বার্সা-আতলেতিকো? রেয়াল মাদ্রিদের বড় ভোগান্তির নাম তো ‘রেয়াল মাদ্রিদ’ই  

রেয়াল মাদ্রিদ এরপর থেকে খেলোয়াড় বিক্রি করার সময় একটা নিয়ম বেঁধে দিলেই পারে। তাদের কোনো খেলোয়াড় স্প্যানিশ লিগের অন্য কোনো দলে যেতে পারবে না! এতে খেলোয়াড় বিক্রি করতে একটু বেকায়দায় পড়তে হবে ঠিকই, তবে একটা উটকো ঝামেলা থেকে তো রেহাই পাবে রেয়াল মাদ্রিদ!

উটকো ঝামেলাটা কী? রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে যে তাদেরই সাবেক খেলোয়াড়েরা গোল করে চলেছেন! রায়ো ভায়েকানোর মাঠে আজ এগিয়ে গিয়েও ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট খুইয়েছে রেয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ লিগে শিরোপার লড়াই একেবারে জমজমাট নয়, তবে আজ পয়েন্ট হারিয়ে মাদ্রিদ শিরোপাদৌড়ে কিছুটা দূরত্ব রেখেই মাদ্রিদের পিছু পিছু দৌড়াতে থাকা জিরোনা কিংবা বার্সেলোনায় একটু আশার সঞ্চার করেছে।

তা এই পয়েন্ট হারানোর কারণ? রেয়াল মাদ্রিদেরই সাবেক খেলোয়াড় রাউল দে তমাস। রেয়াল মাদ্রিদের মূল দলে কখনো খেলা হয়নি, তবে মাদ্রিদের একাডেমিতেই বেড়ে ওঠা ২৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের। স্পেন-পর্তুগালে বেনফিকা, এসপানিওলের মতো কয়েকটি ক্লাবে খেলে এখন তাঁর ঠিকানা রায়ো ভায়েকানো। আজ মাদ্রিদের বিপক্ষে রায়োর গোলটিও তিনিই করেছেন!

এই গোলের পর এমন এক রেকর্ড সামনে এল, যা রেয়াল মাদ্রিদকেই রেয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ বলে মনে করাতে পারে। লিগে এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২৫ ম্যাচে মাদ্রিদ গোল খেয়েছে ১৬টি, এর অর্ধেক – অর্থাৎ ৮টিই হয় মাদ্রিদের সাবেক কোনো খেলোয়াড় করেছেন, নতুন মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড়ের আত্মঘাতী গোল! লিগের শিরোপাদৌড় যখন প্রসঙ্গ, বার্সেলোনা-আতলেতিকো মাদ্রিদ কিংবা এই মৌসুমের চমক জিরোনার চেয়েও মাদ্রিদের বড় ভোগান্তি হয়ে তো দেখা দিচ্ছেন মাদ্রিদেরই সাবেক কিংবা বর্তমান খেলোয়াড়েরা!

রায়ো ভায়েকানোও অবশ্য একটা বড় ভোগান্তি হয়ে দেখা দিচ্ছে। লিগে এবার রায়োর বিপক্ষে দুই ম্যাচের কোনোটিই জিততে পারল না মাদ্রিদ, দুটিই হয়েছে ড্র। গত নভেম্বরে ঘরের মাঠে রায়োর সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল মাদ্রিদ, আজ ড্র হলো ১-১ গোলে।  

ম্যাচের দিকে তাকালে অবশ্য একটা তথ্য চমকে দিতে পারে - রেয়াল মাদ্রিদও পেনাল্টিতে গোল খায়!

লিগে এই মৌসুমে লস ব্লাঙ্কোসের গতিপথ স্মরণে থাকলে তথ্যটা চমক হয়েই আসার কথা। এই মৌসুমে তো পেনাল্টিতে গোল না খাওয়া রেয়াল মাদ্রিদের ‘গর্ব’ই হয়ে উঠছিল! ফুটবলের পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট অপ্টা জানাচ্ছে, ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগে (ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, স্প্যানিশ লা লিগা, ইতালিয়ান সিরি আ, জার্মান বুন্দেসলিগা ও ফরাসি লিগ আঁ) এই মৌসুমে আজকের আগ পর্যন্ত পেনাল্টি থেকে কোনো গোল না খাওয়ার কীর্তি ছিল শুধু মাদ্রিদেরই। কিন্তু রাউল দে তমাসের গোল সে রেকর্ডে যতিচিহ্ন টেনে দিল।

৩ মিনিটে হোসেলুর গোলে এগিয়ে যায় মাদ্রিদ। ডানদিক থেকে ফেদে ভালভের্দের দারুণ ক্রসে প্রথম স্পর্শেই বল জালে জড়ান হোসেলু। রেয়াল মাদ্রিদেই বেড়ে ওঠা ৩৩ বছর বয়সী স্প্যানিশ এই স্ট্রাইকার যেন প্রতি ম্যাচেই মাদ্রিদ সমর্থকদের মায়া বাড়িয়ে চলেছেন।  

এর আগে মাদ্রিদের জার্সিতে ২০১১-১২ মৌসুমে শুধু একটা ম্যাচ খেলেছিলেন, এই মৌসুমে করিম বেনজেমা চলে যাওয়ার পর এসপানিওল থেকে তাঁকে ধারে এনেছে মাদ্রিদ। কিন্তু এ নিয়ে লিগে ২৫ ম্যাচেই ৮ গোল করে ফেলেছেন হোসেলু। আগামী মৌসুমে কিলিয়ান এমবাপ্পের সম্ভাব্য আগমণ কিংবা এনদ্রিকের নিশ্চিত আগমণের পর হোসেলুকে হয়তো আর পাকাপাকিভাবে কিনবে না মাদ্রিদ, তবে ক্লাবটার ভক্তদের ভালোবাসায় যে স্প্যানিশ এই স্ট্রাইকার থেকে যাবেন – সেটা এই মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে দিচ্ছে।  

  

তবে শুরুটা দারুণ হলেও মাদ্রিদ আজ এরপর ভালো খেলতে পারেনি। ভায়েকাসের জমাট স্টেডিয়ামে যা চোখ ধাঁধিয়েছে দুপুরের কড়া রোদই, মদরিচ-ভিনিসিয়ুসদের পারফরম্যান্স নয়। ২৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দে তমাসের গোলে সমতায় ফেরে রায়ো। দ্বিতীয়ার্ধে চুয়ামেনির ভুলে মাদ্রিদ বক্সে বল পেয়ে যাওয়া আলভারো গার্সিয়া শট নিতে গিয়ে ভজকট পাকিয়ে না ফেললে হয়তো ভায়েকাস থেকে শূন্য হাতেই ফিরতে হতো মাদ্রিদকে। কার্লো আনচেলত্তির দলের জন্য দিনটাকে আরও তেতো করে ফেলেছে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে প্রতিপক্ষের মুখে ঘুষি মেরে দানি কারভাহালের লাল কার্ড দেখা।

এই ড্রয়ের পরও অবশ্য মাদ্রিদের শিরোপাদৌড় নিয়ে এখনই তেমন দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ২৫ ম্যাচে মাদ্রিদ ৬২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে, দুই নম্বরে থাকা জিরোনা এক ম্যাচ কম খেলে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে (২৪ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট)। বার্সেলোনা এবার শিরোপাদৌড় নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতেই হয়তো অস্বস্তিতে থাকবে, তিন নম্বরে থাকলেও তারা যে ২৫ ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে মাদ্রিদের চেয়ে বেশ পিছিয়ে।