প্রত্যাবর্তন কাকে বলে, এটা এই মৌসুমের বায়ার লেভারকুসেনের কাছ থেকেই বোধহয় শেখা উচিত। ইউরোপা লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে কারাবাগের মাঠে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল লেভারকুসেন। সেদিন প্রত্যাবর্তনের গল্প লিগে যোগ করা সময়ে পাত্রিক শিকের গোলে ২-২ সমতায় ম্যাচ শেষ করেছিল শাবি আলোসনোর শিষ্যরা।
ফিরতি লেগ যেন প্রথম লেগের নাটকীয়তাকেও হার মানিয়েছে। বায়ারের ঘরের মাঠ বে অ্যারেনাতে গতকালও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ২ গোলে পিছিয়ে জার্মান দলটি। এবার লেভারকুসেনের হারকে একরকম নিশ্চিত মনে করা হচ্ছিলো। কিন্তু এবারের বুন্দেসলিগাতে রীতিমতো উড়তে থাকা পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল এত সহজে হার মানবে কেন?
দশ জনের কারাবাগের ওপর আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসে লেভারকুসেন। ম্যাচের ৭২ মিনিটে একটি গোল শোধও করেন আলোসনোর শিষ্যরা। কিন্তু তাতেও ৯০ মিনিটের সময়ে ২-১ গোলে পিছিয়ে লেভারকুসেন।
মৌসুমের প্রথম হার যখন চোখ রাঙাচ্ছিল, তখন লেভারকুসেনের ত্রাতা হয়ে আসেন প্রথম সেই শিক। বদলি নামা চেক স্ট্রাইকার যোগ করা সময়ে করে বসেন জোড়া গোল। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে লেভারকুসেন ম্যাচটি জেতে ৩-২ গোল। দুই লেগ মিলে ৫-৪ গোলে ইউরোপা লিগের শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করল আলোসনোর শিষ্যরা। পাশাপাশি সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে ৩৭ ম্যাচ ধরে অপরাজিত থাকল লেভারকুসেন।
ইউরোপা লিগের অন্য ম্যাচে লিভারপুলের মাঠে নেমেছিল স্পার্তা প্রাগ। লেভারকুসেনের প্রত্যাবর্তনের রাতে এ বছর প্রথমবারের মতো একাদশে নেমেছিলেন মোহাম্মদ সালাহ। মিশরীয় তারকার রেকর্ড গোলে বড় জয় পেয়েছে অল রেডরা।
লিভারপুলের শেষ আটে জায়গা পাওয়া নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না। চেক রিপাবলিকের ক্লাব স্পার্তা প্রাগের বিপক্ষে প্রথম লেগে ৫-১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছিল ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা। দ্বিতীয় লেগটি লিভারপুলের জন্য ছিল কেবল নিয়ম রক্ষার। এমন ম্যাচেও ছাড় দেয়নি অলরেডরা। ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে প্রাগকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে লিভারপুল। মোহাম্মদ সালাহর রেকর্ডের রাতে প্রাগকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ক্লপের শিষ্যরা। দুই লেগ মিলে ১১-২ গোলের ব্যবধানে ইউরোপা লিগের শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করত লিভারপুল।
অবশ্য প্রাগের বিপক্ষে ম্যাচটি নিছক নিয়ম রক্ষার বলে মনে হলেও একদিন থেকে প্রস্তুতি নেওয়ারও বলা যেতে পারে। আগামী রোববার এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে লিভারপুর। সে ম্যাচের আগে নিজের ঝালাই করার সেরা সুযোগ আর হবেই-বা কীভাবে?
ইউনাইটেডের বিপক্ষে বড় ম্যাচের আগে লিভারপুলের জন্য আরেকটি স্বস্তির খবর হতে পারে সালাহর একাদশে ফেরা। প্রাগের বিপক্ষে এক গোল করে ও তিন গোলে সহায়তা করে প্রত্যাবর্তনের রাতটিকে রাঙিয়েছেন সালাহ।
ম্যাচের ১০ম মিনিটে গোল পান ৩১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। এ গোলটি দিয়েই রেকর্ড বইয়ে উঠেছে সালাহর নাম। চলটি মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে এটি সালাহর ২০তম গোল। প্রথম ফুটবলার হিসেবে লিভারপুলের জার্সিতে টানা ৭ মৌসুম অন্তত ২০ গোলের কীর্তি গড়লেন তিনি। ম্যাচ শেষে লিভারপুল বস ক্লপের প্রশংসাতেও ভেসেছেন সালাহ। ক্লপ এক বাক্যে জানিয়েছেন, ‘ও দুর্দান্ত একজন খেলোয়াড়।’
গতকাল ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে প্রতিপক্ষকে কোনো পাত্তাই দেয়নি লিভারপুল। শুরু থেকেই প্রাগের ওপর চেপে বসেন ক্লপের শিষ্যরা। ম্যাচের ১৪ মিনিটের মধ্যেই প্রাগের জালে ৪ বার গোলোৎসব করে অল রেডরা।
৭ম মিনিটে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন দারউইন নুনিয়েস। সোবোজলাইয়ের পাস ধরে ডান পায়ের নিখুঁত শটে প্রাগের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন উরুগুয়ের স্ট্রাইকার। পরের মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তরুণ ববি ক্লার্ক। এর দুই মিনিট পরে ক্লার্কের সহায়তায় সালাহ স্কোরলাইন ৩-০ তে নিয়ে যান। ১৪তম মিনিটে গোলেৎসবে যোগ দেন কোদি খাকপো। এবার গোলের উৎস সালাহ।
শুরুতেই চার গোল খেয়ে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন প্রাগের খেলোয়াড়েরা। তবে প্রথমার্ধের শেষদিকে একটি গোল ফিরিয়ে দেন ভেইকো বিরমানসেভিচ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও সালাহর ঝলক। ৪৮তম মিনিটে সালাহর পাস নিয়ে বক্সে ঢুকে ব্যবধান ৫-১-এ নিয়ে যান সোবোজলাই। ছয় মিনিট পরে আরেকবার গোলের খাতায় নাম লেখান খাকপো।