মানুয়েল পেল্লেগ্রিনির অধীন মালাগাকে। আর মে মাসে লিগে ৮-১ গোলে হারায় আলমেরিয়াকে।
সে রেয়াল মাদ্রিদ ছিল তারকায় ঠাসা। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কাকা, মেসুৎ ওজিল, বেনজেমা, দি মারিয়া... এত তারকা থাকলে গোল তো আসবেই। মাদ্রিদের পর মরিনিও চেলসি (দ্বিতীয় দফা), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, টটেনহ্যাম হটস্পার হয়ে রোমায় গেছেন। মাঝে তিন ক্লাবে কখনো এত গোলে ভাসানো হয়নি প্রতিপক্ষকে। রোমায় কাল প্রতিপক্ষকে ৭ গোলে ভাসানোর স্বাদ পেলেন মাদ্রিদের পর এই প্রথম। ফুটবলের পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ট্রান্সফারমার্কেট জানাচ্ছে, মরিনিওর দুই যুগের কোচিং ক্যারিয়ারেই ৭ বা তার বেশি গোল দিয়ে জয়ের কীর্তি এ নিয়ে হলো পাঁচবার।
আর রোমা লিগে কোনো ম্যাচে ৭ গোল পেল ২০০৬ সালের নভেম্বরে কাতানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর এই প্রথম।
গোলবন্যার এই রাত এল এমন এক সময়ে, যখন লিগে এবার রোমার শুরুটা ভালো হয়নি। সালেরনিতানার বিপক্ষে ২-২ ড্র দিয়ে শুরু লিগে পরের দুই ম্যাচেই হেরেছে রোমা। দুটিই ২-১ গোলে হার, প্রথমটি ভেরোনার বিপক্ষে, পরেরটি মিলানের বিপক্ষে। পরশুর ম্যাচের আগে তাই মরিনিও বলেছিলেন, ‘আমি পরের ম্যাচটা জিততে চাই। এর পরের ম্যাচ জিততে চাই। এরপর সব ম্যাচ জিততে চাই।’ এদিকে ম্যাচের আগের দিন রোমা সমর্থকেরা দলের অনুশীলনে ব্যানার নিয়ে এসেছিলেন, যেখানে লেখা, ‘একে আমাদের জেদ ভাবলে জেদ, তবে আমরা রোমার পাশে আছি। আমাদের জেদ ভাবলে জেদ, আমরা মরিনিওর সঙ্গে আছি।’
ফল? ২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দিবালার গোলে এগিয়ে যায় রোমা, ৮ মিনিটে দারুণ দলীয় আক্রমণের পর দ্বিতীয় গোলটি এই মৌসুমে পিএসজি থেকে ধারে রোমায় যাওয়া রেনাতো সানচেসের। এম্পোলির আলবের্তো গ্রাসির আত্মঘাতী গোল মিলিয়ে বিরতিতেই ৩-০ গোলে এগিয়ে রোমা।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তোড় আরও বাড়ল! ৫৫ মিনিটে অসাধারণ ডজে প্রতিপক্ষকে ঘোল খাইয়ে গোল দিবালার। ৭৯ মিনিটে ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে করলেন দলের পঞ্চম গোল, ৮২ মিনিটে ক্লাবের জার্সিতে প্রথম গোল চেলসি থেকে ধারে যাওয়া লুকাকুর। গোল উৎসবের শেষ ৮৬ মিনিটে জিয়ানলুকা মানচিনির গোলে।
তৃতীয় ম্যাচ শেষে অবনমন অঞ্চলে থাকা রোমা কালকের এই জয়ে ৪ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে পয়েন্ট তালিকার ১২ নম্বরে।
এদিকে প্রিমিয়ার লিগে কাল চেলসি গোলশূন্য ড্র করেছে বোর্নমাউথের সঙ্গে। লন্ডনে চেলসিরই প্রতিবেশি আর্সেনালও ১-০ গোলে জিতেছে এত বছরে তাদের ‘নেমেসিস’ বনে যাওয়া এভারটনের মাঠে। ৬৯ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ত্রসার গোলটাতে ২০১৭ সালের পর এই প্রথম এভারটনের মাঠে জিতল আর্সেনাল।