ডাচ ফুটবল অনুসারীদের নামটা চেনা থাকার কথা। খুব বেশিদিন তো আগের কথা নয়, যখন কুইন্সি প্রোমেসের মধ্যে আগামীর তারকা দেখেছিল নেদারল্যান্ডস। এফসি টোয়েন্টেতে আলো ছড়ানোর সময় থেকেই ইউভেন্তুস, ইন্তের মিলানসহ ইউরোপের বড় অনেক ক্লাবের আগ্রহের তালিকায় তাঁর নাম এসে গিয়েছিল, এরপর স্পার্তাক মস্কোতে গিয়ে ভালো খেলার সময়েও।
সেসব পাঁচ-ছয় বছর আগের কথা। প্রতিশ্রুতি অনেক থাকলেও তার কিছুরই পরে আর পূর্ণতা দিতে পারেননি প্রোমেস। বরং আচরণগত ঝামেলায় অন্ধকারেই হারিয়ে গেছেন ডাচ উইঙ্গার।
নতুন করে তিনি আবার খবরের শিরোনামে আসছেন নেতিবাচক এক খবরের কারণেই। সাড়ে ১৩ কোকেন পাচারে জড়িত থাকার দায়ে বর্তমানে ৩২ বছর বয়সী প্রোমেসকে আজ ছয় বছরের জেলের সাজা দিয়েছেন আদালত।
২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে নেদারল্যান্ডসের জার্সিতে ৫০টি ম্যাচ খেলেছেন প্রোমেস। টোয়েন্টে, স্পার্তাক হয়ে স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ায় গেলেও সেখানে খাবি খেয়েছেন, পরে ২০১৯ ফেরেন নেদারল্যান্ডসেরই ক্লাব আয়াক্সে। এই আয়াক্সে থাকার সময়েই তাঁর আচরণগত যত নেতিবাচক দিকের খবর আসতে শুরু করে।
২০২০ সালে প্রোমেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, এক আত্মীয়র সঙ্গে ঝগড়ার এক পর্যায়ে তাঁকে ছুরি মেরেছেন প্রোমেস। এ নিয়ে তদন্ত ও শুনানির পর গত বছর প্রোমেসকে দেড় বছরের জেলের শাস্তি দেওয়া হয়। এর মধ্যে অবশ্য তদন্ত চলার সময়েই একটা কাজ করেছেন প্রোমেস – ২০২১ সালে আয়াক্স ছেড়ে ফেরেন স্পার্তাক মস্কোতে।
ততদিনে প্রোমেসের বিরুদ্ধে কোকেন পাচারের মামলাও চালু হয়ে গিয়েছিল। অভিযোগ ছিল, আন্তোয়ার্প বন্দর দিয়ে সাড়ে ১৩ কেজি কোকেন পাচারের চেষ্টা করেছেন প্রোমেস। ডাচ ফুটবলার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছেন দুই অভিযোগেই, কিন্তু দুটিতেই দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। আজ কোকেন পাচারের মামলায় প্রোমেসকে ছয় বছরের জেলের শাস্তি দিয়েছেন আদালত।
তবু বেঁচে যাবেন?
প্রোমেস মামলার শুনানির পর থেকেই রাশিয়া থেকে আর নেদারল্যান্ডসমুখী হচ্ছেন না। এখন ছয় বছরের জেলের সাজা পাওয়ার পরও তাঁর বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা জাগছে। কারণ, রাশিয়া ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে বন্দী বিনিময় চুক্তি নেই। স্পার্তাক মস্কোর আপত্তি না থাকলে প্রোমেস তাই রুশ সে ক্লাবে খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন।