ব্রাজিলকে ‘না’ বলে দেওয়ার পর এখন জেলের হুমকিতে, তবু শান্তিতে ঘুমান আনচেলত্তি

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ব্রাজিলের কোচ হবেন কার্লো আনচেলত্তি- ২০২৩ সালের জুলাই থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এমন আলোচনা। রেয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়রাও এ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ডিসেম্বরে আনচেলত্তি মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছেন। নিশ্চিত করেছেন আরও ২ বছর থাকবেন স্পেনে।

কিন্তু এখন তাঁর স্পেনে থাকা অনিরাপদ হয়ে উঠছে। আনচেলত্তির বিরুদ্ধে অপ্রদর্শিত আয়ের জন্য কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এবং এ অভিযোগে প্রায় পাঁচ বছরের জেলের শাস্তি দাবি করেছেন মাদ্রিদের সরকারি কৌঁশুলির কার্যালয়।

আনচেলত্তির বিরুদ্ধে অভিযোগটা মাদ্রিদে তিনি প্রথম দফায় কোচ থাকার সময়কার। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে মাদ্রিদে যাওয়া ইতালিয়ান কোচ সেখানে দুবছর কাটিয়েছিলেন। সে সময়ে মাদ্রিদ থেকে পাওয়া বেতনকে আয়ের বিবরণীতে দেখিয়েছেন আনচেলত্তি, কিন্তু ইমেজ-স্বত্ত্ব থেকে পাওয়া আয় আর হিসাবে দেখাননি বলে অভিযোগ এনেছে মাদ্রিদের রাজস্ব বিভাগ।

এ ব্যাপারে গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তির কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ইতালিয়ান কোচ নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন, ‘না কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছি না। এটা পুরোনো গল্প, ২০১৫ সালের। কৌঁশুলির কার্যালয় আমাকে “রেসিডেন্ট” ভেবে নিয়েছিল, কিন্তু আমি তো তা ছিলাম না। প্রাপ্য টাকাটা কৌশুঁলির কার্যালয়েই আছে। এখন আমার আইনজীবী সমাধান খুঁজবেন। আমার ধারণা, ২০১৫ সালে আমি রেসিডেন্ট ছিলাম না এবং ওদের ধারণা আমি ছিলাম। দেখা যাক, বিচারক কী বলেন।’

এর আগেও স্পেনে ইমেজ-স্বত্ত্বের মামলায় জেল হয়েছিল লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। তবে দুজনই জরিমানা দিয়ে ছাড় পেয়েছেন। আর স্পেনের আইনে দেওয়ানি মামলায় দুই বছরের কম জেলের শাস্তিতে স্থগিত জেলের শাস্তি দেওয়া হয়।

অবশ্য আনচেলত্তি যদি আগামী মৌসুমে ব্রাজিলের দায়িত্ব নিতেন, তাহলে এ নিয়ে আর চিন্তাই করতে হতো না তাঁকে। কিন্তু যেহেতু নতুন চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালে পর্যন্ত মাদ্রিদে থাকতে হবে, এখন এই ঝামেলার একটা মীমাংসা করতেই হবে তাঁকে। কিন্তু একমাত্র কোচ হিসেবে চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী আনচেলত্তি এ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না, ‘আমার ধারণা এ নিয়ে কথা বলার জন্য এটা সেরা স্থান নয়। এটা পুরোনো এক খবর যাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি শান্তিতেই ঘুমাই। আমার একমাত্র সমস্যা হলো দলের ভালো খেলা দরকার।’