চোট কাটিয়ে ফেরার পর থেকে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন লিওনেল মেসি। ইন্টার মায়ামিও আছে জয়ের ধারাবাহিকতায়। এমন অবস্থাতে বাংলাদেশ সময় আজ সকালে কানাডার সাপুতো স্টেডিয়ামে মন্ট্রিয়ালের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল মায়ামি। পুরো ম্যাচজুড়ে কিছুক্ষণ পরে পরে মেসির নামে স্লোগান ওঠে গ্যালারিতে। দেখে বুঝার উপায় নেই, মায়ামি অন্যের মাঠে খেলতে গেছে।
এমন সমর্থন পেয়েও শুরুতে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ফ্লোরিডার ক্লাবটি। সেখান থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে শেষমেষ ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মায়ামি। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে প্রথমবার মাঠে নেমে কোনো গোলে অবদান রাখতে পারেননি মেসি।
ঘরের মাঠ সাপুতো স্টেডিয়ামে আজ বলের দখল কিংবা আক্রমণ, সব জায়গাতে এগিয়ে ছিল মন্ট্রিয়াল। ম্যাচের ২২ মিনিটে অ্যান্থনি ভিলসেন্টের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মায়ামিকে এগিয়ে দেন ব্রায়েস ডুকে। ১০ মিনিট পরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিলসেন্ট। দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়া মন্ট্রিয়েল তখন মৌসুমে মায়ামির বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় জয়ের ক্ষণ গুনছিল। আগের দেখায় মায়ামিকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল কানাডার ক্লাবটি।
কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে মন্ট্রিয়েলের সেই স্বপ্নে প্রথম আঘাত হানেন মাতিয়াস রোহাস। সর্বশেষ ম্যাচে জোড়া গোল করা রোহাস বিরতির ঠিক আগে মায়ামির হয়ে একটি গোল শোধ করেন। সেটাও আবার দারুণ এক ফ্রি-কিকে। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে ৩০ গজ দূরে ফ্রি-কিক পায় মায়ামি।মেসি সে সময় মাঠের বাইরে থাকায় ফ্রি-কিক নেন রোহাস। ফ্রি কিক থেকে দুর্দান্ত গোলে মন্ট্রিয়ালের জালে বল জড়ান প্যারাগুয়ের এ মিডফিল্ডার।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে স্কোরলাইন ২-২ করেন লুইস সুয়ারেস। কর্নার থেকে মন্ট্রিয়াল ডিফেন্ডারের মাথা হয়ে বল যায় উরুগুয়ে স্ট্রাইকারের সামনে। সেখান থেকে পা লাগিয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন সুয়ারেস। এমএলএসের চলতি মৌসুমে এটি সুয়ারেসের ১১তম গোল। মেসিকে (১০) পেছনে ফেলে সুয়ারেসই এখন এমএলএসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
দ্বিতীয়ার্ধে এগিয়ে যায় মায়ামি। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে রোহাসের পাস থেকে স্কোরলাইন ৩-২ করেন যুক্তরাষ্ট্রের মিডফিল্ডার বেঞ্জামিন ক্রিমাচি। সরাসরি গোল না পেলেও পরোক্ষভাবে এ গোলে অবদান রাখেন মেসি। আর্জেন্টাইন তারকার পাস থেকে বল পেয়েছিলেন রোহাস। সেখান থেকে ক্রিমাচির পা ঘুরে বল আশ্রয় নেয় মন্ট্রিয়ালের জালে। একইসঙ্গে মায়ামিরও পূর্ণাঙ্গ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয়।
এ জয়ে পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখল মায়ামি। এমএলএসের ইন্টার্ন কনফারেন্সে ১৩ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে মেসিরা। এক ম্যাচ কম খেলে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দুইয়ে সিনসিনাটি। অবশ্য ইস্টার্ন-ওয়েস্টার্ন দুই অঞ্চল বিবেচনায় নিলেও সবার ওপরে মায়ামি।