চোটের কারণে লিওনেল মেসি নেই, আনহেল দি মারিয়াও কোপা আমেরিকা ফাইনালের পর অবসরে গেছেন। তবে মেসি-দি মারিয়ার অভাবটা বুঝতে দিলেন না অ্যালেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টার-হুলিয়ান আলভারেসরা। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চিলির বিপক্ষে ম্যাচে আজ ৩-০ ব্যবধানের জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। লিওনেল স্কালোনির দলের হয়ে গোল তিনটি করেছেন ম্যাকঅ্যালিস্টার, আলভারেস ও পাওলো দিবালা। তিনটি গোলই হয়েছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে।
স্কোরলাইন অবশ্য ম্যাচের প্রতিচ্ছবি সঠিকভাবে বোঝাতে পারছে না। ঘরের মাঠ মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বলের দখল কিংবা আক্রমণে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রায় ৬৫ শতাংশ বলের দখল রাখা আলবিসেলেস্তেরা শট নিয়েছিল ১৬টি। বিপরীতে চিলি শট নিয়েছে মোটে ৫টি।
স্কালোনি আজ ৪-৩-৩ ছকে খেলিয়েছেন আর্জেন্টিনাকে। মার্কোস আকুনিয়া ও ভালেন্তিন বার্কো চোটে থাকায় লেফট ব্যাকে আজ লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে খেলান স্কালোনি। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই সমর্থকদের বুকে কাঁপুনি ধরিয়েছিলেন দে পল। ব্যাক পাস দিতে গিয়ে বল হারিয়ে বসেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। এ যাত্রায় দারুণ এক ট্যাকলে চিলিয়ান মিডফিল্ডার নুনেসকে থামিয়ে দেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি।
পরের মিনিটেই প্রতিআক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্ত থেকে দে পলের ক্রস বক্সের ভেতর বুক দিয়ে নামান লওতারো মার্তিনেস, সেখান থেকে আলভারেসের ভলি পোস্টের ওপর দিয়ে যায়। ম্যাচের ১০ম মিনিটে আর্জেন্টিনার দারুণ একটি দলীয় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় দে পলের দুর্বল শটে। পরের মিনিটে আলভারেসের শট আবারও পোস্টের ওপর দিয়ে যায়।
১৯ মিনিটে দে পল-লওতারো মার্তিনেসের ওয়ান টু ওয়ানে বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন দে পল। এ যাত্রায় চিলিকে রক্ষা করেন দলটির গোলকিপার গ্যাব্রিয়েল আরিয়াস। ২ মিনিট পর আবারও আর্জেন্টিনাকে গোলহীন রাখেন আরিয়াস।
২৬ মিনিটে প্রতিআক্রমণে ওঠে চিলি। তবে দারুণ এক স্লাইডিং ট্যাকলে ভারগাসকে রুখে দেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। এর ৭ মিনিট পরে দে পলের ক্রসে হেড করতে দিয়ে চিলি গোলকিপার আরিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় লওতারো মার্তিনেসের।
প্রথমার্ধের বাকি সময় জুড়ে আর্জেন্টিনা টানা আক্রমণ চালিয়ে গেলেও সেগুলো পরিণতি পায়নি। উল্টো যোগ করা সময়ে প্রায় গোল খেয়ে বসেছিল স্কালোনির দল। ডান প্রান্ত থেকে ইসলার ক্রসে হেড করেছিলেন মাতিয়াস কাতালান। চিলি ডিফেন্ডারের হেড চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছু করার ছিল না এমিলিয়ানো মার্তিনেসের। কিন্তু সেটি দূরের পোস্টে লেগে ফিরে এলে গোলহীন থেকেই বিরতিতে যায় দুদল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে দে পলের ক্রস চিলির বক্সে নিয়ন্ত্রণে নেন আলভারেস। বক্সের ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো আলভারেসের পাস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন ম্যাকঅ্যালিস্টার।
গোল পাওয়ার পর আর্জেন্টিনার আক্রমণ আরও বেড়ে যায়। তবে দ্বিতীয় গোল পেতে আর্জেন্টিনাকে অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দারুণ এক শটে স্কোরলাইন ২-০ করেন আলভারেস। সদ্য আতলেতিকো মাদ্রিদে নাম লেখানো আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের শটটি বারপোস্টে লেগে চিলির জালে আশ্রয় নেয়।
লওতারো মার্তিনেসের বদলি নামা আলেহান্দ্রো গারনাচো নামার পর বাঁপ্রান্ত দিয়ে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। একবার প্রায় গোল পেয়েও গিয়েছিলেন ম্যান ইউনাইটেড তারকা। কিন্তু ওয়ান টু ওয়ানে গারনাচোর প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে ঠেকিয়ে দেন চিলি গোলকিপার।
অবশ্য আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলে জড়িয়ে আছে গারনাচোর নাম। ম্যান ইউনাইটেড তারকার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়েই বক্সের বা প্রান্ত থেকে দারুণ এক শটে চিলির কফিনে শেষ পেরেকটি মারেন দিবালা।
এ জয়ে ৭ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষস্থান পাকাপোক্ত করল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ৭ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার নয়ে আছে চিলি।