লিওনেল মেসি অষ্টমবারের মতো ফিফার বর্ষসেরা নির্বাচিত হলেন। তবে গতকাল লন্ডনে ফিফার বর্ষসেরা হিসেবে যখন তাঁর নাম ঘোষিত হলো, এর চেয়ে বেশি বিতর্ক সম্ভবত মেসির আর কোনো বর্ষসেরার পুরস্কার নিয়ে হয়নি।
বিতর্কের কারণও আছে। ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জেতার পর তো একবার ফিফা বর্ষসেরা হয়েছিলেন মেসি, এবারের ফিফার বর্ষসেরা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কাতার বিশ্বকাপের পরের পারফরম্যান্স। আর সেখানে পিএসজি ও ইন্টার মায়ামির জার্সিতে অনেক আলো ছড়ানো মুহূর্ত থাকলেও মেসির তেমন বড় কোনো শিরোপা নেই।
ঠিক এই দিকটিই তুলে ধরে মেসির ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জার্মানি কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস।
লন্ডনে গতকাল পুরস্কারের পর জানা গেছে, মেসি ও হলান্ড দুজনই সমান ৪৮ পয়েন্ট পেয়েছেন, তবে মেসি পুরস্কারটা জিতেছেন জাতীয় দলের অধিনায়কদের ভোটে ‘প্রথম পছন্দ’ হিসেবে এগিয়ে থাকায়।
যেভাবেই জিতুন, মেসি যে জিতেছেন, এটা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস সেই প্রশ্নই করেছেন স্কাই ডয়েশলান্ডে, ‘ও এ বছরের বিজয়ী হতেই পারে না। আমার চোখে ও গত ২০ বছরেরই সেরা ফুটবলার, কিন্তু (২০২৩ সালে) ও খেলেছে প্যারিসে আর মায়ামিতে। সেখানে (মায়ামিতে) ও অনেক উন্মাদনা ছড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু কোনো বড় শিরোপা তো জেতেনি।’
বড় শিরোপার কথা এলে ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হলান্ডই এগিয়ে থাকেন। গত মৌসুমে ম্যান সিটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপের পাশপাশি নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগও জিতে গড়েছে ‘ত্রিমুকূট’ জয়ের ইতিহাস। সে পথে গোলের পর গোল করেছেন হলান্ড।
ম্যাথাউসের চোখেও হলান্ডই ছিলেন বর্ষসেরার পুরস্কারের যোগ্য দাবিদার, ‘বড় সাফল্যের দিকে যদি দেখেন, ম্যানচেস্টার সিটিকে ছাপিয়ে আর কোনো দলের দিকে চোখ পড়বে না। আর সেরা খেলোয়াড় – আর্লিং হলান্ড। ম্যান সিটির হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব ট্রফি জিতেছে ও, গোলের পর গোল করেছে। সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনে সেটাই তো বিবেচনায় আসা উচিত, সেই সেরা খেলোয়াড়টি হলো হলান্ড।’