গত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে আচমকা এক ঘোষণায় ইয়ুর্গেন ক্লপ জানিয়ে দেন, মৌসুম শেষে লিভারপুলের ডাগ আউট ছাড়ছেন তিনি। শেষ মৌসুমে তখনও চারটি ট্রফি জেতার সুযোগ ছিল লিভারপুলের সামনে। এরমধ্যে লিগ কাপ জিতে ক্লপের বিদায়ী মৌসুমকে রাঙানোর পথটা একটু পরিষ্কার করে রাখেন মোহাম্মদ সালাহ-নুনিয়েসরা।
তবে গত মাসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হেরে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় ঘণ্টা বাজে লিভারপুলের। তখনও ট্রেবল জেতার আশা ছিল অল রেডদের। এমনকি প্রিমিয়ার লিগে ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচের আগ পর্যন্ত ২ পয়েন্ট ব্যবধানে তালিকার শীর্ষেই ছিল ক্লপের শিষ্যরা।
কিন্তু মৌসুমের শেষটা যত ঘনিয়ে আসছে, কেন জানি আর পেরে উঠছে না লিভারপুল। মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে ইউনাইটেডের সঙ্গে ড্রয়ের পর ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে হেরে এখন লিগের তৃতীয় স্থানে ক্লপের দল। শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান ২। হাতে ছয় ম্যাচ বাকি থাকলেও প্রিমিয়ার লিগ ভাগ্য আর নিজেদের হাতে নেই লিভারপুলের। এমনকি ইউরোপা লিগের আশাও শেষ হয়েছে গতকাল।
ইউরোপের দ্বিতীয় স্তুরের প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শেষ চারে উঠতে হলে গতকাল আতালান্তার বিপক্ষে অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়তে হতো লিভারপুলকে। কেননা প্রথম লেগে অ্যানফিল্ডে এসে লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গেছে পিয়েরো গাসপেরিনির শিষ্যরা। ইউরোপার সেমিফাইনালে যেতে তাই অন্তত চার গোলের ব্যবধানে জেতার বিকল্প ছিল না লিভারপুলের। কিন্তু বেরগামোতে ফিরতি লেগে সেটা করতে পারল না ইংলিশ ক্লাবটি। সালাহর একমাত্র পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে হেরে ইউরোপার শেষ আট থেকে বিদায় ঘণ্টা বাজে লিভারপুলের।
এটি লিভারপুলের ডাগ আউটে ক্লপের নবম মৌসুম। ৫৬ বছর বয়সী জার্মান কোচের ইচ্ছে ছিল, ডাবলিনে আগামী ২২ মে ইউরোপার ফাইনালে শিরোপা উঁচিয়ে ধরে অল রেডদের ডাগআউট ছাড়বেন তিনি। কিন্তু আতালান্তার কাছে হেরে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হচ্ছে। ম্যাচ শেষে ক্লপ বলেছেন, ‘মিশ্র অনুভূতি হচ্ছে। আমরা বাদ পড়েছি। তবে ম্যাচ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। আমাদের সামনে লক্ষ্যটা (প্রথম লেগের জন্য) কঠিন ছিল। ডাবলিনে যাওয়ার আশা করেছিলাম। কিন্তু সেটা ঘটল না। এখন আমাদের সামনে শুধু একটি প্রতিযোগিতা বাকি (প্রিমিয়ার লিগ) আছে। সেখানে আমাদের সবটা উজাড় করে লড়ব।’
আগেই বলা হয়েছে, প্রিমিয়ার লিগের শিরোপাটাও এখন লিভারপুলের নিজেদের হাতে নেই। ৩২ ম্যাচে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তিনে আছে ক্লপের শিষ্যরা। অন্যদিকে শীর্ষ দল সিটি সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট এগিয়ে। লিভারপুলের বাকি থাকা ছয় ম্যাচের চারটিই খেলতে হবে প্রতিপক্ষের মাঠে। তাই কাজটা অলরেডদের জন্য বেজায় কঠিন।
এদিকে মৌসুমের শেষ ভাগে লিভারপুলের হঠাৎ ছন্দপতনের জন্য স্নায়ুচাপকে দায়ী করেছেন দলটির সাবেক মিডফিল্ডার ডন হাচিসন। টিএনটি স্পোর্টসে তিনি বলেছেন, ‘পুরো দলটাই একটা চাপের মধ্যে পড়েছে। তাঁরা ইয়ুর্গেন ক্লপের বিদায়ী মৌসুমকে রাঙাতে গিয়ে বাড়তি চাপ নিয়ে ফেলেছে।’
দেখা যাক, এ চাপ সামলে অন্তত শেষ ট্রফিটি ক্লপকে উপহার দিতে পারেন কিনা সালাহ-নুনিয়েসরা।