কী জেতাননি তিনি আর্জেন্টিনাকে! কাতার বিশ্বকাপ, তার আগে-পরের দুই কোপা আমেরিকা, মাঝে লা ফিনালিসিমা, এরও আগে ২০০৮ সালে অলিম্পিকে সোনা… আর্জেন্টিনার সব শিরোপার পথে নায়ক লিওনেল মেসিই, তবে শুধু ২০২৪ কোপা আমেরিকা বাদে বাকি সব টুর্নামেন্টেরই ফাইনালে গোল করা আনহেল দি মারিয়ার কৃতিত্বও তো কোনো অংশে কম নয়!
সেই দি মারিয়াই নিজ দেশে, নিজ শহরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমনই যে, এই মৌসুমে তাঁর প্রথম ক্লাব রোসারিও সেন্ট্রালে ফেরার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তাঁর পরিবারের সদস্যদের ঘিরে একের পর এক মৃত্যুহুমকির পর এখন ৩৬ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন উইঙ্গার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, রোসারিওতে আর ফিরছেন না!
রোসারিও গত কয়েক বছরে যেন মাদকের সাম্রাজ্য হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি সেখানে নাজুক। এমনই যে, আর্জেন্টাইনদের মনে নায়কের আসন পাওয়া দি মারিয়ার মতো তারকাও নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ছেন।
এর আগেও দি মারিয়ার পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও গুলির পাশাপাশি হুমকি দেওয়া হয়েছিল, দি মারিয়া যাতে রোসারিও সেন্ট্রালে না ফেরেন। সম্প্রতি দি মারিয়া আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকায় ব্যস্ত থাকার সময়েও আবার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনার জার্সিকে বিদায় বলে দেওয়া দি মারিয়া নিজেই জানিয়েছেন, সম্প্রতি তাঁর বোনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে শুকরের মাথার খুলি পাঠানো হয়েছে, শুকরের খুলিতে গুলির আঘাত ছিল। এর সঙ্গে চিঠিতে লেখা হয়েছে, দি মারিয়া রোসারিওতে ফিরলে এর পরের খুলিটি হবে দি মারিয়ার মেয়ে পিয়ার।
আর্জেন্টাইন দৈনিক তে ই সে স্পোর্ত জানাচ্ছে, চিঠির ভাষাটা এমন, ‘তুমি ফিরে এলে এরপরের খুলিটি হবে পিয়ার। মন দিয়ে শোনো, ফিরে এসো না। আমরা শুধু কাগজ ছিটিয়ে যাই না। আমরা গুলি করে মেরে ফেলি।’ এ ঘটনায় এরই মধ্যে রোসারিও সেন্ট্রালের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের দুই সমর্থকদের পুলিশ আটক করেছে বলে জানাচ্ছে তে ই সে স্পোর্ত।
এর আগে গত মার্চেও দি মারিয়ার বাবা যে বাসায় থাকেন – দি মারিয়া আর্জেন্টিনায় গেলে সাধারণত সেখানেই থাকেন – সেই বাসায় রাতের বেলায় একটি গাড়ি থেকে একটি চিঠি ফেলে যাওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল, দি মারিয়া রোসারিওতে ফিরলে তাঁর পরিবারের কাউকে মেরে ফেলা হবে। দি মারিয়ার বাবা ও বোন রোসারিওতেই থাকেন। তাঁর বোন ও বোনজামাইয়ের বাসায়ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দি মারিয়া।
এরই প্রেক্ষিতে গতকাল দি মারিয়া জানিয়েছেন, রোসারিওতে না ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ওই হুমকিগুলো ‘(ফেরার) সব চিন্তা বাদ দিতে বাধ্য করেছে’ বলে জানিয়েছেন। ‘ওই মাসগুলো জঘন্য কেটেছে। (রোসারিওতে ফেরার) স্বপ্নটা ভেস্তে যেতে দেখায় ওখানে (তাঁর ক্লাব বেনফিকার দেশ পর্তুগাল) বসে রাতভর কান্নাকাটি করা আর বসে থাকা ছাড়া কিছু করার ছিল না’ – বলেছেন দি মারিয়া।
বেনফিকার সঙ্গে দি মারিয়ার চুক্তি গত ৩০ জুন শেষ হয়ে গেছে। এরপর রোসারিওতে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও এখন সেটি তো হচ্ছে না, আপাতত খবর, বেনফিকা এ সুযোগে দি মারিয়ার সঙ্গে চুক্তিটা আরেক মৌসুমের জন্য বাড়িয়ে নিতে চায়।
এদিকে দি মারিয়া রোসারিওতে না ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া রোসারিও সেন্ট্রালের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে কটু কথাও বলেছেন। এ নিয়ে দি মারিয়ার কথা, ‘যাঁরা বুঝতে পারছেন না, তাঁরা আসলে একটা সেকেন্ডের জন্য আমার জায়গা থেকে চিন্তাটা করছেন না। নিজেকে অন্য কারও জায়গায় বসিয়ে ভাবার বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে অপমান করা তো খুব সহজ।’