আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ইউরোর ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও স্পেন। একদিকে সবগুলো ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠে এসেছে স্পেন। টাইব্রেকারও খেলতে হয়নি তাদের। ওদিকে অপরাজিত ছিল ইংল্যান্ডও। প্রথমদিকে ঘুমপাড়ানি ফুটবল খেললেও সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দারুণ খেলেছেন মাইনু-ফোডেনরা।
চলুন দেখে নেওয়া যাক, মাঠের কোন কোন প্রান্তে শিরোপা নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে।
স্পেনের বাম উইং/ ইংল্যান্ডের ডান উইং
এবার ইউরোতে যে ভিন্ন এক স্পেনের দেখা মিলছে, তা দলটির দুই উইংয়ের কারণে। অতিরিক্ত পাস বা বল পজেশন নয়, গতিময় ভার্টিকাল ফুটবল খেলছে স্পেন। দুই প্রান্তে লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের দুর্দান্ত গতি দারুণভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে।
দুই উইং দিয়ে আক্রমণ করলেও স্পেনের আক্রমণ বাম দিক দিয়েই বেশি হচ্ছে। অর্থাৎ নিকো এবং লেফটব্যাকে থাকা মার্ক কুকুরেয়া বেশি আক্রমণ করছেন। এদিকে ইংল্যান্ড ৩-৪-২-১ ফরমেশন নিয়ে মাঠে নামে। রক্ষণের ডান দিকে থাকেন কাইল ওয়াকার। রাইটব্যাকদের মধ্যে বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুততমদের একজন ওয়াকার, বিশেষ করে উইঙ্গার তাঁর চেয়ে এগিয়ে থাকলে ধরে ফেলতে পারেন ওয়াকার।
তাঁর সামনে আছেন বুকায়ো সাকা। এবার দারুণ একটা গোল করলেও রক্ষণে মনোযোগ দিতে হচ্ছে তাঁকেও। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও তাঁর ডিফেন্সিভ কাজ প্রশংসা পেয়েছে। ওদিকে কুকুরেয়ার ডিফেন্সিভ দিকে কিছু ঘাটতি আছে। ফলে সাকার পক্ষে তাঁকে ফাঁকি দিয়ে আক্রমণ করাটা সহজ। এক্ষেত্রে কুকুরেয়াকে সাহায্য করতে হতে পারে উইলিয়ামসকে। এর মানে আক্রমণে ধার কমতে পারে।
ওদিকে ইংল্যান্ডের আক্রমণের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটাই। ওয়াকার এমনিতেও এখন আক্রমণে খুব বেশি সাহায্য করেন না। কিন্তু উইলিয়ামস ও কুকুরেয়ার মতো দুজনকে আটকাতে সাকাও নিচে নামতে হবে। ফলে ডান উইং ঘেঁষে দৌড়ানোর কাজটা কমে যাবে। কারণ ফিল ফোডেন ডান প্রান্তে খেললেও তিনি বক্সের দিকে ঢুকতেই বেশি পছন্দ করেন, উইংয়ে যেতে চান না।
স্পেনের ডান উইং/ ইংল্যান্ডের বাম উইং
লামিন ইয়ামাল আছেন এই দিকে তাঁর পেছনে আজ ফিরবেন দানি কারভাহালও। লামিল উইংয়ে দুটি কাজই করতে পারেন। উইংধরে এগিয়ে গিয়ে মাঠ বড় করতে পারেন, আবার ভেতরে ঢুকে ইনসাইড ফরোয়ার্ড বনে আচমকা শটও নিতে পারেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে চোখ কপালে তোল ওই শটই এর প্রমাণ।
ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত তাদের প্রথম পছন্দের লেফট ব্যাক লুক শকে মূল একাদশে ব্যবহার করতে পারেনি। আজ পূর্ণ সুস্থ হলেও তাঁকে নাও নামাতে পারেন সাউথগেট। কারণ, ওই পজিশনে নামছেন কিয়েরান ট্রিপিয়ার। তিনি ডান পায়ী বলে তাঁর পক্ষে ইয়ামালের ইনসাইড ফরোয়ার্ড হয়ে শট নেওয়া ঠেকানো তুলনামূলক সহজ।
