কোপা আমেরিকার দুই ফাইনালিস্ট নির্ধারিত হয়েছে আগেই। বাংলাদেশ সময় আগামী সোমবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এর আগে সেমিফাইনালে কানাডাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে লিওনেল স্কালোনির দল। সে ম্যাচের পর যুক্তরাষ্ট্রের মাঠ ও আবহাওয়া নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এর আগে মাঠ নিয়ে একই অভিযোগ তুলেছিলেন দলটির কোচও।
তবে এসব অভিযোগ ভালোভাবে নেয়নি দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল। কোপার আয়োজক সংস্থাটি এ বিষয়ে পরবর্তীতে কথা না বলার জন্য আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনিকে হুমকি দিয়েছে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছেন উরুগুয়ের কোচ মার্সেলো বিয়েলসা।
বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোরে কোপা আমেরিকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণীর ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে মাঠে নামবে উরুগুয়ে। এ ম্যাচের আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনেই মূলত আর্জেন্টিনাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানান ৬৮ বছর বয়সী এ কোচ।
এর আগে গ্রুপ পর্বে কানাডার বিপক্ষে ম্যাচের পর যুক্তরাষ্ট্রের মাঠ নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি। ম্যাচটি হয়েছিল এনএফএল অ্যারেনাতে। সে ম্যাচের পর স্কালোনি বলেছিলেন, ‘এটা কোনো অযুহাত নয়। স্টেডিয়ামটি সুন্দর এবং যে কৃত্রিম টার্ফ ব্যবহার করেছে, সেটাও দারুণ। কিন্তু এ মাঠটি খেলোয়াড়দের জন্য মানসম্মত ছিল না।’
কানাডার বিপক্ষে সেমিতে আবারও দেখা হয় আর্জেন্টিনার। গ্রুপ পর্বের মতো এ ম্যাচেও ২-০ ব্যবধানের জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা। ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পরে এবার মাঠ নিয়ে অভিযোগ তোলেন মেসি। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেছিলেন, ‘আমরা এ নিয়ে টানা চতুর্থ (ফিনালিসিমাসহ) ফাইনাল খেলব। কথাটা বলা সহজ হলেও পুরো যাত্রা অনেক কঠিন ছিল। খারাপ পিচ, ভারী আবহাওয়া এবং এখানে খেলা বেশ কঠিন।’
মাঠ নিয়ে আর্জেন্টিনার এমন অভিযোগ ভালোভাবে নেয়নি কনমেবল। এরপর মাঠ নিয়ে আর কথা না বলার হুমকিও নাকি দিয়েছে স্কালোনিকে। গতকাল উরুগুয়ে কোচ বিয়েলসা সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘কনমেবল স্কালোনিকে শাসিয়ে বলেছে, “একবার স্টেডিয়াম নিয়ে কথা বলেছ, আর বলবে না। খেলোয়াড়রাও কথা বলতে পারবে না।” সবাইকেই এইভাবে হুমকি দিয়ে রাখা হচ্ছে।’
এ সময় কথা বলতে গিয়ে বিয়েলসাকে ক্ষুব্ধ দেখা যায়। বিয়েলসার সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই উরুগুয়ে-কলম্বিয়া ম্যাচ পরবর্তী ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন আসে। সেদিন কলম্বিয়া দর্শকদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়েছিলেন উরুগুয়ে স্ট্রাইকার দারউইন নুনিয়েস। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষুব্ধ বিয়েলসা বলেন, ‘এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে যে সমস্ত হুমকিগুলো আসতে পারে, সেটা বিবেচনা করেই কথা বলতে হবে। তাই আমি কেবল এতটুকু বলতে পারি, অন্য মানুষ সেখানে থাকলে যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতো, খেলোয়াড়রাও তাই করেছে।’
সেদিন আসলে গ্যালারিতে কী ঘটেছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে বিয়েলসা বলেন, দর্শকেরা উরুগুয়ের ফুটবলারদের পরিবার নিয়ে গালি দিচ্ছিল। বিয়েলসার ভাষায়, ‘আপনি যদি দেখেন, সেখানে ওদের (খেলোয়াড়দের) পরিবার, গার্লফ্রেন্ড, মা, বাচ্চা, স্ত্রীকে নিয়ে গালি দেওয়া হচ্ছিল। আপনি সেখানে থাকলে কী করতেন?’