লিওনেল মেসি আজ খেলতে নামেন কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ ছিলই। জানা গিয়েছিল, পুরো ম্যাচ না খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামতে পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সেটাই হয়েছে। মূল একাদশে না থাকা মেসি দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে চল্লিশ মিনিট মতো খেলেছেন। তাতেই তিনি কোন মাপের খেলোয়াড়, আরও একবার বোঝা হয়ে গেছে দর্শকদের। বল পায়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন, প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের বিহ্বল করেছেন, শুধু গোলটাই পাওয়া হয়নি - এই যা। অবিশ্বাস্যভাবে দুবার পোস্টে লেগেছে মেসির শট - একবার ফ্রি-কিক থেকে, একবার কর্নার কিক থেকে।
তবে মেসিকে খালি হাতে ফেরালেও, আর্জেন্টিনা খালি হাতে ফেরেনি বুয়েনোস এইরেসের এস্তাদিও মাস মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম থেকে। ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির গোলে ১-০ ব্যবধানে মাঠ ছেড়েছে আলবিসেলেস্তিরা। আর তাতেই আপাতত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের কনমেবল গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে তাঁরা।
বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। আর গোলটাই বা হয়েছে কী দুর্দান্ত! ম্যাচের চার মিনিটের মাথায় রদ্রিগো দি পলের কর্নার কিক থেকে দলকে এগিয়ে দেন মেসির পরিবর্তে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে নাম্বা ওতামেন্দি। তাও হেড থেকে করা কোনো গোলে নয়। দি পল যখন কর্নারটা মারছেন, ওতামেন্দি ডি-বক্সে ঢুকব-ঢুকব করছিলেন। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের ‘আউটসুইঙ্গিং’ কর্নারটা মাটিতে পড়ার সুযোগ না দিয়ে অসাধারণোভাবে ডানপায়ের ভলিতে বল জালে জড়ান এই বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার। ১৩ মিনিটে অসাধারণ সুযোগ পেয়েও হেলায় হারান নিকোলাস গনসালেস। মেসির পরিবর্তে এদিন প্রথমবারের মতো মূল একাদশে জুটি বাঁধার সুযোগ পেয়েছিলেন দুই স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেস ও হুলিয়ান আলভারেস। ৩০ মিনিটের মধ্যে আলভারেস-মার্তিনেসও আর্জেন্টিনাকে আরও এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫৩ মিনিটে আলভারেসের জায়গায় মাঠে নামেন মেসি। মজার ব্যাপার হলো, মেসি নামার পর থেকেই দলগতভাবে প্রথমার্ধের চেয়ে বাজে খেলা শুরু করে আর্জেন্টিনা। হয়তো মেসি আছেন, আমাদের এত কষ্ট করার কী দরকার - এমনটাই ভেবেছেন মার্তিনেসরা!
মেসি অবশ্য নিজের কাজটা ঠিকই করেছেন। ৭৭ মিনিটে কর্নার থেকে গোল করেই পেরেছিলেন, বেরসিক পোস্টটা বাধা না দিলেই হোত! যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটের তাই, এবারও ‘ভিলেন’ পোস্ট - মেসির ফ্রি-কিক আটকে! একবার পোস্টে বল লাগিয়েছেন দি পলও।
সব মিলিয়ে ম্যাচে দাপট দেখালেও এক গোলের বেশি পাওয়া হয়নি আর্জেন্টিনার। তাতে অবশ্য তিন পয়েন্ট পেতে সমস্যা হয়নি।