মেসি, নেইমারের পর এমবাপ্পেও নেই, পিএসজি কেমন আছে?

কফি হাউজের আড্ডার পরিণতিই হলো পিএসজির। তারার হাট ভেঙে গেছে। আগের মৌসুমে লিওনেল মেসি আর নেইমার গেলেন ক্লাব ছেড়ে, এই মৌসুমের শুরুতে কিলিয়ান এমবাপ্পে পিএসজিকে কাঁচকলা দেখিয়ে ফ্রি ট্রান্সফারে যোগ দিলেন তাঁর স্বপ্নের ক্লাব রেয়াল মাদ্রিদে। তারকার পেছনেই ছুটতে গিয়ে মেসি-নেইমার-এমবাপ্পেকে ভারসাম্যপূর্ণ দল দিতে না পারা পিএসজি এখন কেমন আছে?

প্রশ্নটা আসছে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের মৌসুম শুরু হচ্ছে বলে। লঁ এখভের বিপক্ষে পিএসজির ম্যাচ দিয়েই আজ রাতে শুরু হচ্ছে ফরাসি লিগ আঁ-র নতুন মৌসুম। স্প্যানিশ লা লিগা তো গতকালই শুরু হয়ে গেছে, আগামীকাল মাঠে নামছে বার্সেলোনা, আগামী পরশু রেয়াল মাদ্রিদ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ফুলহ্যামের ম্যাচ দিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগও যাত্রা শুরু করছে আজ। জেনোয়ার বিপক্ষে ইন্তের মিলানের ম্যাচ দিয়ে ইতালিয়ান সিরি আ শুরু হবে আগামীকাল। জার্মান বুন্দেসলিগাই যা দেরিতে শুরু হচ্ছে, ২৪ আগস্ট প্রথম ম্যাচে নামবে গত মৌসুমের শিরোপাজয়ী লেভারকুসেনের ম্যাচ মনশেনগ্লাডবাখের সঙ্গে।

তা ইউরোপের ক্লাব ফুটবল তো রঙিন হয়ে উঠছে আবার, পিএসজির রঙ কি আর আছে? এমবাপ্পেকে হারানোর পর যে একেবারেই ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য পিএসজি ফ্রন্ট!’

ক্লাব ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৫৬ গোল করা ফরোয়ার্ড, যিনি কিনা তর্কসাপেক্ষে এই মুহুর্তে বিশ্বের সেরা ফুটবলার, তাঁকে হারানোর ধাক্কা পিএসজির পক্ষে সামলানো তো সহজ নয়। তবু এমবাপ্পেকে হারানোর পর পিএসজি অনেক তারকা খেলোয়াড় কিনবে, এমনটাই ধারণা করেছিলেন অনেকে। কিন্তু আদতে হলো কী? দলবদল মৌসুমে এবার পিএসজি টাকা খরচ করেছে বটে, অঙ্কটাও কম নয় – ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে কিনেছে তিন খেলোয়াড়। তবে তাদের খেলোয়াড় কেনা নিয়ে তেমন আলোচনা নেই।

নীরবে তরুণ পর্তুগিজ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস, ফ্রাঙ্কফুর্টের ২২ বছর বয়সী সেন্টারব্যাক উইলিয়াম পাচো আর ক্রাসনোদারের রুশ গোলকিপার মাতভেই সাফোনভকে কিনেছে পিএসজি। এর সঙ্গে গত মৌসুমেই কিনে রাখা তরুণ প্রতিভাবান ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার গাব্রিয়েল মসকার্দো এই মৌসুমে পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন। তারকার পেছনে না ছুটে এবার ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ার চেষ্টাই করছে বলে মনে হচ্ছে। তবে এখনো একজন স্ট্রাইকারের খোঁজ শেষ হয়নি তাদের। চলমান গুঞ্জন, নাপোলির ভিক্তর ওসিমেনকে চায় তারা।

তবে এমবাপ্পেকে হারালেও দলের বাকিদের – মেরুদন্ড যাদের বলা হচ্ছে, সেই উসমান দেম্বেলে, ব্রাডলি বারকোলাদের ধরে রেখেছে পিএসজি। গোল করার মতো স্ট্রাইকার হিসেবে আপাতত রান্দাল কোলো মুয়ানি আর গনসালো রামোসেই ভরসা রাখতে হচ্ছে তাদের।

তরুণ দল গড়ার দিকেই যে এগোচ্ছে পিএসজি, তার আরেকটা প্রমাণ – ৩০ বছর বয়সী সেন্টারব্যাক মারকিনিওসই পিএসজির এই মৌসুমের নিয়মিত একাদশে বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় হওয়ার কথা।

এমবাপ্পের অভাব পূরণ তো সম্ভব নয়, সেটা পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে সংবাদ সম্মেলনে দ্বিধাহীন চিত্তেই ঘোষণা করেছেন। তবে শুধু দলবদলের বাজার নয়, পিএসজি এবার প্রাক মৌসুম প্রস্তুতি ক্যাম্পেও চুপচাপ। যুক্তরাষ্ট্র বা এশিয়ায় জাঁকজমকপূর্ণ কোনো সফরে না গিয়ে পুরোনো ঢংয়ে প্যারিসেই প্রস্তুত হয়েছে এনরিকের দল। কোপা আমেরিকা আর অলিম্পিকে ঠাসা জুন-জুলাইয়ের পর খেলোয়াড়দের বাড়তি সফরের ধকলে ফেলতে চাননি এনরিকে।

পরিকল্পনা হিসেবে দারুণ। মাঠে সেটার প্রভাব কতটা পড়ে, তা-ই দেখার। ফরাসি লিগে শিরোপা জিততে পিএসজির এমবাপ্পেকেও লাগে না। তবে তারকা হারিয়ে দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্র থেকেও সরে গেছে পিএসজি। সব মিলিয়ে ইউরোপে এবারের চুপচাপ পিএসজি কেমন আওয়াজ তুলতে পারে, তা আগ্রহের বিষয়ই হবে।