আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথ আরও সহজ করে দিল টাইব্রেকার

এবারের কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনা তুলনামূলক সহজ গ্রুপে পড়েছে। এমনকি লিওনেল মেসিদের ফাইনালে ওঠার পথে তেমন শক্তিশালী কোনো প্রতিপক্ষ নেই। গতকাল ইকুয়েডরকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠেছে লিওনেল স্কালোনির দল। এরপর মেসিরা অপেক্ষায় ছিলেন শেষ চারের প্রতিপক্ষ জানতে।

আজ টেক্সাসে দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডার মুখোমুখি হয়েছিল ভেনেজুয়েলা। এ ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী বুধবার আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় আজকের ম্যাচে এগিয়ে ছিল ভেনেজুয়েলা। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের প্রতিটিতে জিতে নক আউটে এসেছিল ফের্নান্দো বাতিস্তার শিষ্যরা। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের কেবল একটাতে জয় পেয়েছে কানাডা।

সেই কানাডাই আজ ভেনেজুয়েলাকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে। জেসি মার্শের দল সেমিতে ওঠায় আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার রাস্তা আরও সহজ হয়ে গেল। এর আগে গ্রুপ পর্বের দেখায় কানাডাকে ২-০ গোলে হারিয়েছিলেন লিওনেল মেসিরা।

টেক্সাসে আজ পুরো ম্যাচে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়েছে প্রথমবার কোপা আমেরিকা খেলতে আসা দলটি। বল দখলের লড়াইয়ে সামান্য পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণে কানাডাই ছিল এগিয়ে। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুতই। ম্যাচের ১৩ তম মিনিটে জ্যাকব শাফেলবার্গের গোলে এগিয়ে যায় জেসি মার্শের দল।

গোল ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া কানাডা একই গতিতে আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে। প্রতিআক্রমণে ভেনেজুয়েলা তেমন একটা সুবিধা আদায় করতে পারছিল না। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ম্যাচে ফেরে বাতিস্তার দল।

৬৪তম মিনিটে কর্নার পেয়েছিল কানাডা। গোল ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া মার্শের দলের প্রায় সবাই ভেনেজুয়েলার বক্সে চলে এসেছিল। এমনকি কানাডার গোলকিপার ম্যাক্সিম ক্রিপাউও অনেকটা এগিয়ে প্রায় মধ্যমাঠে এসেছিলেন।

কানাডার কর্নার থেকে বল ক্লিয়ার করেন ভেনেজুয়েলা ডিফেন্ডার জন আরামব্রু। মধ্যমাঠে অনেকটা দৌড়ে সে বল নিয়ন্ত্রণে নেন ভেনেজুয়েলা স্ট্রাইকার সালমন রনডন। কানাডা গোলকিপারের এগিয়ে আসার সুযোগ নিয়ে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে শট নেন। কানাডা গোলকিপার দৌড়ের প্রাণপণ চেষ্টা করেও পৌঁছাতে পারেননি। বল আশ্রয় নেয় জালে।

ম্যাচের বাকি সময়ে দুদলই আক্রমণ করলেও আর কোনো গোল হয়নি। এতে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে আরেকদফা নাটক। প্রথম পাঁচ শটে দুদলই দুটি করে গোল মিস করে। ফল বের করতে অতিরিক্ত আরও শটের দরকার হয়। তবে ষষ্ঠ শটেই সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারিত হয়। সেখানে ভেনেজুয়েলার উইকার অ্যাঙ্গেল লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হলেও ঠিকই গোল আদায় করেন কানাডার ইসমাইল কোনে। একইসঙ্গে সেমিফাইনালে ওঠার উদযাপনে মাতে জেসি মার্শের দল।

আগামী বুধবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে কানাডা।