ইয়ুর্গেন ক্লপ গতকাল রাতে ঘোষণা দিয়েছেন, এ মৌসুম শেষে লিভারপুলের ডাগ আউট ছাড়বেন তিনি। অলরেড সমর্থকদের জন্য এটা ছিল বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। ২০১৫ সালে ইংলিশ ক্লাবটির দায়িত্ব নিয়ে লিভারপুলের সমার্থক হয়ে উঠেছেন ক্লপ। সোনালি অতীত খুঁজে বেরানো ক্লাবটিকে তিনি ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন। ইউরোপা বাদে লিভারপুলকে জিতিয়েছেন সম্ভাব্য প্রায় সকল শিরোপা। অথচ ক্লপই কি না এ মৌসুম শেষে লিভারপুল ছেড়ে যাচ্ছেন।
সমর্থকদের জন্য এটা দুঃসংবাদ হলেও প্রতিপক্ষের জন্য নিশ্চয়ই আনন্দের। বিশেষ করে গত কয়েক বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় ইংল্যান্ডে লিভারপুলের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ ম্যানচেস্টার সিটি। গত ছয় মৌসুমের পাঁচবার প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। অন্যদিকে সিটি যেবার হাতছাড়া করেছে, ২০১৯-২০২০ মৌসুমের জিতেছে লিভারপুল। সিটিকে গত কয়েক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। জার্মান কোচের বিদায়ের ঘোষণায় যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন গার্দিওলা। সিটি কোচ গতকাল জানিয়েছেন, ক্লপের কারণে রাতের ঘুম ভালো হয় না তাঁর।
ক্লপের লিভারপুল ছাড়ার ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিটি বস গার্দিওলা। তিনি মজা করে বলেছেন, ক্লপ লিভারপুল ছাড়লে সিটি ও তাঁর জীবন অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। ৫৩ বছর বয়সী এ স্প্যানিশ কোচ মজার ছলে এটাও জানিয়েছেন, পরের মৌসুম থেকে ঘুম ভালো হবে তাঁর।
গতকাল এফএ কাপের ম্যাচে টটেনহামকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ম্যানসিটি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে ক্লপ প্রসঙ্গ। তখন গার্দিওলা মজা করে বলেছেন, ‘আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারব। লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচের আগের রাত গুলো ছিল দুঃস্বপ্নের মতো।’
ক্লপের লিভারপুল ছাড়ার ঘোষণায় খুশি হলেও তাঁর সঙ্গে কৌশলের লড়াই মিস করবেন গার্দিওলা, ‘অবশ্যই তাঁকে (ক্লপকে) মিস করব। এ সংবাদে (লিভারপুল ছাড়ার) অন্য সবার মতো আমিও অবাক হয়েছি। আমার মনে হচ্ছে, ম্যান সিটির একটা অংশ হারিয়ে গেল। তিনি ও লিভারপুল ছাড়া ম্যানসিটির এ সময়টাকে ব্যাখ্যা করা যাবে না। এটা অসম্ভব।’
২০০৮ সালে বার্সেলোনার ডাগ আউট দিয়ে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন গার্দিওলা। কাতালান ক্লাবটিতে ৫ মৌসুম কাটিয়ে পাড়ি জমান বায়ার্ন মিউনিখে। জার্মানিতে তিন মৌসুম কাটিয়ে ২০১৬ সালে চলে আসেন ইংল্যান্ডে। প্রায় দেড় দশকের কোচিং ক্যারিয়ারে অনেক হাইপ্রোফাইল কোচের কৌশলের মোকাবেলা করতে হয়েছে গার্দিওলাকে। কিন্তু সবার চেয়ে ক্লপকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন সিটি কোচ।
পাশাপাশি লিভারপুলকে সিটির সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ মনে করেন গার্দিওলা, ‘তাঁরা (লিভারপুল) আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি (ক্লপ) যখন বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে ছিলেন, আমি ছিলাম বায়ার্ন মিউনিখে। ব্যক্তিগতভাবে তিনি আমাকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন।’
লিভারপুল আর ক্লপ সিটির জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হলেও প্রিমিয়ার লিগ ক্লপের ক্যারিশমা মিস করবে বলে মনে করেন গার্দিওলা, ‘আমার মনে হয়, প্রিমিয়ার লিগ তাঁর ক্যারিশমা মিস করতে যাচ্ছে। বিশেষ করে, তিনি যেভাবে তাঁর দলকে খেলাচ্ছেন। মাঠে লিভারপুলকে ইতিবাচক ফুটবল খেলতে দেখাটা সবসময় ভালো লাগার। তাঁরা প্রত্যেকটা ম্যাচ জিততে চায়। লিভারপুল সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ। আমি তাঁকে শুভকামনা জানাচ্ছি।’
বিদায়ের কারণ প্রসঙ্গে ক্লপ জানিয়েছেন, তিনি বারবার একই কাজ করার শক্তি পাচ্ছেন না। কিন্তু গার্দিওলা মনে করেন, ক্লপ আবারও ডাগ আউটে ফেরত আসবেন, সেটা দশ বছরের মধ্যে, ‘হয়ত তিনি এটা স্বীকার করতে চাইবে না, কিন্তু আমার মনে হয়, তিনি ফেরত আসবেন। আমি এটা জানি। হয়ত দশ বছরের মধ্যে তিনি তাঁর শক্তি ফিরে পাবেন।’
ক্লপকে যে ক্লাবের ডাগ আউটেই ফিরতে হবে, এমনটা নয়। জাতীয় দল দিয়ে হলেও ক্লপের কোচিংয়ে ফেরা উচিত মনে করেন গার্দিওলা, ‘জাতীয় দল হোক বা অন্য কোনো দল, সেটা আমার জানার দরকার নেই। কিন্তু ফুটবলে তাঁর মতো ব্যক্তিত্বের দরকার আছে।’
ক্লপের সঙ্গে দ্বৈরথ থাকলেও একসঙ্গে ডিনারে যাওয়ার আশা করছেন গার্দিওলা, ‘একসঙ্গে ডিনার করার স্বপ্ন দেখি আমি। আশা করছি পরের মৌসুমে সময় বের করে আমরা একসঙ্গে ডিনার অথবা ড্রিংক করতে পারব। এটা আমাদের প্রাপ্য।’