এর ফলে অবশ্য বাঁ উইংব্যাক ব্যবহার করে ইংল্যান্ডের আক্রমণের হার এতে কমে যাবে। এবং এতেও হয়তো স্পেনের আক্রমণের ধার কমবে না। কারণ, ইয়ামাল যদি মাঝে চলে যান এবং ট্রিপিয়ার যদি তাঁকে অনুসরণ করেন, তখন কারভাহাল সামনের খালি জায়গায় সহজেই ওভারলোড করে চলে যেতে পারবেন। এবং এ কাজে কারভাহাল সময়ের সেরাদের একজন। উইং থেকে আসা ক্রস তখন ইংল্যান্ডের জন্য আরেক দুশ্চিন্তার কারণ হবে।
কারভাহাল অবশ্য এমনিতেও একটু নির্ভার থাকবেন। কারণ, এই টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড দলে স্টার্লিং, গ্রিলিশ বা রাশফোর্ড নেই বলে বাঁ প্রান্ত দিয়ে খুব কম আক্রমণ হচ্ছে। ওই দিকে থাকা বেলিংহাম স্বভাবজাত উইঙ্গার নন, বরং অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। ফলে টুর্নামেন্টের ধারা বদলে আজ স্পেন ডান প্রান্ত দিয়ে বেশি আক্রমণ করতে পারে।
মাঝমাঠে রদ্রি
গত দুই মৌসুমে ইউরোপের সেরা মিডফিল্ডার রদ্রি। স্পেন এবারের ইউরোতে অতটা বল দখল রাখার চেষ্টা করছে না। অতিরিক্ত পাস দেওয়ার অভ্যাসও কমিয়ে এনেছে। এর মাঝেও প্রায় ৯৪ ভাগ সফল পাস দিচ্ছেন রদ্রি। এর সঙ্গে ম্যাচপ্রতি ২.৬টি সফল ট্যাকল। সহজে বল হারান না, আবার গায়েগতরে অনেক শক্তিশালী বলে বল কেড়ে নিতে সুবিধা পান। এবং দূর পাল্লার গোল করার রেকর্ডটাও ভালো।
গত ১৭ মাসে তিনি মাঠে ছিলেন, এমন মাত্র দুটি ম্যাচ (টাইব্রেকার ছাড়া) হেরেছে তাঁর দল। দুবারই প্রতিপক্ষ দলে ছিলেন স্কট ম্যাকটমিনে (স্কটল্যান্ড ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)। মাঝমাঠে রদ্রির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণের লড়াইটা এই বক-টু-বক্স মিডফিল্ডারেরই হয়েছে। মাঠে তাঁর নিরন্তর দৌড়ানো, নাছোড়বান্দার মতো বল দখলে চেষ্টা রদ্রির স্বাভাবিক খেলায় বাধা দেয়।
স্কটকে তো পাওয়ার উপায় নেই, তবে ইংল্যান্ডে ইউনাইটেডের মাইনু আছেন। এবং মাইনু ও বেলিংহাম মিলে এ কাজটা ভালোই করতে পারবেন। একদিকে ডেকলান রাইস ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে থাকবেন। মাইনু রাইস ও আক্রমণের মাঝে লিংকআপ করবেন। ওদিকে ফোডেন ও বেলিংহাম ইনসাইড ফরোয়ার্ডের ভূমিকায় রদ্রি যেখানে থাকতে পছন্দ করেন, সেই জায়গাটার দখল নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এ কারণে টুর্নামেন্টে দারুণ খেলা ফাবিয়ান রুইসকে হয়তো একটু হলেও নিচে খেলতে হবে।
হাফ স্পেস
এবার ইউরো দুই দল তাদের স্বাভাবিক ফুটবলের উলটোটা খেলছে। স্পেন পাসের চেয়েও ডিরেক্ট ফুটবল বেশি খেলেছে, ওদিকে ইংল্যান্ডের পাস ও বল দখলের হার বেশি। তবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথমার্ধে সুযোগ পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে হাফ-স্পেস কাজে লাগিয়েছে ইংল্যান্ড। মাইনুর বেজ কাজে লাগিয়ে সাকা-ফোডেন-বেলিংহাম ছড়ি ঘুরিয়েছেন।
ওদিকে স্পেন এবার অনেক বেশি ডিরেক্ট ফুটবল খেলছে, তার মানে এই না যে বল দখলে রাখার অভ্যাস হারিয়ে ফেলেছে তারা। রদ্রি, রুইস, অলমো ও মোরাতা- সবাই বল পায়ে স্বচ্ছন্দ। এবং স্পেস কাজে লাগানোর জন্য ইয়ামাল, অলমো আর উইলিয়ামস তো আছেনই।