লিওনেল মেসি হ্যামস্ট্রিংয়ে চোটের কারণে দলের বাইরে, ইন্টার মায়ামিও জয়ের মন্ত্র যেন হারিয়ে ফেলেছে। মেসি চোটে পড়ার পর এ পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলেছে, তার দুটিতে হেরেছে, জয় একটি। গত পরশু যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোসহ উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ’ অর্থাৎ, কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপেও হারই জুটেছে মায়ামির ভাগ্যে।
হারটা বড় ধাক্কাই হয়ে এসেছে মেসিদের জন্য। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে নিজেদের মাঠেই মেক্সিকোর মন্তেরেইয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেছে ইন্টার মায়ামি। ম্যাচটা গ্যালারিতে বসেই দেখেছেন মেসি।
তবে ম্যাচের পর মেসি আলোচনায় এসেছেন ভিন্ন কারণে। হারের পর সুয়ারেস, আলবা ও মায়ামি কোচ জেরার্দো মার্তিনোকে নিয়ে রেফারিকে কথা শুনিয়ে এসেছেন মেসি। এরপর প্রতিপক্ষ কোচ তানো অর্তিসের সঙ্গেও লেগে গেছেন!
ইন্টার মায়ামির হয়ে মন্তেরেইয়ের মাঠে দ্বিতীয় লেগে মেসি ফিরতে পারবেন কি না, তা এখনো অজানা। তবে মেসিকে মায়ামির যে দরকার, তা বুঝতে কষ্ট হয় না। মায়ামির মাঠে গিয়ে প্রথম লেগে জিতে যাওয়ায় ‘অ্যাওয়ে গোলে’র নিয়মে এগিয়ে আছে মন্তেরেই, সে কারণে দ্বিতীয় লেগে মায়ামিকে জিততে তো হবেই, অন্তত দুই গোলও করতে হবে।
সেটা পরের ব্যাপার, আপাতত প্রথম লেগের পর মেসি মেজাজ দেখিয়ে শিরোনামে। ফক্স-এর সাংবাদিক ফের্নান্দো শোয়ার্ট জানিয়েছেন, মেসি-সুয়ারেসরা ম্যাচের পর রেফারির কক্ষে গিয়েছিলেন। দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ম্যাচে রেফারি তাদের বিপক্ষেই বারবার বাঁশি বাজিয়েছেন – মেসিদের অভিযোগ এটাই।
আর মন্তেরেই কোচের ওপর খেপলেন কেন? রেফারির বাঁশির সুর যে ম্যাচের আগে মন্তেরেই কোচের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই-ই বেঁধে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে মেসিদের! রেফারির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলার মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলতেই কিনা, অরতিস ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিতে দাবি করেছিলেন, মেসিকে জেতাতেই নাকি রেফারিরা বারবার মায়ামির পক্ষে বাঁশি বাজান!
মন্তেরেই আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে কিছু বলেনি, মায়ামিও নয়। তবে মন্তেরেই কনক্যাকাফের কাছে এ নিয়ে নালিশ করেছে বলে জানা গেছে। তারা কনক্যাকাফের কাছে দ্বিতীয় লেগের আগে মায়ামির শাস্তি চেয়েছে। যদিও ওই ঘটনার কোনো প্রমাণ নেই বলে শাস্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম।