একটা ম্যাচে যত ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া সম্ভব, গতকাল তার সবগুলোই পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমর্থকেরা। এফএ কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে কভেন্ট্রি সিটির বিপক্ষে ৫৮ মিনিটেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় এরিক টেন হাগের শিষ্যরা।
ইউনাইটেডের জয় তখন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলে হচ্ছিল। কিন্তু দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ঘুরে দাঁড়ায় ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের দলটি।
তিন গোল শোধ করে ম্যাচ নিয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে আবার শেষ মুহূর্তে গোল পেয়েছিল কভেন্ট্রি। কিন্তু অফসাইডে বাতিল হয় সে গোল। ফল নির্ধারণে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকার নামক লটারিতে। সেখানে প্রথম শট মিস করে ইউনাইটেড।
১৯৮৭ সালে এফএ কাপের শিরোপা জেতার পর প্রথমবার টুর্নামেন্টের ফাইনাল হাতছানি দিতে থাকে কভেন্ট্রিকে। কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ পেনাল্টি মিস করা কভেন্ট্রির এবারের রূপকথা থেমে যায় ৪-২ ব্যবধানে হেরে।
ফলে ২৫ মে এফ এ কাপের ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত হয় ইউনাইটেডের। সেখানে তাদের সঙ্গী ম্যানচেস্টার সিটি। টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে চেলসিকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে গার্দিওলার শিষ্যরা।
গতকাল লন্ডনের ওয়েম্বলিতে উপস্থিত প্রায় ৮৪ হাজার দর্শকের সামনে শুরুতে একপাক্ষিক ম্যাচ উপহার দেয় ইউনাইটেড। ম্যাচের ২৩ মিনিটে ইউনাইটেডকে এগিয়ে দেন স্কট ম্যাকটমিনে। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে দারুণ হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হ্যারি ম্যাগুয়ার। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে ইউনাইটেড। ৫৮ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন ব্রুনো ফেরনান্দেস।
কিন্তু ম্যাচের শেষ ভাগের গল্পটা কেবল কভেন্ট্রির। যে গল্পের সূচনা হয় ৭১ মিনিটে এলিট সিমসের গোলের মাধ্যমে। ৮ মিনিট পরে ব্যবধান আরও কমিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন ক্যালাম ও’হেয়ার। ইংলিশ ফরোয়ার্ডের জোরালো শট ওয়ান-বিসাকার গায়ে গেলে আশ্রয় নেয় ইউনাইটেডের জালে। কভেন্ট্রির একের পর এক আক্রমণ সত্ত্বেও ম্যাচের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ৩-২ লিড ধরে রাখতে পারে টেন হাগের দল। কিন্তু যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে পেনাল্টি থেকে স্কোরলাইন ৩-৩ করেন হাজি রাইট।
অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় টাইব্রেকারে যায় ম্যাচ। ইউনাইটেডের হয়ে প্রথম শট নিতে আসা কাসেমিরোর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন কভেন্ট্রি গোলরক্ষক ব্রাডলি কলিনস। অন্যদিকে প্রথম দুই পেনাল্টিতেই গোল পায় কভেন্ট্রি। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শট মিস করে বসে তারা। ও’হেয়ারের দুর্বল শট ঠেকিয়ে দেন ওনানা, বেন শিফের পরের শটটি যায় বারের ওপর দিয়ে।
ক্যাসেমিরোর প্রথম শট মিসের পর পরের চারটি পেনাল্টি থেকেই গোল পায় ইউনাইটেড। এতেই নিশ্চিত হয়ে যায়, এফএ কাপের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ডার্বি হচ্ছে।
এগিয়ে থেকে ম্যাচ কঠিন করেও শেষমেষ ফাইনালে উঠতে পারাকে বড় অর্জন বলে মনে করেন এরিক টেন হাগ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইউনাইটেড কোচ বলেছেন, ‘এটা মিশ্র অনুভূতি। তবে আমাদের অর্জনে আমরা সন্তুষ্ট। ফাইনালে ওঠাটা বিশাল ব্যাপার। ’
দুই বছরে দুবার ফাইনালে ওঠাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে তিনি বলেছেন, ‘সেরা সময়ের ইউনাইটেড এ অর্জন মাত্র তিনবার করতে পেরেছে। আমরা দুই বছরে দুবার করলাম। যদিও আমাদের ফাইনালে জিততে হবে।’
কাজটা যে সহজ হবে না, এটা ভালো করেই জানেন টেন হাগ। সিটিকে বিশ্বের সেরা দল আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা জিততে চাই। ফাইনালে বিশ্বের সেরা দলের বিপক্ষে খেলব, তারপরেও আমি নিশ্চিত, আমাদের জেতার ভালো সম্ভাবনা আছে। পুরো মৌসুমে অনেক উত্থান-পতন ছিল। এফএ কাপ জেতা মানেই এই না যে সফল মৌসুম কাটিয়েছি। আমরা আসলে আরও বেশি জিততে চাই।’