বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসে, বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে তর্ক কিংবা বাগযুদ্ধও বেড়ে যায় সমানতালে। নিজেদের প্রিয় দলকে বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখতে নানা ধরনের যুক্তি নিয়ে হাজির হন তারা।
শুধু কি সমর্থক, বিশ্লেষকেরাও পারফরম্যান্স কিংবা অন্যান্য ফ্যাক্টর বিবেচনায় ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকেন, কার হাতে উঠতে পারে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি। তেমনই ভবিষ্যদ্বাণী করেছে গোল্ডম্যান স্যাকস। মার্কিন বহুজাতিক ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে স্পেন। এই মডেল অনুসারে, বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা আছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলেরও!
গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, আগামী ১১ জুন শুরু হওয়া বিশ্বকাপে স্পেনের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ২৬ শতাংশ। স্পেনের পরই ফ্রান্সকে রেখেছে গোল্ডম্যান। ২০১৮ এর পর আরেকবার শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ। এরপরই আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলকে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। মেসিদের ১৪ শতাংশ সম্ভাবনার বিপরীতে ব্রাজিলের সম্ভাবনা রেখেছে ৮ শতাংশ।
ভবিষ্যদ্বানী করার ক্ষেত্রে দলগুলোর অতীত পারফরম্যান্স ও র্যাঙ্কিংকে বিবেচনায় নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আর ভবিষ্যদ্বাণী তৈরি করেছে ইলো র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। ইলো মূলত দাবার পারফরম্যান্স র্যাঙ্কিংয়ের জন্য তৈরি করা হলেও পরবর্তীতে ফুটবলেও এটি প্রয়োগ করা হয়। দলগুলোর পারফরম্যান্স আর র্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি আক্রমণভাগের শক্তি, সাম্প্রতিক ফর্ম, মানসিকতা এবং ভৌগোলিক বিষয়গুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে র্যাঙ্কিং তৈরিতে।
ভবিষ্যদ্বাণীর ব্যাপারে গোল্ডম্যান স্যাকস বলেছে, ‘স্পেনকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ধরা হয়েছে, কারণ ওদের ইলো র্যাঙ্কিং সর্বোচ্চ। পাশাপাশি দলটির গোল করার সক্ষমতা এবং টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ভালো মোমেন্টামে আছে।’
ব্যাংকটির মতে, আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা কমেছে তথাকথিত ‘উইনার্স স্লাম্প’ প্রভাবের কারণে। অর্থাৎ, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলগুলো প্রায়ই পরবর্তী বিশ্বকাপে প্রত্যাশার তুলনায় পারফর্ম করতে পারে না।
ফ্রান্সকে পিছিয়ে রাখার পেছনে গোল্ডম্যান বলছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সেমিফাইনালেই স্পেনের মুখোমুখি হতে পারে ২০১৮ এর চ্যাম্পিয়নরা।



