গত ১৩ মার্চ কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে ন্যাশভিলের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। এরপর থেকে মাঠের বাইরে ছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মেসিকে ছাড়া ইন্টার মায়ামিও আটকে যায় ব্যর্থতার বৃত্তে। এ সময়ে চার ম্যাচ খেলে একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি দলটি, উল্টো হেরে গেছে তিন ম্যাচে। জয়ের ধারায় ফিরতে মেসিকে খুব করে চাচ্ছিল মায়ামি।
দলটির সহকারী কোচ হাভিয়ের মোরালেস আগেই বলেছিলেন, মেসিকে ১০-১৫ মিনিটের জন্য হলেও ফেরাতে চান তারা। তবে এত অল্প সময় নয়, আজ মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) কলোরাডো র্যাপিডের বিপক্ষে ম্যাচে মেসি খেললেন ৪৫ মিনিট। দ্বিতীয়ার্ধে নেমে বদলে দিলেন ম্যাচের দৃশ্যপট।
মাঠে নেমে ১২ মিনিটের মধ্যে দারুণ এক গোল করে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া মায়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি। ক্লাবটির পরের গোলেও রাখেন অবদান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রাখতে পারেনি মায়ামি। ম্যাচ শেষ হয়েছে ২-২ গোলের সমতায়। চোট থেকে ফিরে এমন আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও পয়েন্ট হারানো ঠেকাতে না পেরে মেসি ভাবতেই পারেন, এ আমি কাদের সঙ্গে খেলি!
প্রায় মাস খানেক পর ইন্টার মায়ামির স্কোয়াডে ছিলেন মেসি। তবে চোট কাটিয়ে ফেরা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক প্রথমার্ধ কাটান বেঞ্চে বসেই। এমনকি বুসকেতস, জর্দি আলবাকেও শুরুর একাদশে মাঠে নামাননি কোচ জেরার্দো মার্তিনো। আরেক তারকা স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেসও চোটের কারণে খেলতে পারেননি।
অবশ্য দলের সব তারকাকে ছাড়াও প্রথমার্ধে ভালো খেলে মায়ামি। বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগও পেয়েছিল তারা। কিন্তু বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল হজম করে মায়ামি।
পিছিয়ে পড়া দলকে উজ্জীবিত করতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাঠে নামেন মেসি। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় মায়ামি। এর ধারাবাহিকতায় গোলও পেয়ে যায় দলটি। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ফ্রাঙ্কো নেগরির নীচু ক্রসে ডি বক্স লাইনের সামান্য ভেতর থেকে বা পায়ের শটে গোল করেন মেসি। সমতায় ফেরে মায়ামি।
দুই মিনিট পরেই আরেকটি গোলের দেখা পায় দলটি। এ গোলেও ছিল মেসির অবদান। মাঝমাঠে বল পেয়ে কিছুটা এগিয়ে দাভিদ রুইসকে পাস দেন মেসি। সে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ ভাবে বক্সে ঢুকে লিওনার্দো আফোন্সোর দিকে বাড়ান হন্ডুরাস মিডফিল্ডার। সেখান থেকে সরাসরি শটে কলোরাডো গোলকিপারকে পরাস্ত করেন আফোন্সো। শুরুর একাদশে প্রথমবারের মতো জায়গা পেয়েই গোলের স্বাদ পেলেন ২২ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
৭৪ মিনিটে মেসির একটি ফ্রি কিক চলে যায় ক্রসবারের সামান্য বাইরে দিয়ে। চার মিনিট পরে অল্পের জন্য দ্বিতীয় গোলের দেখা পাননি আর্জেন্টাইন তারকা। তবে নির্ধারিত সময়ের ২ মিনিট আগে পাল্টা আক্রমণে গোল খেয়ে বসে মায়ামি। চোট কাটিয়ে মেসির ফেরাটা তাই পূর্ণতা পেল না।
কলোরাডো ম্যাচের পর ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে এমএলএসে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় তিনে আছে মায়ামি। শীর্ষে থাকা নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের চেয়ে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে আছেন মেসিরা। তবে রেড বুলস একটি ম্যাচ কম খেলেছে।