মেসি নিজেই সামনে এসে জানালেন সেদিন আসলে কী হয়েছিল

ঘটনাটা একদিক থেকে ছোটই - ইন্টার মায়ামির হয়ে হংকংয়ে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামেননি লিওনেল মেসি। কিন্তু সেই ঘটনাই এত বড় হয়ে যাবে যে, এর জেরে চীনে আর্জেন্টিনার দুটি প্রীতি ম্যাচই বাতিল করে ফেলবে চীনা কর্তৃপক্ষ, তা কে ভেবেছিল!

এ নিয়ে কদিন ধরেই সমালোচনার মধ্যে আজ চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে মেসি ব্যাখ্যা করেছেন, সেদিন আসলে কী হয়েছিল। ৩৬ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড জানিয়েছেন তাঁর চোটের অবস্থা আসলে তখন কেমন ছিল, কেন তিনি সেদিন খেলেননি – সবকিছুই।

গত ৪ ফেব্রুয়ারির ওই ম্যাচে মেসির মাঠে না নামার কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, মেসির পায়ের পেশিতে চোট ছিল। মাঠে নামলে চোট বেড়ে যেত। মায়ামির কোচ জেরার্দো মার্তিনোও ম্যাচের পর বলেছেন, মেসিকে এক মিনিটের জন্য নামানোর সুযোগ থাকলেও তিনি নামাতেন।

কিন্তু কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করে টিকিট কাটা দর্শক কিংবা মেসিকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার বিপণন-বাণিজ্য করে ফেলা আয়োজকেরা তা মানতে যাবেন কেন! তাঁদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে এর তিনদিন পর জাপানে ইন্টার মায়ামির পরের প্রস্তুতি ম্যাচে যখন মেসি আধা ঘণ্টা খেললেন!

এ নিয়ে সমালোচনার জেরে চীনা কর্তৃপক্ষ আগামী মার্চে আইভরি কোস্ট ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচ দুটি বাতিল করেছে। তাদের সন্দেহ, যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবে খেলেন বলেই মেসিকে সেদিন চীনের মাটিতে নামতে দেওয়া হয়নি!

এসব নিয়ে নানান কথার মধ্যেই আজ ওয়েইবোতে ভিডিওবার্তায় মেসি বলেছেন, ‘হংকংয়ে ওই ম্যাচ নিয়ে অনেক কিছুই শুনেছি, পড়েছি। সে কারণে এই ভিডিওটা রেকর্ড করেছি আপনাদের সত্যি ঘটনাটা জানানোর জন্য, যাতে কাউকে আর মিথ্যা কোনো গল্প পড়তে না হয়।’

তাঁর না খেলার পেছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ নেই জানিয়ে মেসি বলেছেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, আমি সব সময় প্রতিটি ম্যাচই খেলতে চাই। অনেকে বলেছেন, আমি সেদিন রাজনৈতিক কারণে মাঠে নামিনি, আরও অনেক কারণও বলা হয়েছ। সেগুলোর কোনোটিই সত্যি নয়। যদি সেটাই (রাজনীতি) কারণ হতো, তাহলে আমি যতবার চীন বা জাপান গিয়েছি, তার কিছুই তো হতো না।’

চীনে এত বছরে অনেকবার যাওয়া, চীনের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথাও বলেছেন মেসি, ‘ক্যারিয়ারের শুরু থেকে চীনের সঙ্গে আমার দারুণ সুন্দর একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। কত সাক্ষাৎকার, ম্যাচ, অনুষ্ঠান – চীনে কত কিছুই না করেছি আমি। বার্সেলোনা ও জাতীয় দলের হয়েও সেখানে অনেকবার গিয়েছি আমি, অনেক ম্যাচ খেলেছি।’

তাহলে সেদিন কেন খেলেননি? মেসি জানালেন তাঁর চোটের কথা। চোটের আসল অবস্থাটা কী ছিল, সেটি বিস্তারিত বর্ণনা করার চেষ্টা করেছেন ভিডিওবার্তায়, ‘সংবাদ সম্মেলনেও বলেছি, আমার অ্যাডাকটর ফুলে গিয়েছিল, যে কারণে সৌদি আরবে প্রথম ম্যাচটিতেও আমি খেলতে পারিনি। ওই সময়েই চোটটা পেয়েছি। (সৌদি আরবে) দ্বিতীয় ম্যাচে আমি কিছুক্ষণ মাঠে নেমে অবস্থা বুঝতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেটাতে চোটের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।’

সৌদি আরব থেকে ইন্টার মায়ামি হংকংয়ে যাওয়ার পর মেসিদের অনুশীলন দেখতেও হাজারো দর্শকে গ্যালারি পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। সেদিন মেসি অনুশীলন করেছেন। কিন্তু পরের দিন ম্যাচে খেলার মতো অবস্থায় ছিলেন না জানিয়ে মেসি বলেছেন, ‘(হংকংয়ে) ম্যাচের আগের দিন আমি চেষ্টা করেছিলাম অনুশীলন করতে, ম্যাচে খেলার মতো অবস্থায় যেতে। অনুশীলন দেখতে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের (বিনোদনের) জন্যও যতটা সম্ভব করার চেষ্টা করেছি। শিশুদের নিয়ে এরপর তো ফুটবল ক্লিনিকেও গেলাম। কিন্তু এত চেষ্টা করেও ম্যাচে খেলার মতো অবস্থায় যেতে পারলাম না।’

চীনে কেন নামেননি, এরপর জাপানে কেন আধা ঘণ্টার মতো খেলেছেন, সে ব্যাখ্যাও থাকল মেসির বার্তায়, ‘(হংকংয়ে) চোটের জায়গাটাতে অস্বস্তি হচ্ছিল, ঝুঁকি ছিল যে (মাঠে নামলে) এটা আরও বেড়ে যাবে। দু-একদিন পর অবস্থা একটু ভালো হলো, সে কারণে জাপানে কিছুক্ষণ মাঠে নামতে পেরেছি। সেদিন মাঠে নেমেছি কারণ, ফিটনেসের দিক থেকেও কিছুটা এগোনোর ব্যাপার ছিল, যেহেতু সামনে অনেক ম্যাচ আছে।’

শেষে চীনের মানুষের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে, আবারও চীনে সবার সঙ্গে দেখা হওয়ার আশার কথা জানিয়েছেন মেসি। তার আগে শুধু বললেন, ‘যা বললাম এগুলো সবই আগেও বলেছি। কিন্তু যত কথা বলা হচ্ছে, সেসব শুনে মনে হলো, কথাগুলো আরেকবার বলা দরকার।’