দেইভারসন সিলভা - স্প্যানিশ ফুটবলের একনিষ্ঠ অনুরাগী না হলে নামটা আপনার চেনা হওয়ার কথা নয়।
তিনি ব্রাজিলিয়ান, কিন্তু ৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের বর্ণনায় স্প্যানিশ লিগের কথা আসছে কেন? কারণ, ক্যারিয়ারে আলাভেস, লেভান্তে, হেতাফের মতো ক্লাবে খেলেছেন – ওগুলোই যা বলার মতো ক্লাব। তিন ক্লাব মিলিয়ে ৯৭ ম্যাচে গোল করেছেন ১৭টি। এর বাইরে ব্রাজিলের পালমেইরাসে বছর পাঁচেক খেলেছেন, সেখানে ১১১ ম্যাচে গোল করেছেন ২৭টি।
সব মিলিয়ে এই ১৩ বছরের ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত গোলই মাত্র ১০১টি! এখন খেলেন ব্রাজিলের কুইয়াবাতে।
তা হঠাৎ করে এই দেইভারসন সিলভাকে নিয়ে এত আলোচনা কেন? তিনি একটা খোঁচা মেরেছেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েইজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হলান্ডকে। কী সেটা? হলান্ডকে বলেছেন, তাঁর ভিডিও দেখে হলান্ড যাতে গোল করা শেখেন!
সময় যখন বর্ষাকাল, অর্থাৎ, সময় যখন খারাপ যায়, তখন নাকি বাঘকেও গালে হরিণের খামচি খেতে হয়। তার প্রমাণই বুঝি হলান্ডকে দেইভারসনের এই খোঁচা!
গত মৌসুমে ম্যান সিটির ট্রেবল জয়ের পথে গোলের পর গোল করে ইউরোপে-বিশ্বে সবার মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন হলান্ড। তাঁর খেলার ধরণে ফুটবলের নিখাঁদ সৌন্দর্যপ্রেমীদের জন্য তেমন কিছু না থাকতে পারে, তবে হিসেবটা যখন গোলের – হলান্ড সেখানে সব সময়ই প্রাসঙ্গিক। বয়স মাত্র ২৩, এর মধ্যে সালজবুর্গ থেকে ডর্টমুন্ড হয়ে ম্যান সিটির জার্সিতে ইউরোপের গোলের বান ছুটিয়ে চলেছেন। ক্লাব ফুটবলে পেশাদার ক্যারিয়ারে এরই মধ্যে ২৭৫ ম্যাচে তাঁর গোল হয়ে গেছে ২১৮টি!
মেসি-রোনালদোদের পর যাঁদের নিয়ে ফুটবল মাতামাতি করবে বলে ধরা হয়, সে তালিকায় কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহ্যাম, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের পাশাপাশি হলান্ডের নামটাও থাকে।
সে তুলনায় দেইভারসন কে? ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের নাম এর আগে আপনি বড়জোর রেয়াল মাদ্রিদ কিংবা বার্সেলোনার মতো কোনো দলের ম্যাচ রিপোর্টে পড়ে থাকতে পারেন – দুই দলের বিপক্ষেই তাঁর একটি করে গোল আছে কিনা! হলান্ডের উঠতি ক্যারিয়ার, তাঁর পড়তি – অথচ এরই মধ্যে হলান্ডের গোল দেইভারসনের দ্বিগুণ। সেই দেইভারসনই কিনা হলান্ডকে বলছেন গোল করা শেখাবেন!
কারণ? ওই যে, সময় এখন বর্ষাকাল, যেখানে হরিণে খামচায় বাঘের গাল! গত কিছুদিনে সেভাবে গোল পাচ্ছেন না হলান্ড – অন্তত গত মৌসুমের মতো করে তো নয়ই। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দুই লেগেই তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। গোল করতে পারেননি, এমনকি পোস্টের খুব কাছ থেকেও হেড করে বল মেরেছেন গোলকিপারের গায়ে।
এ দেখেই দেইভারসনের মনে হলো, হলান্ডকে একটু খোঁচা মারবেন। ইনস্টাগ্রামে হলান্ডের গোল মিসের মুহূর্তের ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘তোমাকে আমার (গোলের) ভিডিও পাঠাব!’