অতলান্তে হারানো দলকে চিনতে পারছেন না লিভারপুল কোচ

২০২৩ সালে এক পাগলাটে ম্যাচ দেখা গিয়েছিল অ্যানফিল্ডে। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচ শুরু হতে না হতেই দুই গোল দিয়েছিল লিভারপুল। কিন্তু মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড লাইনআপ আচমকা নিজেদের সেরা মূর্তিতে আবির্ভূত হন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-করিম বেনজেমাদের জোড়া গোলে সেদিন ৫-২ ব্যবধানে হেরেছিল লিভারপুল।

ফেব্রুয়ারির সে ম্যাচের পর প্রায় ১৪ মাস ঘরের মাঠে অপরাজিত ছিল লিভারপুল। ৩৩ ম্যাচের সে গর্ব কাল চূর্ণ হয়েছে অলরেডদের। ইউরোপা লিগে গতকাল কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে আতালান্তার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে লিভারপুল। প্রথম কোনো দল হিসেবে অ্যানফিল্ডে প্রথম দুই ম্যাচেইজয় পেল আতালান্তা।

এই মৌসুমে সম্ভাব্য তিন শিরোপা জেতার আশায় লড়ছে লিভারপুল। তবে গত এক মাসে ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতা দলটিকে ভালোই ভোগাচ্ছে। লিগে ভালো অবস্থানে থাকা লিভারপুলকে এখন টপকে গেছে আর্সেনাল। এফএ কাপে গোল করতে না পারার দায়ে হেরে গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে। কাল তো ঘরের মাঠের এই সর্বনাশ।

নিজেদের ইতিহাসেই ইউরোপিয়ান মঞ্চে তিন গোলের ব্যবধানে এর আগে দুবার হেরেছে লিভারপুল। একটি ঘটনা তো ১৪ মাস আগের। অন্যটিও মাদ্রিদের বিপক্ষেই, ২০১৪ সালে। এমন পারফরম্যান্সের পর বিদায়ী কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ বলেছেন, দলকে চিনতে কষ্ট হয়েছে তাঁর।

প্রথম ঘন্টায় জিয়ানলুকা সামাচার জোড়া গোলের পর ৮৩ মিনিটে পাসালিচের গোলের এই হারের পর হতাশা লুকাননি ক্লপ, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই ম্যাচ নিয়ে ইতিবাচক কিছুই বলার নেই। আমরা ভালোভাবে শুরু করেছিলাম এবং এরপর তা ধরে রাখিনি। তারা আমাদের রক্ষণ ভেঙ্গে গোল করেছে এবং আমরা নিজেদের হারিয়ে ফেলেছি। মাঝমাঠে আমরা ইতস্তত ঘোরাফেরা করছিলাম। আমি চিনতেই পারছি না (নিজের দলকে)।’

লিভারপুলের হয়ে নিজের শেষ মৌসুমে ইউরোপিয়ান দৌড়টা এখানেই শেষ হয়ে যেতে পারে পারে ক্লপে, যদি না আতালান্তার মাঠে অন্তত ৩ গোলের ব্যবধানে জয় না পায় অলরেড। জার্মান কোচ জানেন কাজটা কত কঠিন, ‘বেরগামো (আতালান্তা) বলতে গেলে উঠেই গেছে (সেমিফাইনালে), কিন্তু দ্বিতীয় লেগ শুরু হলেই ওরা বুঝতে পারবে ওরা এখনো যায়নি এবং আমাদের আরেকটা ম্যাচ খেলতে হবে এবং আমরা আরেকটা সুযোগ পাব।’

তবে সুযগ কাজে লাগানো নিয়েই তো যত সমস্যা। গতকাল আতালান্তার চেয়ে ৮টি শট বেশি নিয়েছে লিভারপুল। কিন্তু গোলে শট নিয়েছে আতালান্তার চেয়ে দুটি কম। নুনিয়েস-সালাহদের এমন পারফরম্যান্স দেখে প্রতিপক্ষের মাঠে অলরেডদের খুব বেশি আশান্বিত হতে দিচ্ছে না। এবং এই ফর্ম বজায় থাকলে ইউরোপিয়ান মঞ্চে অ্যানফিল্ডে ক্লপের শেষ ম্যাচটি রেকর্ডগড়া হার হয়েই থাকবে।